২৩তম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান

2026-08-11T17:27:51+00:00
2026-08-11T17:32:29+00:00
 
  বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬,
২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
২৩তম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২৭ পিএম  আপডেট: ১১.০৮.২০২৬ ৫:৩২ পিএম
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি : সংগৃহীত
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী বুধবার দলীয়ভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

সোমবার (১১ আগস্ট) বিএনপির মিডিয়া সেল ও সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য সময়ের আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, নির্বাচন কমিশন থেকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বিএনপি। এবং রাষ্ট্রপতি পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী করা হয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে রোববার থেকে মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনায় ৬ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় এবার জাতীয় সংসদে ভোটাভুটির মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। ১৯৯১ সালের পর দেশে একাধিকবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও কোনোবারই ভোটের প্রয়োজন হয়নি। প্রতিবারই একজন প্রার্থী থাকায় তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তবে এবার একাধিক প্রার্থী থাকায় সংসদ সদস্যদের ভোটেই নির্ধারিত হবেন রাষ্ট্রপতি। ১৯৯১ সালে বিরোধী দল আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপতি পদে বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে প্রার্থী করেছিল। সেই নির্বাচনে সরকারি দল বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

বর্তমান সংসদে জামায়াত জোটের সদস্য (এমপি) ৯০ জন। ৩৪৯ আসনের সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ স্বতন্ত্র এমপি ৮ জন। ইসলামী আন্দোলন, বিজেপি, গণ অধিকার পরিষদ এবং গণসংহতি আন্দোলনের একজন করে এমপি রয়েছেন। বাকি ২৪৭ জন এমপি বিএনপির। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ের জন্য প্রয়োজন ১৭৫ ভোট। ফলে বিএনপি প্রার্থীর জয় নিশ্চিত। অর্থাৎ নিশ্চিত পরাজয় জেনে ১১ দলীয় ঐক্যজোট এ পদে প্রার্থী দিল।

এ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্যের জন্য এটা (রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া) দায়িত্ব হিসেবে আমরা নিয়েছি। আমরা মনে করি যে সর্বক্ষেত্রে রাজনীতি স্বচ্ছ হওয়া উচিত, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হওয়া উচিত। তাহলে গণতন্ত্রের গতি ফিরে আসবে।’

এদিকে, গত ১ আগস্ট গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির এক বৈঠক হয়। সেখানে দীর্ঘ আলোচনার পর রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যানের ওপর ন্যস্ত করেছে স্থায়ী কমিটি।

অন্যদিকে, গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কার্যালয় থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এই দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। তবে তারা কার জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদে একই ব্যক্তির নামে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার বিধান আছে। কারণ একটি মনোনয়নপত্রে কোনো ভুল-ত্রুটি থাকলে যাতে অন্যটি বিবেচনায় নেওয়া যায়। সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নির্বাচনের সময়ও এমনটা করা হয়েছিল।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম দিনভর আলোচনায় ছিল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমরা স্থায়ী কমিটির সভায় রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যানের ওপর ছেড়ে দিয়েছি।’

উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রয়েছে বর্ণাঢ্য পারিবারিক ইতিহাস। তার বাবা মরহুম রুহুল আমিন (চখা মিয়া) ছিলেন কৃষি প্রতিমন্ত্রী। তার বড় চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ১৯৭৮ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রী এবং ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১-৯৬ সাল পর্যন্ত আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন।


সময়ের আলো/কেআই


  বিষয়:   ২৩তম রাষ্ট্রপতি  মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: