রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটের বিষয়ে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধিত হয় নাই, সুতরাং এটা কার্যকর হবে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ ভোট দিতে পারবেন না। ভোট দিলে তাদের সদস্যপদ বাতিল হবে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সভায় জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং হুইপ জি কে গউছ, হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় কায়সার কামাল বলেন, রাষ্ট্র কাঠামোর সর্বক্ষেত্রে ফ্যাসিস্টমুক্ত করতে হবে। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ২০২৬ একটি ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ।
সভায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ২০২৬ অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষ ব্যবহার, যাবতীয় লজিস্টিক সাপোর্ট প্রদান এবং সংসদ-সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণবিষয়ক সভার কার্যবিবরণী প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ নিশ্চিত করা হয়। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ২০২৬ উপলক্ষে যাবতীয় লজিস্টিক সাপোর্ট এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরামর্শ প্রদান করা হয়।
পরে সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ বলেন, বিএনপির দলীয় প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীকে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে দায়িত্ব দিয়েছে দল, তিনি প্রার্থী ঘোষণা করবেন। বিরোধীদল থেকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। এ কারণে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমরা বৈঠক করেছিলাম। তপশিল অনুযায়ী ২০ আগস্ট সংসদ কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
চিফ হুইপ আরও বলেন, ভোটটা হবে সংসদের মধ্যে এবং বুথটা থাকবে— বুথ বলতে এটা বক্স থাকবে সংসদের মধ্যে। সংসদ সদস্যরা তাদের বিভক্তি অনুযায়ী, তাদের আসন নাম্বার অনুযায়ী, জাতীয় নাম্বার অনুযায়ী ভোট দেবেন। ভোট শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে ৩৪৯টি ভোট দেওয়া হলে নির্ধারিত সময়ের আগে ফলাফল তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হবে। আর যদি দেখা যায় একটা ভোট বাকি আছে, তার জন্য আমরা ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করব। ৫টার পরে আমরা ফলাফল ঘোষণা করব।
তিনি বলেন, (ভারপ্রাপ্ত) রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা এবং (ভারপ্রাপ্ত) স্পিকারের ভোট দেওয়ার সময়টি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এরপর ভোট শেষের পর গণনা থেকে শুরু করে ফলাফল হওয়া পর্যন্ত সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য স্পিকারের পরামর্শে একদিনের বৈঠক ডাকবেন সিইসি উল্লেখ করেন চিফ হুইপ। বিএনপির প্রার্থী কবে চূড়ান্ত হবে এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলে আমরা সবাই জানতে পারব। মনোনয়ন ফরম দাখিলের সময়ই আমরা সবাই জানব।
নির্বাচনে বিরোধী দলের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, গণতন্ত্রের জন্য একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন এবং আমরা দেশবাসীকে রাজনৈতিক অবস্থানটাও জানান দিতে চাই। আমাদের যিনি প্রার্থী তাকে আমরা মনে করছি এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অভিভাবকত্ব হিসেবে তিনি সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য হবেন।
তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটা হওয়া উচিত ছিল। যেহেতু গণভোটের রায়ও সংস্কারের পক্ষে এসেছে, তাই ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা যেত। তাহলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আরও বেশি সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য হত।
নাহিদ বলেন, তারপরেও যেহেতু নির্বাচন হচ্ছে, এটাকে বিনা কনটেস্টে এইজন্য দিতে চাই না। আমরা সে কারণে বিরোধীদলের জায়গা থেকে সেখানে প্রার্থী দিয়েছি।
পরে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম দাবি করেন জুলাই সনদ অনুযায়ীও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় বিদ্যমান ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে।
চিফ হুইপ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আমরা আজ সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং গণতান্ত্রিক যাত্রা অব্যাহত রাখার জন্য এবং গণতন্ত্রকে বাস্তবায়নের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য। আমরা এরকম একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে আমরা যেতে চাই এবং স্বচ্ছ একটা প্রক্রিয়া, যাতে এদেশের মানুষ ভবিষ্যতে নির্বাচনমুখী হয়।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ