মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে সংঘর্ষে সাত মার্কিন সেনা নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সামরিক সূত্রের বরাতে ইরানি সংবাদমাধ্যম এ দাবি করেছে।
তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আব্রাহাম লিংকনে অবস্থানরত সেনাদের ক্রমবর্ধমান অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান ব্র্যাড কুপারের একজন উপদেষ্টা সেখানে গেলে ঘটনার সূত্রপাত হয়। রণতরীটির দীর্ঘ মোতায়েনের প্রতিবাদে সম্প্রতি সেনাদের পরিবারগুলো ক্ষোভ জানানোর করার পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই উপদেষ্টা সেনাদের একটি সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় কেউ কেউ তাকে লক্ষ্য করে ভুয়া ধ্বনি দেয় এবং পানির বোতল ছুড়ে মারে।
সূত্রের দাবি, এই সংঘাত পরবর্তীতে সেনাসদস্যদের মধ্যে হাতাহাতি এবং ছুরি ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্রের ব্যবহারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে সাতজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রণতরীটির ভেতরে এখন অত্যন্ত থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
প্রসঙ্গত, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন টানা ২৬৩ দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে এটি ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে। সেখানে এর মূল মিশন হলো- ইরানের বিরুদ্ধে ঘোষিত নৌ অবরোধ কার্যকর করা।
গত জুলাইয়ে ওমানে সংক্ষিপ্ত যাত্রা বিরতি ছাড়া এই রণতরীটি টানা ২০৮ দিন সমুদ্রে অতিবাহিত করেছে। এটি আধুনিক যুগে যেকোনও মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর জন্য দীর্ঘতম নিরবচ্ছিন্ন মোতায়েনের রেকর্ড।
রণতরীটিতে অবস্থানরত প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সেনার জীবনযাত্রার মান এবং কাজের পরিবেশ নিয়ে ক্রমেই উদ্বেগ বাড়ছে। এর মধ্যেই অভ্যন্তরীণ সহিংসতায় এমন প্রাণহানির খবর এল।
সেনাসদস্যরা অপ্রতুল খাবার সরবরাহের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, তাদের খাবার বরাদ্দ কমিয়ে দিনে মাত্র আধা কাপ চাল এবং দুই টুকরো মাংসে নামিয়ে আনা হয়েছে। রণতরীটির লন্ড্রি পরিষেবা গত দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে। আর গোসলখানার ছত্রাক (মোল্ড) থেকে সেনাসদস্যদের মধ্যে ফাঙ্গাল ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়েছে।
সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্য, মারাত্মক ক্লান্তি এবং দীর্ঘ মোতায়েনের ফলে তাদের ওপর সৃষ্ট অতিরিক্ত চাপ নিয়ে পরিবারগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
গত বৃহস্পতিবার সান দিয়েগোতে আয়োজিত এক সভায় প্রায় ২০০ জন সেনাসদস্যের স্বজন ভারপ্রাপ্ত মার্কিন নৌসচিব হাং কাও-এর মুখোমুখি হন। এ সময় তারা রণতরীর সার্বিক পরিবেশ এবং সেনাদের দেশে ফেরার সুনির্দিষ্ট কোনও তারিখ না থাকা নিয়ে কড়া ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ