জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দিন। এটি এ ভূখণ্ডের মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, গৌরব ও বিজয়ের ধারাবাহিকতার প্রতীক। বুধবার (৫ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে এ ভূখণ্ডের মানুষ মুক্তির জন্য ধারাবাহিক সংগ্রাম চালিয়ে এসেছে। তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা, হাজী শরীয়তুল্লাহর ফরায়েজি আন্দোলন, হাবিলদার রজব আলীর বিদ্রোহ ও শেরে বাংলার লাহোর প্রস্তাব সেই সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র অর্জিত হলেও জনগণের প্রত্যাশিত ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর বারবার আঘাত এসেছে এবং একপর্যায়ে দেশ ‘ফ্যাসিবাদের’ কবলে পড়ে। তার ভাষ্য, দীর্ঘদিনের দমন-পীড়নের ধারাবাহিকতায় কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানো হয়। সেই রক্তাক্ত অধ্যায় থেকেই গণপ্রতিরোধের সূচনা হয় এবং ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্টের পরিবর্তন আসে।
নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, শত শত শহীদ ও হাজারো আহত মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে যে বিজয় অর্জিত হয়েছিল, তার প্রত্যাশিত পরিবর্তন এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। রাজনৈতিক নেতৃত্বের অসহযোগিতা ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির কারণে ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিলোপের গণআকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, বিপ্লবের দুই বছর পরও সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরে আসেনি। সরকারের দলীয়করণ, সংস্কারবিরোধী অবস্থান, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণে দেশ আবারও সংকটের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, গণভোটে দেওয়া জনরায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে দ্রুত সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের রাজনীতি পরিহার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে গণতান্ত্রিক সহাবস্থান নিশ্চিত এবং চব্বিশসহ সব গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান তিনি।
পোস্টের শেষাংশে শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম, শহীদ মুগ্ধ, শহীদ রিয়া গোপ, শহীদ হৃদয় তরুয়াসহ সব শহীদের স্মরণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, তাদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় অন্যায়, অবিচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে।
সময়ের আলো/কেএইচ