সম্প্রতি ভারতে হওয়া তরুণদের আন্দোলন পাল্টে দিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর সব সমীকরণ। বিশেষ করে এই আন্দোলনের পর তরুণদের মন পেতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন কৌশল নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। নিজেদের ক্ষয়ে যাওয়া ইমেজ পুনরুদ্ধারে এখন বিশেষ নজর দিচ্ছে ইনস্টাগ্রামের রিল ও স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিওতে।
একসময়ের নিখুঁত ও মাপা রাজনৈতিক বার্তার পাট চুকিয়ে এখন তাদের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে ইনস্টাগ্রামের রিল এবং শর্ট ভিডিও। মোদি এখন আর কেবল গম্ভীর পোশাকে নয়; বরং বাইক জ্যাকেট, সানগ্লাস পরে র্যাপ গানের তালে কিংবা জনপ্রিয় সিটকম ‘ফ্রেন্ডস’-এর থিম সংয়ের সঙ্গে বেশ স্বতঃস্ফূর্ত মেজাজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরছেন নিজেকে। এমনকি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে সরাসরি ‘হাই, ফ্রেন্ডস’ বলে অনানুষ্ঠানিক বার্তা দেওয়ার প্রবণতাও সেই বদলেরই অংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইনস্টাগ্রাম বা এজাতীয় প্ল্যাটফর্মগুলোর নিজস্ব একটি ভাষা ও কালচার আছে। সেখানে অতিরিক্ত সাজানো-গোছানো রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা বা গুরুগম্ভীর বুলি দর্শকরা সহজে হজম করতে চায় না। মাধ্যমগুলো খোলামেলা ও স্বতঃস্ফূর্ত কনটেন্টকে বেশি প্রাধান্য দেয়। এই মনস্তাত্ত্বিক সমীকরণ বুঝেই বিজেপি তাদের চিরাচরিত এক্স বা ফেসবুককেন্দ্রিক স্থির ছবির প্রচারণা থেকে সরে এসেছে।
শুধু মোদি নন, তার মন্ত্রিসভার মন্ত্রী ও সরকারি দপ্তরগুলোকেও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যেন ভিডিওগুলোতে অতিরিক্ত এডিটিং না করে কিছুটা ‘কাঁচাভাব’ বা স্বাভাবিকতা বজায় রাখা হয়। এমনকি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এখন স্ন্যাপচ্যাটের মতো মাধ্যমে সক্রিয় হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই আমূল পরিবর্তনের মূল নিশানা স্পষ্টতই আসন্ন ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচন। ভারতের জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশের বয়সই এখন তরুণ প্রজন্মের কোটায়, এবং আগামী নির্বাচনে এই ‘জেন-জি’ ভোটাররাই হতে চলেছে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি।
চতুর্থবারের মতো মসনদে বসার স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে হলে এই ৪০ কোটিরও বেশি তরুণ ভোটারের সমর্থন ছাড়া উপায় নেই বিজেপির। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভার্চুয়াল দুনিয়ার পাশাপাশি মুম্বাইয়ের রাস্তায় ‘আমি জেন-জি’ লেখা পোস্টার সাঁটানো কিংবা আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের সরাসরি শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হওয়ার মতো মাঠের উদ্যোগও সমান্তরালে চলছে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, ইন্টারনেট জগতের চতুর ও চটপটে তরুণ প্রজন্ম এই রাজনৈতিক মেকওভার কতটা সহজে মেনে নেবে? অনেক বিশ্লেষকের মতে, রাজনৈতিক এজেন্ডাকে জোর করে রিলের মোড়কে বাঁধলে তা উল্টো তরুণদের উপহাস বা ট্রলের শিকার হতে পারে। রাজপথের বিদ্রোহ সামাল দিতে মোদি ইনস্টাগ্রামের রাজ্যে যে নতুন যুদ্ধের সূচনা করেছে, শেষ পর্যন্ত তাতে জয় কার হবে— সেটির উত্তর দেবে সময়।
সময়ের আলো/জেডি