বাংলাদেশের মাটিতে ফ্যাসিবাদকে আর মাথাচাড়া দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর দিয়াবাড়ি মোড়ে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ব্রতী ও জুলাই কন্যা তরঙ্গের উদ্যোগে ‘জুলাই কন্যা চত্বর’ এ শহীদ জুলাই নারী মঞ্চের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ নারী ও অকুতোভয় নারীদের স্মরণে এ আয়োজন করা হয়।
ইশরাক হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর গঠিত হয়েছে। জুলাইয়ের শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং জাতীয় পর্যায়ে তাঁদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানানো এ অধিদপ্তরের অন্যতম দায়িত্ব।
তিনি বলেন, ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও।’
ঢাকার বাইরে একটি জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনার উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চোরাগোপ্তা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জুলাইয়ের অর্জন ম্লান করা যাবে না। শহীদদের আত্মত্যাগও বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।’
জুলাই ও আগস্টের গণহত্যার পূর্ণাঙ্গ বিচার এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশে ও বিদেশে থাকা আসামিদের শুধু বিচারের রায় নয়, সেই রায় কার্যকর হতে দেখতে চান তাঁরা। তা বাস্তবায়ন করা না গেলে ভবিষ্যতে ঝুঁকি থেকে যাবে।
শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘তাঁদের কষ্ট অন্য কেউ পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারবেন না। অবশ্যই খুনিদের বিচার হবে। বাংলাদেশের মাটিতে আর কোনো দিন কোনো ফ্যাসিবাদের উৎপত্তি হতে দেওয়া হবে না।’
দিয়াবাড়ি চত্বরকে স্থায়ীভাবে ‘জুলাই কন্যা চত্বর’ হিসেবে নামকরণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, জুলাই কন্যা মঞ্চকে নারীদের জন্য উন্মুক্ত ও নিরাপদ মঞ্চ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সেখানে নারীরা তাঁদের বিভিন্ন অভিব্যক্তি তুলে ধরার পাশাপাশি রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নারী নেতৃবৃন্দ।
সময়ের আলো/এমকে