এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ইংরেজি-গণিতে দুর্বলতার খেসারত দিতে হলো শিক্ষার্থীদের। মানবিক বিভাগের ফলে পাসের চেয়ে ফেলের সংখ্যাই বেশি। এ বিভাগ থেকে পরীক্ষা দেওয়া প্রতি ১০০ জনের ৫১ জনই পাসের মুখ দেখেনি। আর এর প্রভাব পড়েছে পুরো পাসের হারেও। দুই দশকের মধ্যে এবারই শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে কম পাস করেছে।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। ২০০৭ সালে এ হার ছিল ৫৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। ২০২৬ সালের এ ফলে মানবিক বিভাগের পরীক্ষার্থীদের দুর্বলতার চিত্র উঠে এসেছে। এ বছর মানবিক থেকে অংশ নিয়ে ৪৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছেন। সেই হিসাবে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৫১ জনের বেশি ফেল করেছেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে পাস করেছেন ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন।
মানবিক বিভাগ থেকে ৬ লাখ ১৭ হাজার ৮৮৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩ লাখ ১ হাজার ১৭৪ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৪৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ৫১ দশমিক ২৬ শতাংশ শিক্ষার্থীই ফেল করেছেন। তবে ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫৮ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮০ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এ বিভাগ থেকে প্রতি ১০০ জনের প্রায় ৮১ জনই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।
এছাড়া ব্যবসায় শিক্ষায়ও পাসের হার তুলনামূলক কম। ২ লাখ ১৯ হাজার ৬৯৬ জন শিক্ষার্থী এ বিভাগ থেকে পরীক্ষায় বসেছেন এবার। এর মধ্যে পাস করেছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ২৪৮ জন। গড় পাসের হার ৬৪ দশমিক ২৯ শতাংশ।
ইংরেজি ও গণিতে দুর্বল থাকায় মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা বেশি ফেল করেছেন বলে মনে করছেন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা। এ কারণে গড় পাসের হার কমেছে বলে জানান তারা। এদিন সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণার সময় এসব মন্তব্য করেন বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যানরা।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, তুলনামূলক ইংরেজি ও গণিতে খারাপ করেছে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এজন্য ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ