বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর প্রথমবারের মতো মাঠে ফিরেছেন আর্জেন্টিনার ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি। তাঁর ক্যারিয়ার নিয়ে নানা জল্পনার মধ্যেই ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠে নামেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) লিওনেসের বিপক্ষে লিগস কাপের ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মেসি। মাঠে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকেরা করতালিতে তাকে স্বাগত জানান। আবেগঘন সেই মুহূর্তে মেসির প্রতি সমর্থন জানান সমর্থকেরা। তবে মেসির প্রত্যাবর্তনের ম্যাচটি জয় দিয়ে রাঙাতে পারেনি ইন্টার মায়ামি। শেষ দিকে গোল হজম করে ২-৩ গোলে হেরে যায় দলটি।
গত শনিবার আর্জেন্টিনার রোসারিওতে ৬৮ বছর বয়সে মারা যান মেসির বাবা হোর্হে মেসি। ছেলের ফুটবল ক্যারিয়ারে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। দীর্ঘদিন মেসির এজেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
বাবার মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ এক আবেগঘন বার্তায় প্রথমবারের মতো নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন মেসি।
মেসি লিখেছেন, ‘বাবা, তুমি যে আর নেই— এটা আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না। তোমাকে আর দেখতে পাব না, আমাদের আর কথা হবে না—এটা মেনে নেওয়া আমার জন্য খুব কঠিন।’
তিনি বলেন, বাবা কষ্ট পাচ্ছিলেন এবং তাঁর চলে যাওয়া হয়তো ভালোই হয়েছে, কিন্তু তিনি খুব তাড়াতাড়ি চলে গেছেন। তাঁদের একসঙ্গে উপভোগ করার মতো আরও অনেক কিছু বাকি ছিল।
মেসি জানান, শেষ বিশ্বকাপে খেলার জন্য তাঁর বাবা তাঁকে অনেক অনুরোধ করেছিলেন। বিশ্বকাপ শুরুর কয়েক দিন আগে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। সেটিই ছিল প্রথম কোনো বিশ্বকাপ, যেখানে মেসির বাবা তাঁর পাশে থাকতে পারেননি।
মেসি লিখেছেন, ‘প্রতিটি ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আমি তোমার বার্তার অপেক্ষা করতাম এবং তোমাকে খুব মিস করতাম। বুঝতে পারছিলাম পরিস্থিতি খুব খারাপ। তারপরও ভাবতাম, আমি যদি যতটা সম্ভব এগোতে পারি, তাহলে হয়তো তুমি অন্তত একটি ম্যাচ দেখতে পারবে।’
বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছালেও বাবাকে পাশে পাননি মেসি। তিনি জানান, দেশে ফিরে বাবার সঙ্গে ফাইনাল নিয়ে কথাও বলতে পারেননি। এমনকি কী ঘটেছিল, সেটিও তাঁর বাবা উপভোগ করে যেতে পারেননি।
বাবাকে হারানোর পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন মেসি।
তিনি লিখেছেন, ‘তোমাকে ছাড়া আমি কী করব, জানি না। কীভাবে এগিয়ে যাব, সেটাও জানি না। আমি শুধু ফুটবল খেলছিলাম, আর এখন আমার মনে অনেক প্রশ্ন—আমি আর কতদিন ফুটবল চালিয়ে যেতে পারব।’
মেসির ভাষায়, শৈশব থেকে ক্যারিয়ারের পুরো পথজুড়েই তার বাবা পাশে ছিলেন। শেষ প্রান্তে পৌঁছানোর এত কাছাকাছি এসে কেন বাবা আর একটু অপেক্ষা করতে পারলেন না— সেই আক্ষেপও প্রকাশ করেছেন তিনি।
বাবাকে শুধু বাবা নয়, বন্ধু ও প্রতিনিধি হিসেবেও স্মরণ করেছেন মেসি। তিনি বলেন, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তাঁর বাবা যেভাবে পাশে থাকার প্রয়োজন ছিল, সেভাবেই ছিলেন।
সন্তানদেরও বাবার মতো করে বড় করার কথা জানিয়ে মেসি লিখেছেন, ‘তোমাকে খুব মিস করব। তবে তুমি সবসময় আমাদের সঙ্গে থাকবে, বিশেষ করে আমার সন্তানদের বড় করার ক্ষেত্রে। কারণ আমি তাদের ঠিক যেভাবে তুমি আমাকে বড় করেছিলে, সেভাবেই শেখাচ্ছি ও বড় করছি।’
শেষে বাবার উদ্দেশে মেসি বলেন, ‘শান্তিতে ঘুমাও। ওপার থেকে আমাদের দেখো, যেমনটা এখানে থাকতে করতে। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ। আমি তোমাকে ভালোবাসি, বাবা।’
সময়ের আলো/কেএইচ