ইরানের সঙ্গে সংঘাতের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাড-এর প্রায় ৮০ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার হয়ে গেছে। একই সঙ্গে পেন্টাগনের গোলাবারুদের মজুত ‘বিপজ্জনকভাবে কমে গেছে’ বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন।
সূত্রগুলো জানায়, যুদ্ধ শুরুর আগে যে পরিমাণ থাড ক্ষেপণাস্ত্র ছিল, তার প্রায় পাঁচ ভাগের চার ভাগই এখন ব্যবহার হয়ে গেছে। একই সময়ে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় অর্ধেক ইন্টারসেপ্টরও শেষ হয়েছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ-এর হিসাব অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় ৪৫২টি থাড এবং আধুনিক সংস্করণের প্রায় ২ হাজার ২০০টি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার বিষয়টি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একাধিকবার জানিয়েছিলেন তার শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টারা। এই উদ্বেগই গত সপ্তাহান্তে ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত নতুন হামলা স্থগিত করার অন্যতম কারণ ছিল।
প্রথমে ট্রাম্প বড় ধরনের হামলার অনুমোদন দিলেও পরে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। ওই দেশগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল, হামলা হলে ইরান তাদের জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা আঘাত হানতে পারে।
তবে হামলার পরিকল্পনা পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সূত্রগুলো আরও জানায়, যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র তাদের আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম এবং দীর্ঘপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছে।
এ ছাড়া টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় অর্ধেক মজুতও ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। এর আগে এপ্রিল মাসে সিএনএন জানিয়েছিল, যুদ্ধের শুরুর দিকেই টমাহকের প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যবহার করা হয়েছিল।
সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি মার্কিন মিত্র দেশও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি দেখা দিলে ইরানের সম্ভাব্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার সক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
তবে পেন্টাগন দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কাছে প্রেসিডেন্টের যেকোনো নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত সক্ষমতা রয়েছে।
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী। আমাদের জনগণ ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।’
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলিও দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সব কৌশলগত লক্ষ্য পূরণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে প্রতি মাসে পেন্টাগন মাত্র প্রায় ১৫টি নতুন টমাহক এবং ২০টি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর পাচ্ছে। ফলে যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় থাডের মজুত ফিরিয়ে আনতে তিন বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।
যদিও পেন্টাগন প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে নতুন চুক্তি করেছে, তবু এসব উদ্যোগের বাস্তব ফল পেতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সময়ের আলো/কেএইচ