রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুরের ঘটনার পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। নতুন কমিটি গঠন নিয়ে দলের অভ্যন্তরে চলছে আলোচনা। শিগগিরই নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে, এমন আশায় লবিং শুরু করে দিয়েছেন পদপ্রত্যাশী নেতারা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। এই ঘটনা ছাড়া অন্য কয়েকটি ঘটনায় কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত চলমান ছিল।
এগুলোকে কেন্দ্র করে গত বুধবার রাতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এ ছাড়া বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ জনকে বহিষ্কারের ঘোষণা আসে। রাড্ডার ঘটনায় আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
দলের একাধিক শীর্ষ নেতা বলেন, জাতীয় সংসদ পরবর্তী সময়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে নতুন কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। রাড্ডার ঘটনায় সাংগঠনিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে উত্তরের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই কমিটি দেওয়া হবে। বিএনপিতে তো অনেক যোগ্য নেতা আছেন, তারা কমিটির নেতৃত্বে আসতে চান। যারা দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা পালন করেছেন তাদেরই নেতৃত্ব দেবে বিএনপির হাইকমান্ড। সবার বায়োডাটা রয়েছে হাইকমান্ডের কাছে। সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে দলের বিভিন্ন স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের হাইকমান্ড।
অন্যদিকে নতুন নেতৃত্ব গঠন ঘিরে তৃণমূল পর্যায়ে ‘ত্যাগী-পরীক্ষিত ও যোগ্য’ নেতাদের মূল্যায়নের দাবি উঠেছে। আর ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা বিএনপির আহ্বায়ক মনে করছেন, দলের দুর্দিনে যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তাদেরই নতুন কমিটিতে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। পাশাপাশি ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আলোচনায় যারা : নতুন কমিটিতে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে একাধিক নেতার নাম নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে সদ্য সাবেক আহ্বায়ক ও বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর, সাবেক যুবদল নেতা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান এবং যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সুগার করপোরেশনের চেয়ারম্যান মামুন হাসানের নাম বেশি আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, যুগ্ম আহ্বায়ক এবিএম আব্দুর রাজ্জাক ও কফিল উদ্দিন আহমেদও রয়েছেন আলোচনায়।
দলীয় সূত্র বলছে, রাড্ডার ঘটনায় মহানগর উত্তরের কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ে এবার বেশ সতর্ক বিএনপির হাইকমান্ড। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, তৃণমূলে গ্রহণযোগ্যতা এবং সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হতে পারে।
সদ্য সাবেক আহ্বায়ক আমিনুল হক একই সঙ্গে বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এবং টেকনোক্র্যাট কোটায় সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। দলের হাইকমান্ড তারেক রহমানের ‘গুড বুক’-এ থাকায় নতুন কমিটির নেতৃত্বে আবারও তার থাকার সম্ভাবনা বেশি।
সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা এসএম জাহাঙ্গীর মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি বর্তমানে সংসদ সদস্য। মহানগর উত্তরের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকার কারণে তার নামও আলোচনায় রয়েছে। অতীতে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল এবং ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান এবং যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ সুগার অ্যান্ড ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের চেয়ারম্যান মামুন হাসানের নামও আলোচনায় রয়েছে। তরুণ নেতৃত্ব ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে। তাদের পাশাপাশি মহানগর উত্তরের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবিএম আব্দুর রাজ্জাক ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুনসহ আরও কয়েকজন নেতার নাম নিয়েও আলোচনা চলছে।
মহানগর উত্তরের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবিএম আব্দুর রাজ্জাক সময়ের আলোকে বলেন, আমরা যারা সততার সঙ্গে রাজনীতি করি, মাঠপর্যায়ের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলাম তারাই নেতৃত্বের আসল দাবিদার। মাঠপর্যায়ে যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা নির্ধারণে ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবি জানান তিনি।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সময়ের আলোকে বলেন, কমিটি পুনর্গঠন সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। এই দলে অনেক যোগ্য ও পরীক্ষিত নেতা রয়েছেন, তারা নেতৃত্বে আসতে চান। দলের নীতিনির্ধারণী মহল সবকিছু বিবেচনা করে নেতৃত্ব নির্ধারণ করবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সময়ের আলোকে বলেন, সারা দেশে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে এবং মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো পর্যায়ক্রমে পুনর্গঠন করা হবে। সেখানে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও