মেধার শতভাগ নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে : মাহ্দী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষা

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে শিক্ষার্থীদের মেধার শতভাগ নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং

2026-08-10T18:54:32+00:00
2026-08-10T18:54:32+00:00
 
  সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬,
২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
শিক্ষা
এসএসসির ফলাফল
মেধার শতভাগ নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে : মাহ্দী আমিন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৪ পিএম 
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। ছবি : সংগৃহীত
মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে শিক্ষার্থীদের মেধার শতভাগ নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

ভালো ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, যারা ভালো ফলাফল করেছে, তাদের পাশাপাশি তাদের পরিবারও গর্বিত। তবে কোনো কারণে যারা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে পারেনি, তাদের হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

মাহ্দী আমিন বলেন, ‘এটাই জীবনের শেষ সুযোগ নয়। যারা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পায়নি, সরকার সবসময় তাদের পাশে থাকবে। আমরা নিশ্চিত করতে চাই, ভবিষ্যতেও যেন তারা সব বাধা পেরিয়ে সফলতা অর্জন করতে পারে।’

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে সোমবার সকাল ১০টায় সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, ‘আমরা বহু বছর ধরে দেখে আসছি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কৃত্রিমভাবে জিপিএ ৫ কিংবা পাসের হার বাড়িয়ে দেখানো হতো। আমরা সেই সংস্কৃতি থেকে পুরোপুরি বের হয়ে এসেছি। কারণ প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন, আমরা এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রকৃত যোগ্যতা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতা নিয়ে বের হয়ে আসবে।’

তিনি বলেন, ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল, এসএসসি ভোকেশনাল ও দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষার ফলাফল যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসেছে, সেটি সরকার গঠনের মাত্র দুই মাস পর শুরু হয়েছিল। পরীক্ষা কার্যক্রম গত ২১ এপ্রিল শুরু হয়। পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ও শরীরে ধারণযোগ্য ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে।

মাহ্দী আমিন বলেন, ‘এবার খাতা মূল্যায়নের পুরো প্রক্রিয়াটি শতভাগ নির্ভুলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। যেভাবে যে শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেছে, ঠিক সেভাবেই খাতা মূল্যায়ন করা হয়েছে। এ জন্য পরীক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছিল।’

তিনি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে কোনো ধরনের বিতর্ক না তুলে সেটিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো, আজকের এই এসএসসি পরীক্ষায় যারা অংশ নিয়েছে, তাদের ফলাফল ভালো হোক বা খারাপ, প্রত্যাশিত হোক কিংবা অপ্রত্যাশিত, আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একযোগে সামনের দিকে এগিয়ে যাব।’

তিনি বলেন, এবার কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি। অত্যন্ত সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত শিক্ষক, অভিভাবক, পরীক্ষার্থী, শিক্ষা কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, মাঠ প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

দীর্ঘদিন পর একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, জনগণের বিপুল প্রত্যাশার মুখে এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না এবং প্রতিটি শিক্ষার্থী তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন পাচ্ছে কি না, সেটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যা শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। পাস ও ফেল যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীলতা, মেধা ও যোগ্যতার শতভাগ নিরপেক্ষ মূল্যায়ন পাচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

মাহ্দী আমিন বলেন, ‘আজকে আমাদের বার্তাটি অত্যন্ত স্পষ্ট। যারা ভালো ফলাফল করেছে কিংবা যারা প্রত্যাশিত ফলাফল পায়নি, সবার উদ্দেশে বলছি, প্রত্যেকে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করো, কঠোর পরিশ্রম করো এবং নিজের ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখো। কখনোই থেমে যাওয়া যাবে না। জনগণের নির্বাচিত সরকার প্রতিটি শিক্ষার্থীর পাশে রয়েছে।’

গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পাশে গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দাঁড়াতে হবে। যারা ভালো ফলাফল করেছে এবং যেসব প্রতিষ্ঠান ভালো করেছে, তাদের অনুপ্রেরণা দিতে হবে। পাশাপাশি যেসব ক্ষেত্রে ঘাটতি বা সমস্যা রয়েছে, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সেগুলোর টেকসই সমাধান বের করতে হবে।

মাহ্দী আমিন বলেন, ‘১৮০ দিনের মূল্যায়নের বিষয়টি যখন আসছে, তখন আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, দীর্ঘ শাসনের ফলে পুরো রাষ্ট্রকাঠামো ব্যাপকভাবে ভেঙে পড়েছিল। সেখান থেকেই আমরা শিক্ষা খাতকে পুনর্গঠন ও পুনরুজ্জীবিত করার কাজ করছি।’

শিক্ষাব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোর একটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, একাডেমিক পাঠ্যক্রমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, পরিমার্জন, সংযোজন, বিয়োজন ও সংস্কারের কাজ চলছে। আগামী শিক্ষাবর্ষেই সব পরিবর্তন একবারে করা সম্ভব না হলেও নতুন করে বেশ কিছু পাঠ্যক্রম পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং চারটি নতুন বই অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

প্রথমবারের মতো একটি বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ার লক্ষ্যে সারা বাংলাদেশের তৃণমূল থেকে ঢাকা পর্যন্ত সবাইকে একই প্ল্যাটফর্মে এনে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।


মাহ্দী আমিন বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে উদ্ভাবনী অনুদান ও নতুন উদ্যোগ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, শিক্ষা কার্যক্রমে ক্রীড়া ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন এবং শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির সঠিক সংযোজন নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে।

মাহ্দী আমিন বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরে ভেঙে পড়া একটি রাষ্ট্রকাঠামো পাঁচ বা ছয় মাসে আমূল বদলে ফেলা সম্ভব নয়। তবে শিক্ষা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে সরকারের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা রয়েছে। বহুপক্ষীয় আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে সামনের দিনগুলোতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন নিশ্চিত করা হবে।

সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সাফল্য মূলধারায় তুলে ধরতে হবে। যারা ভালো ফলাফল করেছে এবং যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভালো অর্জন করেছে, তাদের অনুপ্রেরণা দিতে হবে। আর যেসব জায়গায় সমস্যা বা ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো সবাই মিলে চিহ্নিত করে ঐক্যবদ্ধভাবে সমাধান করতে হবে।


সময়ের আলো/এমকে


  বিষয়:   এসএসসি  ফলাফল  মেধা  মূল্যায়ন  মাহ্দী আমিন  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
শিক্ষা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: