জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালু হচ্ছে : মাহ্দী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালু করা হচ্ছে। এতে পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

2026-08-12T22:16:21+00:00
2026-08-12T22:18:03+00:00
 
  বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬,
২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালু হচ্ছে : মাহ্দী আমিন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৬ পিএম  আপডেট: ১২.০৮.২০২৬ ১০:১৮ পিএম
ছবি : সময়ের আলো
জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালু করা হচ্ছে। এতে পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো বাস্তবায়ন: নীতি, অংশীদারিত্ব ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালু করা হচ্ছে। এ নিয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে ইতোমধ্যে একাধিক আলোচনা ও পরামর্শ হয়েছে। কর্মসংস্থানের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, স্থানীয় নিয়োগকর্তা ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে সরাসরি মেলবন্ধন তৈরি করা হবে। অনলাইন ও সরাসরি উভয় ব্যবস্থায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর সুপারিশ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। বেসরকারি খাতকেও এ প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত করা হবে।

প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়ে পরবর্তীতে দেশের প্রতিটি জেলায় সম্প্রসারিত হবে বলে জানান তিনি।

পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিষয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, সমাজের কোনো নাগরিক যেন জাতীয় প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের ধারা থেকে পিছিয়ে না পড়েন, সেটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে জাতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষার মূলধারায় সম্পৃক্ত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং টেকসইভাবে নাগরিক সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দীর্ঘ সময় পর জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় প্রশাসনিক জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতা আরও জোরদার হয়েছে।

মাহ্দী আমিন বলেন, জনগণের রাজনৈতিক মতামত ও ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। তাই প্রতিটি নাগরিকের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পারিবারিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, শুধু সাময়িক উন্নয়ন নয়, এমন একটি প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে, যেখানে নাগরিকের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের পাশাপাশি তাঁদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটবে।

প্রথম বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, তৃণমূলের মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চাল, ডাল, তেল, চিনি ও আটাসহ সাতটির বেশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর ও মূল্য সংযোজন কর কমানো হয়েছে। এর ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ কমেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও সরকার দেশের বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রেখেছে বলে জানান তিনি। এতে নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষ স্বস্তি পেয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সম্প্রতি একটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস টার্মিনাল কারিগরিভাবে বিকল হওয়ায় গ্যাস সরবরাহে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, সংকট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে জ্বালানি খাত বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। কয়েক মাসে এই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। মধ্যমেয়াদে জ্বালানি সংকটের টেকসই সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের মাধ্যমে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারও করেন মাহ্দী আমিন।

তিনি জানান, শিগগিরই স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ নতুন পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৮০ হাজার পদে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা নয়, বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা ও সামাজিক মূল্যবোধের মাধ্যমে গড়ে তোলা হবে। তাঁদের দক্ষ কর্মী ও সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

পর্যায়ক্রমে সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড-ডে মিল’ চালু এবং অভিন্ন পোশাকের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি। শহরের বিদ্যালয়ের আধুনিক পাঠদান পদ্ধতি গ্রামের বিদ্যালয়েও পৌঁছে দিতে শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল সাম্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও তাঁদের মর্যাদা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

পরিবেশ রক্ষা ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বৃক্ষরোপণ ও খাল খননের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে শহর ও গ্রামের সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য কমানোর কথা জানান মাহ্দী আমিন। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচনের পরপরই বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পাশাপাশি প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মাহ্দী আমিন বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবারের নারীদের স্বনির্ভরতা ও সামাজিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা হবে। ‘কৃষক কার্ড’-এর মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সেবা ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকেয়া ঋণ ও সুদ মওকুফ করা হয়েছে। তরুণ সমাজ ও নারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

প্রথম বাজেটের পর থেকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং শ্রমজীবী মানুষের বকেয়া বেতন, বোনাস ও অন্যান্য অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার সফল হয়েছে বলেও দাবি করেন মাহ্দী আমিন।


তিনি বলেন, রমজান মাস থেকে প্রান্তিক মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। ঈদের আগে শ্রমিক অসন্তোষের পরিবর্তে এবার ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় শ্রমিকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

সরকারের উন্নয়ন ও প্রতিশ্রুতি বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর মূল দর্শন হলো দেশের সব শ্রেণি ও বৈচিত্র্যের মানুষকে একসূত্রে গেঁথে সমান অধিকার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, পাহাড়ি কিংবা সমতলের বাসিন্দা, ধর্ম-বর্ণ, রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা শারীরিক ও সামাজিক সক্ষমতা নির্বিশেষে সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। ভিন্নমত ও বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই রাষ্ট্রকে এগিয়ে যেতে হবে।

মাহ্দী আমিন বলেন, বৈচিত্র্যের মধ্যেই বাংলাদেশের প্রকৃত রূপ রয়েছে। রাষ্ট্রের নীতি ও সরকারের কার্যক্রমে প্রতিটি নাগরিক যেন সমান অধিকার, স্বাধীনতা ও উন্নয়নের অংশীদার হতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই কাজ করা হচ্ছে।

বিগত ১৬ বছরের শাসনামলে ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠন ও সংস্কারকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ পুনর্গঠনে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।

মাহ্দী আমিন বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠন ও সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতির অন্যতম ভিত্তি হলো অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন।

গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল ও গণঅভ্যুত্থানে সাধারণ মানুষের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক দল ও জনগণের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা। সর্বস্তরে স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করে সেই আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গঠনে সরকার কাজ করছে।

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান এবং সংসদ সদস্য মাধবী মারমা।


সময়ের আলো/এমকে


  বিষয়:   এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ  মাহ্দী আমিন  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: