ভারতের ই-ভিসা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। ই-ভিসাধারীদের জন্য নতুন করে ১১টি আন্তর্জাতিক প্রবেশপথ অনুমোদন করেছে দেশটির সরকার। এর মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তবর্তী ডাউকি, হরিদাসপুর ও গেদে স্থলবন্দরও রয়েছে। নতুন প্রবেশপথগুলো যুক্ত হওয়ায় এখন মোট ৮৮টি নির্ধারিত অভিবাসন চৌকি ব্যবহার করে ই-ভিসাধারীরা ভারতে প্রবেশ করতে পারবেন।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিমালয়ের তুষারঢাকা পাহাড়, রাজস্থানের রাজপ্রাসাদ, কেরালার নৌপথ কিংবা গোয়ার সমুদ্রসৈকত— প্রতিবছর এসব আকর্ষণে ভিড় করেন বিপুলসংখ্যক পর্যটক। তবে বিদেশিদের জন্য ভারত ভ্রমণের প্রস্তুতি শুরু হয় বিমানে ওঠার অনেক আগেই, ভিসার আবেদন করার মধ্য দিয়ে।
বিদেশিদের ভ্রমণপ্রক্রিয়া আরও সহজ ও সবার কাছে সুবিধাজনক করতে ২০১৪ সালে ভারত ই-ভিসা ব্যবস্থা চালু করে। সময়ের সঙ্গে এই ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। বর্তমানে ১৭২টি দেশের নাগরিক ভারতের ই-ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। সম্প্রতি ই-ভিসাধারীদের প্রবেশের জন্য অনুমোদিত পথের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। ফলে ই-ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশের প্রক্রিয়া আগের তুলনায় আরও সহজ হয়েছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ই-ভিসাধারীরা এখন অতিরিক্ত ১১টি আন্তর্জাতিক বন্দরের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশ করতে পারবেন। এর মধ্যে দুটি বিমানবন্দর এবং নয়টি স্থলবন্দর রয়েছে। নতুন যুক্ত হওয়া স্থলবন্দরগুলোর তালিকায় ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের পাঞ্জাবের আত্তারি সীমান্তও রয়েছে।
নতুন যুক্ত হওয়া ৯টি স্থলবন্দর হলো— আগরতলা, দাররাঙ্গা, গেদে, ঘোষাডাঙ্গা, হরিদাসপুর, জয়গাঁও, ডাউকি, মোরেহ এবং আত্তারি (সড়কপথে)। আর নতুন দুটি বিমানবন্দর হলো ভোপাল ও তিরুপতি। এর ফলে ই-ভিসাধারীদের জন্য ভারতে প্রবেশের মোট নির্ধারিত অভিবাসন চৌকির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৮টিতে। এর মধ্যে ৩৭টি বিমানবন্দর, ৩৮টি সমুদ্রবন্দর এবং ১৩টি স্থলবন্দর রয়েছে।
ই-ভিসা ব্যবস্থার মাধ্যমে যোগ্য বিদেশি নাগরিকরা অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও অনলাইনে জমা দেওয়া যায় এবং ভ্রমণের আগে ই-মেইলের মাধ্যমে ভ্রমণের অনুমোদন পাওয়া যায়।
ভারতের ই-ভিসা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে দেওয়া হয়। এগুলো হলো—ই-ট্যুরিস্ট ভিসা, ই-বিজনেস ভিসা, ই-মেডিকেল ভিসা, ই-মেডিকেল অ্যাটেনডেন্ট ভিসা, ই-স্টুডেন্ট ভিসা, ই-ফ্যামিলি ভিসা, ই-ট্রানজিট ভিসা এবং ই-মিসেলেনিয়াস ভিসা।
যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ আরও বহু দেশের নাগরিক ভারতের ই-ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। কোন কোন দেশের নাগরিক এই সুবিধার আওতায় রয়েছেন, তার পূর্ণ তালিকা ভারতের সরকারি ই-ভিসা পোর্টালে দেওয়া আছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, পর্যটন, বিনোদন ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন, বন্ধু ও আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করা, স্বল্পমেয়াদি যোগব্যায়াম কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এবং সংগীত, স্থানীয় ভাষা, নাচ, চারুকলা, হস্তশিল্প ও রান্নার মতো বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক স্বল্পমেয়াদি কোর্স করার উদ্দেশ্যে ই-ভিসার আবেদন করা যায়। এ ছাড়া কোনও পারিশ্রমিক ছাড়াই সর্বোচ্চ এক মাসের স্বল্পমেয়াদি স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ, চিকিৎসা গ্রহণ, ই-মেডিকেল ভিসাধারীর সঙ্গে থাকা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং সম্মেলন, সেমিনার ও কর্মশালায় অংশ নেওয়ার জন্যও ই-ভিসা নেওয়া যায়।
ই-ভিসার যোগ্যতার শর্ত
ই-ভিসার জন্য আবেদন করার আগে ভ্রমণকারীদের কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদনের তারিখ থেকে পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস থাকতে হবে। পাশাপাশি ফেরত যাওয়ার অথবা পরবর্তী গন্তব্যের টিকিট থাকতে হবে এবং ভারতে অবস্থানের জন্য পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান থাকতে হবে।
এ ছাড়া প্রত্যেক ভ্রমণকারীর নিজস্ব আলাদা পাসপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক। কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীরা ই-ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন না। পাকিস্তানি পাসপোর্টধারী এবং পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের ভারতের কোনো মিশনের মাধ্যমে নিয়মিত ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ