পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথ খোলা রেখেছে সৌদি আরব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

সৌদি আরব পরমাণু অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা পুরোপুরি বাদ দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোপন গোয়েন্দা মূল্যায়নে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে

2026-09-27T18:27:32+00:00
2026-09-27T18:27:32+00:00
 
  রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১২ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য
পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথ খোলা রেখেছে সৌদি আরব
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৭ পিএম 
ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : গালফ নিউজ
সৌদি আরব পরমাণু অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা পুরোপুরি বাদ দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোপন গোয়েন্দা মূল্যায়নে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, গত মাসে কংগ্রেসে পাঠানো গোপন নথিতে সৌদি আরবের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে। তবে ওই নথি প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে সিআইএও কোনো মন্তব্য করেনি।

সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে কংগ্রেসে আলোচনা চলছে। এই চুক্তি হলে মার্কিন কোম্পানিগুলো সৌদি আরবে কয়েক হাজার কোটি ডলারের পরমাণু জ্বালানি প্রকল্পে কাজ করতে পারবে।

ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি সৌদি আরব যেন পরমাণু প্রযুক্তির জন্য রাশিয়া বা চীনের ওপর নির্ভর না করে, সেটিও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ওয়াশিংটন সৌদি আরবের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচিকে সমর্থন করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তাদের দাবি, চুক্তিতে পরমাণু অস্ত্র বিস্তার ঠেকাতে শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সৌদি সরকার গোপন গোয়েন্দা মূল্যায়ন নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী আবদুলআজিজ বিন সালমানের আগের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হবে এবং তা স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হবে।

চুক্তির বর্তমান শর্ত অনুযায়ী, সৌদি আরব ৫ শতাংশের কম মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে। তবে পরবর্তী সময়ে আলাদা পর্যালোচনা ও লিখিত চুক্তির মাধ্যমে এই মাত্রা ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ থাকতে পারে।

২০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরাসরি পরমাণু অস্ত্র তৈরির উপযোগী নয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারলে অস্ত্র তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়াম উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সময় কমে যায়।


চুক্তিতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) অতিরিক্ত প্রটোকল গ্রহণের বাধ্যবাধকতা না থাকায় মার্কিন আইনপ্রণেতারাও উদ্বেগ জানিয়েছেন। এই প্রটোকলের মাধ্যমে পরমাণু স্থাপনায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের আরও বেশি প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়।

ডেমোক্র্যাটিক দলের কয়েকজন সিনেটর এরই মধ্যে চুক্তিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, চুক্তিতে সৌদি আরবের জন্য আগের তুলনায় শিথিল কিছু শর্ত রাখা হয়েছে।

এদিকে চুক্তিটি বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের ৯০ দিনের পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। আইনপ্রণেতারা চাইলে এটি বাতিলের উদ্যোগ নিতে পারেন। তবে প্রেসিডেন্টের ভেটো অতিক্রম করে চুক্তি ঠেকাতে কংগ্রেসে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে।

চুক্তির সমর্থকেরা বলছেন, সৌদি আরবের পরমাণু কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্র যুক্ত থাকলে দেশটির ওপর ওয়াশিংটনের নজরদারি ও প্রভাব বেশি থাকবে। অন্যদিকে রাশিয়া বা চীনের কোম্পানি এই কর্মসূচিতে যুক্ত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সেই সুযোগ কমে যেতে পারে।

সৌদি আরব পরমাণু অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তির (এনপিটি) সদস্য এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় রয়েছে।

সূত্র : গালফ নিউজ, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট 


সময়ের আলো/ইউএমএইচ
  বিষয়:   সৌদি আরব  পরমাণু অস্ত্র 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: