সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরিতার কারণে চুক্তিটিকে সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) মক্কায় স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে অন্য দুই দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর ফলে দেশ তিনটির মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে উঠতে পারে।
চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তিন দেশের ভিন্ন ধরনের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতার সমন্বয়। পাকিস্তানের রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র ও শক্তিশালী সামরিক বাহিনী। তুরস্ক ড্রোন ও আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে সৌদি আরবের রয়েছে বিপুল অর্থনৈতিক শক্তি, জ্বালানি সম্পদ এবং মুসলিম বিশ্বে উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক প্রভাব।
ভারতের উদ্বেগ মূলত পাকিস্তানের সম্ভাব্য কৌশলগত সুবিধা নিয়ে। দিল্লির বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদ যদি সৌদি ও তুরস্কের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে পারে, তাহলে আঞ্চলিক নিরাপত্তায় তার অবস্থান শক্তিশালী হতে পারে।
তবে চুক্তির অর্থ এই নয় যে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত হলে সৌদি আরব ও তুরস্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। এর বাস্তব সামরিক বাধ্যবাধকতা কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো সৌদি আরবের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও জ্বালানি সম্পর্ক বজায় রেখেও পাকিস্তান-তুরস্কের বাড়তে থাকা সামরিক সহযোগিতার মোকাবিলা করা। চুক্তিটি ভবিষ্যতে বৃহত্তর মুসলিম নিরাপত্তা জোটে রূপ নিলে দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যে এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
সময়ের আলো/এমকে