যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরের সময়টিকে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছেন কয়েকজন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা। তাদের আশঙ্কা, ভোট গণনা চলাকালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বা তার মিত্ররা ফল নিয়ে সন্দেহ তৈরি কিংবা গণনা প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করতে পারেন। দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে এ সতর্কতার কথা উঠে এসেছে।
২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের এক-তৃতীয়াংশ আসনের জন্য ভোট হবে।
কেন ভোট গণনার সময়টি গুরুত্বপূর্ণ?
যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনা একই গতিতে শেষ হয় না। কোথাও নির্বাচনের রাতেই ফলের চিত্র স্পষ্ট হয়ে যায়, আবার কিছু অঙ্গরাজ্যে ডাকযোগে আসা ব্যালটসহ বিভিন্ন ভোট গণনা করতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই সময়ের ব্যবধানকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনের ফল নিয়ে বিভ্রান্তি বা সন্দেহ তৈরি করা হতে পারে। বিশেষ করে কোনো গুরুত্বপূর্ণ আসনের ফল দেরিতে এলে সেটিকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ থাকে।
সাবেক ডেপুটি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি উপদেষ্টা কেইটলিন ডারকোভিচ সতর্ক করে বলেছেন, ভোট গণনার সময় বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ সামনে এনে ভোটের যন্ত্র বা ব্যালট জব্দের মতো পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। তার মতে, ফল চূড়ান্ত হওয়ার আগের এই সময়টিই সন্দেহ তৈরির সুযোগ তৈরি করে।
ভোট নিয়ে আস্থার সংকট
ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের নির্বাচন ও সরকারবিষয়ক কর্মসূচির ভাইস প্রেসিডেন্ট ল্যারি নর্ডেন মনে করেন, ভোট গণনায় সময় লাগলেই সেটিকে অনিয়মের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই নির্বাচন কর্মকর্তারা ভোট গণনার নিয়ম ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভোটারদের আগে থেকেই জানাচ্ছেন।
২০২০ সালের নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য নির্বাচন নিরাপত্তা ও ফল নিরীক্ষার ব্যবস্থাও জোরদার করেছে। তবে সাবেক সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তা জিওফ হেলসের দাবি, ফেডারেল পর্যায়ে নির্বাচন নিরাপত্তায় সহায়তা ও অর্থায়ন কমে যাওয়ায় অঙ্গরাজ্যগুলোর নির্বাচন কর্মকর্তারা আগের তুলনায় কম কারিগরি সহায়তা পাচ্ছেন।
ডাকযোগে ভোট নিয়েও বিরোধ
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডাকযোগে ভোটের নিয়ম নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসন ও আদালতের মধ্যে আইনি বিরোধ হয়েছে। ডাকযোগে ব্যালট বিতরণে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়ে আদালতে মামলা হয়।
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ওই নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করার ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল রাখে। ফলে বর্তমানে অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রচলিত ডাকযোগে ভোটের ব্যবস্থাই নির্বাচনে বহাল থাকছে।
বিদেশি হস্তক্ষেপ নিয়ে সতর্কতা
নির্বাচনে বিদেশি প্রভাব এবং সরাসরি বিদেশি হস্তক্ষেপকে এক বিষয় হিসেবে না দেখার পরামর্শও দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাবেক ডেপুটি ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স বেথ স্যানারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিদেশি প্রভাব বলতে প্রচারণা বা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড বোঝাতে পারে। আর বিদেশি হস্তক্ষেপ বলতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া বা ভোট গণনায় সরাসরি হস্তক্ষেপকে বোঝায়।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো বিদেশি রাষ্ট্র সরাসরি ভোটের হিসাব পরিবর্তনের চেষ্টা করেছে—এমন নজির নেই। ২০২০ সালের নির্বাচনেও এমন ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ফলে বিশেষজ্ঞদের বর্তমান উদ্বেগ মূলত ভোট গণনার সময়কে ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপ, বিভ্রান্তিকর দাবি এবং ফলাফল নিয়ে সন্দেহ তৈরির ঝুঁকি নিয়ে।
সময়ের আলো/টিকে