ইরানে বেকায়দায় সব মার্কিন নেতাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান অবিশ্বাস্য রকম প্রতারণাপূর্ণ আচরণ করছে। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তেহরানের মতো প্রতিপক্ষকে বুঝতে তার

2026-08-07T01:04:01+00:00
2026-08-07T01:04:01+00:00
 
  শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ
ইরানে বেকায়দায় সব মার্কিন নেতাই
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৪ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান অবিশ্বাস্য রকম প্রতারণাপূর্ণ আচরণ করছে। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তেহরানের মতো প্রতিপক্ষকে বুঝতে তার যে কতটা বেগ পেতে হচ্ছে, এটি তারই সর্বশেষ প্রমাণ। প্রতিপক্ষকে মূল্যায়নে এবং তাদের দুর্বলতার সুযোগ নেওয়ার ব্যাপারে নিজেকে ওস্তাদ মনে করেন ট্রাম্প। কিন্তু ইরানের নেতারা তাকে রীতিমতো বোকা বানিয়ে ছেড়েছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তারা (ইরান) কেবল আমাকে রাগিয়েই দেয়।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য সামনে হয়তো আরও হতাশা অপেক্ষা করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি নতুন চুক্তি হয়তো কাছাকাছি, কিন্তু ইরান সেখানে টোল আদায়ের দাবিতে অনড়, যা ট্রাম্প অগ্রহণযোগ্য বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। ইরানের সঙ্গে একটি অনুকূল চুক্তিতে পৌঁছাতে ট্রাম্পের ব্যর্থতা কেবল যুদ্ধক্লান্ত ভোটারদের কাছে তার রাজনৈতিক ক্ষতিই করেনি বরং এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ঘিরে চলমান সংঘাত বিশ্বঅর্থনীতি এবং মার্কিন ভোক্তাদের ক্ষতির মুখে ফেলে তেলের বাজারকেও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

ট্রাম্পই যে প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইরানকে বুঝতে হিমশিম খাচ্ছেন, তা নয়। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে তার পূর্বসূরিদের প্রায় প্রত্যেকেই ইরানের রহস্যময় ক্ষমতার কাঠামো এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের মানসিকতা বোঝার চেষ্টা করেছেন। তাদের বেশিরভাগই ব্যর্থ হয়েছেন; কেউ কেউ তো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

যদিও এর এক বিরল ব্যতিক্রম ছিলেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, যার ২০ মাসের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফসল ছিল ২০১৫ সালের ইরান পরমাণু চুক্তি। ওবামা এটিকে বড় অর্জন মনে করলেও, রিপাবলিকান ও কিছু ডেমোক্র্যাট নেতার সমালোচনা ছিল যে, ইরান মধ্যপন্থার ভান করে তাকে একটি ত্রুটিপূর্ণ চুক্তির ফাঁদে ফেলেছে। তবে কয়েক দশক ধরে ইরানকে নিয়ে কাজ করা সিআইএ-এর সাবেক বিশ্লেষক ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কর্মকর্তা কেনেথ পোলক বলেন, ট্রাম্প হয়তো সেই প্রেসিডেন্ট যিনি ইরানের নেতৃত্বকে সবচেয়ে কম বুঝেছেন।

পোলক আরও বলেন, অনেক দিক থেকেই ইরানকে নিয়ে আমেরিকার হতাশার চূড়ান্ত রূপ হলেন ট্রাম্প। তিনি যেমন ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী ছিলেন, তেমনি তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শক্তিও প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু তিনি দেখেছেন, এর কোনোটিই তাকে তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়নি। 

ট্রাম্প প্রায়ই এমনভাবে কথা বলেন যেন ব্যাপক শক্তি প্রয়োগ করলেই দ্রুত চুক্তি হয়ে যাবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক বিমান হামলায় প্রায় ৪০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, ট্রাম্প ইরানের জনগণকে তাদের সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি তখন এমনও বলেছিলেন যে, এরপর তিনি নিজেই ইরানের পরবর্তী নেতা বেছে নেবেন।

বিমান হামলায় আরও অনেক ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তাও নিহত হন। কিন্তু সেখানে কোনো গণঅভ্যুত্থান ঘটেনি। উল্টো ইরানের কট্টরপন্থি সরকার আরও কঠোর অবস্থান নেয়। মার্চ মাসে তারা খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেয়। মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেন, তিনি তার বাবার চেয়েও বেশি অনমনীয় এবং পারমাণবিক বোমা অর্জনের বিষয়ে আরও বেশি আগ্রহী।

মোজতবা খামেনি অগ্রহণযোগ্য বলে ট্রাম্প প্রকাশ্যে যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ইরান তা স্রেফ উপেক্ষা করেছে। এমনকি ট্রাম্পের সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাবেও সাড়া দেননি নতুন খামেনি। এরপরও ট্রাম্প বড় পরিবর্তনের আশা ছাড়েননি। এপ্রিলের শেষের দিকে তিনি বলেন, ইরান যদি একটি চুক্তি করে, তবে তারা খুব ভালো অবস্থানে যেতে পারে। ইরান মৃত্যু ও আতঙ্কের ওপর নির্ভরশীল কোনো দেশ না হয়ে একটি বৈধ দেশে পরিণত হতে পারে।

ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, হরমুজ প্রণালি এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো বিষয় নিয়ে তারা ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন, যদিও তারা তার মূল দাবিগুলোর অনেকগুলোই প্রত্যাখ্যান করেছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-বিদ্বেষের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থায়, কেউই আমেরিকার সঙ্গে বৃহত্তর কোনো সমঝোতার প্রতি আগ্রহ দেখায় না।

ট্রাম্প কয়েক মাস ধরে ইরানের সঙ্গে যেভাবে দেনদরবার করছেন, তাতে তিনি যে দেশটির সরকারব্যবস্থাকে খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন বলে কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। সংঘাত চলাকালে ট্রাম্প প্রতিনিয়তই খামেনি এবং তার মন্ত্রীদের সম্পর্কে নিজের মূল্যায়ন পরিবর্তন করেছেন। তিনি কখনো তাদের পাগল, কখনো যুক্তিবাদী, কখনো খুব চালাক আবার কখনো পুরোপুরি উন্মাদ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

ট্রাম্প এক অর্থে সেই একই হতাশার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, যা তার পূর্বসূরিদেরও ভুগিয়েছে। ওয়াশিংটনের ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক পরিচালক সুজান ম্যালোনি বলেন, কয়েক দশক ধরেই মার্কিন নীতিনির্ধারকরা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের আদর্শিক প্রতিশ্রুতি এবং গভীরভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়া ক্ষমতার কাঠামোকে ধারাবাহিকভাবে অবমূল্যায়ন করে আসছেন। ম্যালোনি জানান, একটি বড় সমস্যা হলো শীর্ষ ইরানি নেতাদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের সরাসরি যোগাযোগের চরম অভাব। কোনো মার্কিন কর্মকর্তা কখনোই ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ  খোমেনি, সদ্য প্রয়াত আলি খামেনি বা তার ছেলের সঙ্গে দেখা করেননি।

ম্যালোনি আরও বলেন, যুদ্ধ ইরানের ধর্মীয় ও সামরিক নেতৃত্বের ক্ষমতাকে আরও সুসংহত করেছে, যার ফলে কোনো কার্যকর বিকল্প ক্ষমতার কেন্দ্র অবশিষ্ট নেই। ইরানের আধা-গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় (যেখানে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট সর্বোচ্চ নেতার নিরঙ্কুশ ধর্মীয় কর্তৃত্বের অধীনে থাকে) মাঝে মাঝে এমন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এসেছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পক্ষপাতী ছিলেন। কিন্তু ওয়াশিংটন যখনই ওই নেতাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে, তার ফল বেশিরভাগ সময়ই হতাশার হয়েছে।

উভয় দলের প্রেসিডেন্টদের আমলেই কাজ করা মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতির অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব ডেনিস রস বলেন, মনে হয় আমরা তাদের যতটা বুঝি, ইরানিরা আমাদের তার চেয়ে অনেক ভালো বোঝে। ১৯৮০ সালে প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার তেহরানের মার্কিন দূতাবাস থেকে জিম্মি হওয়া ৫২ জন আমেরিকানকে মুক্ত করার লক্ষ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে গোপন আলোচনার অনুমোদন দেন।

কার্টারের ডায়েরি থেকে দেখা যায়, বর্তমান ট্রাম্পের মতোই তিনিও ইরানের রাজনৈতিক কলকাঠি নাড়ানো এবং শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের খুঁটিনাটি নিয়ে মেতে থাকতেন। ১৯৮০ সালের শুরুর দিকে কার্টার ভেবেছিলেন জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে তিনি একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পেরেছেন যার বিনিময়ে ইরানের বাজেয়াপ্ত কোটি কোটি ডলার ফেরত দেওয়া এবং তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার মার্কিন প্রতিশ্রুতি ছিল।

কিন্তু কার্টার সেটিকে একটি তিক্ত হতাশা বলে অভিহিত করেছিলেন যখন খোমেনি এই প্রস্তাব বাতিল করে দেন। এতে মার্কিন কর্মকর্তা এবং খোমেনির নিজের অধস্তনরাও অবাক হয়েছিলেন। কার্টার শেষ পর্যন্ত একটি জিম্মি উদ্ধার অভিযানের নির্দেশ দেন যা ব্যর্থ হয়। পরে তিনি ক্ষমতা ছাড়ার শেষ দিন একটি চুক্তির মাধ্যমে আমেরিকানদের মুক্ত করেন। পাঁচ বছর পর, প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান তার সহকারীদের এক ইরানি অস্ত্র ব্যবসায়ীর বার্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। ওই বার্তায় দাবি করা হয়েছিল, বয়োবৃদ্ধ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের মধ্যপন্থি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী হবেন।

পরে রিগ্যান যাকে কৌশলগত উন্মোচন বলে আখ্যা দিয়েছিলেন, তার অংশ হিসেবে তিনি লেবাননে বন্দি আমেরিকান জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে ইরানের কাছে গোপনে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেন। এটি পরে ইরান-কন্ট্রা কেলেঙ্কারি নামে পরিচিতি পায়, কারণ অস্ত্র বিক্রির এই টাকা কংগ্রেসের অগোচরে নিকারাগুয়ার একটি কট্টর কমিউনিস্ট-বিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠীর (কন্ট্রা) কাছে পাঠানো হয়েছিল।

এই ঘটনা ফাঁস হয়ে গেলে রিগ্যানের প্রেসিডেন্সি ব্যাপক কেলেঙ্কারির মুখে পড়ে। বেশ কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা দোষ স্বীকার করেন বা অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হন; রিগ্যানের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা আত্মহত্যারও চেষ্টা করেন। ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের এই চেষ্টা আসলে একটি মরীচিকা ছাড়া আর কিছুই ছিল না। তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো বন্ধুত্বপূর্ণ ও উদারপন্থি নেতার দেখা মেলেনি। এমনবি সিআইএ বিশ্বাস করত যে অস্ত্র ব্যবসায়ী এই সবকিছুর সূত্রপাত করেছিল, সে একজন প্রতারক ছিল। রিগ্যান মূল ঘটনাগুলো জানার কথা অস্বীকার করে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ক্ষমা চান, তবে ইরানি মধ্যপন্থিদের আকৃষ্ট করার তার মূল লক্ষ্যকে তিনি সমর্থন করেছিলেন।

১৯৯৭ সালে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সামনে একটি বড় সুযোগ আসে, যখন সংস্কারপন্থি প্রার্থী মোহাম্মদ খাতামি ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। খাতামি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্কের আহ্বান জানান এবং এমনকি জিম্মি সংকটের জন্য দুঃখও প্রকাশ করেন। এটি ছিল সত্যিই একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।

ক্লিনটনও এর ইতিবাচক সাড়া দেন। তিনি ইরানি পেস্তা ও কার্পেট আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন এবং ইরানের ঐতিহাসিক কিছু ক্ষোভকে স্বীকৃতি দিয়ে সুর নরম করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেডেলিন অলব্রাইট এমনকি ১৯৫৩ সালে ইরানের প্রধানমন্ত্রীকে (যিনি পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত তেল শিল্প জাতীয়করণ করেছিলেন) উৎখাতে সিআইএ-এর সমর্থনের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমাও চান।

কিন্তু শক্তিশালী কট্টরপন্থিরা খাতামির উদার দৃষ্টিভঙ্গির বিরোধিতা করেন, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই পুনর্মিলন তাদের পশ্চিমাবিরোধী আদর্শের ভিত্তির জন্য বড় হুমকি ছিল। অলব্রাইটের ওই ভাষণের কয়েক দিন পরই আলি খামেনি (যিনি ১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর সর্বোচ্চ নেতা হন) তার কথাগুলো পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেন এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপের যেকোনো সম্ভাবনা নাকচ করে দেন।

কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ করিম সাজাদপুরের মতে, খাতামি পরে ব্যক্তিগতভাবে বলেছিলেন যে খামেনি বিশ্বাস করতেন ইরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি স্থাপন করতে পারবে না। কেবল ওবামাই ইরানের সঙ্গে একটি বড় কূটনৈতিক চুক্তি (২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি) করতে সক্ষম হয়েছিলেন। যেখানে অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহারের বিনিময়ে ১৫ বছরের জন্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়।

ওবামা প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা আশা করেছিলেন যে, আরেকজন মধ্যপন্থি ইরানি নেতা হাসান রুহানির সঙ্গে হওয়া এই চুক্তি হয়তো সম্পর্ক উন্নয়নের প্রথম ধাপ হবে। কিন্তু তা হয়নি। খামেনি চুক্তিতে অনুমোদন দিলেও বিষয়টি আর এগিয়ে নেওয়ার কোনো ইচ্ছা দেখাননি; সমালোচকরা তখন বলেছিলেন, এর মাধ্যমে তাদের সেই সতর্কবার্তাই প্রমাণিত হলো যে রুহানি আসলে খাতামিরই আরেক রূপ হবেন।

যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করা যায় না বলে ইরান যে সন্দেহ করতো, তা শিগগিরই সত্যি প্রমাণিত হয়। ২০১৮ সালে ট্রাম্প পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে আসেন এবং চুক্তির আগের চেয়েও কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেন। এর জবাবে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি আরও ত্বরান্বিত করে, যা শেষ পর্যন্ত গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের শুরু করা যুদ্ধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এক ভয়াবহ সংঘাতের দিকে নিয়ে যায়।

ডেনিস রস বলেন, এরপর থেকে ইরান প্রতিনিয়ত ওয়াশিংটনকে পাশ কাটিয়ে তাদের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকছে। ট্রাম্পের যুদ্ধ শেষ করার স্পষ্ট তাড়াহুড়ো তাদের কাজকে আরও সহজ করে দিয়েছে। রস বলেন, তারা আমাদের এই তাড়াহুড়োকে নিজেদের দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। আমাদের দেখে সবসময় মনে হয় আমরা যেন দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য তাগিদে ভুগছি। তারা এই নীতির ওপর কাজ করে যে, সময় আমাদের চেয়ে তাদের স্বার্থেই বেশি কাজে লাগে।

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   ইরান  যুক্তরাষ্ট্র  মার্কিন  যুদ্ধ  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: