মেসির কঠিন পথ সহজ করেছিলেন বাবা

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

সন্তানের সাফল্যের গল্পে সাধারণত আলো থাকে তার অর্জন, পুরস্কার, রেকর্ড ও খ্যাতিকে ঘিরে। তবে সেই সাফল্যের পেছনে নীরবে কাজ করা

2026-08-12T18:49:54+00:00
2026-08-12T18:49:54+00:00
 
  বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬,
২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
খেলা
মেসির কঠিন পথ সহজ করেছিলেন বাবা
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৯ পিএম 
লিওনেল মেসির ক্ষেত্রেও তেমন একজন মানুষ তার বাবা হোর্হে মেসি। ছবি : সংগৃহীত
সন্তানের সাফল্যের গল্পে সাধারণত আলো থাকে তার অর্জন, পুরস্কার, রেকর্ড ও খ্যাতিকে ঘিরে। তবে সেই সাফল্যের পেছনে নীরবে কাজ করা মানুষের গল্প অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়। লিওনেল মেসির ক্ষেত্রেও তেমন একজন মানুষ তার বাবা হোর্হে মেসি। ছেলের বিশ্বজোড়া সাফল্যের পেছনে তিনি ছিলেন অভিভাবক, পরামর্শদাতা ও নির্ভরতার জায়গা।

আর্জেন্টিনার রোজারিওর একটি ধাতব কারখানায় কাজ করতেন হোর্হে। একই সঙ্গে ফুটবলের সঙ্গেও তার ছিল ঘনিষ্ঠতা। ছোটবেলা থেকেই মেসির প্রতিভা বুঝতে পেরে ছেলের অনুশীলন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে পাশে ছিলেন তিনি।

মেসির শৈশবেই জানা যায়, তার শরীরে গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি রয়েছে। চিকিৎসা চালিয়ে যেতে নিয়মিত ব্যয় প্রয়োজন ছিল, যা পরিবারের জন্য সহজ ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে অনেক পরিবার হয়তো সন্তানের স্বপ্ন নিয়ে নতুন করে ভাবত। কিন্তু হোর্হে ছেলের প্রতিভা ও সম্ভাবনার ওপর আস্থা হারাননি।

চিকিৎসার পাশাপাশি মেসির ফুটবলযাত্রা কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সেই পথও খুঁজেছেন তিনি। এখানেই অভিভাবকত্বের বড় একটি শিক্ষা রয়েছে— সন্তানের কোনো সীমাবদ্ধতা দেখেই তার স্বপ্নের সীমা নির্ধারণ না করা।


মাত্র ১৩ বছর বয়সে মেসির সামনে স্পেনে যাওয়ার সুযোগ আসে। নতুন দেশ, নতুন পরিবেশ ও পরিচিত মানুষদের ছেড়ে সেখানে পাড়ি দেওয়া একজন কিশোরের জন্য সহজ ছিল না। ছেলের পাশে থাকতে হোর্হেও নিজের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আনেন।

পরিবারের অন্য সদস্যরা রোজারিওতে ফিরে গেলেও তিনি মেসির সঙ্গে থেকে যান। নতুন পরিবেশে ছেলেকে মানিয়ে নিতে সাহায্য করেন। আবেগ, অনিশ্চয়তা ও বড় স্বপ্নের সেই সময়ে পাশে একজন আপনজন থাকা মেসির পথচলাকে নিশ্চয়ই অনেকটা সহজ করেছিল।

মেসির ছোটবেলায় হোর্হের ভূমিকা অনেকটা কোচের মতো ছিল। পরে ছেলে পেশাদার ফুটবলে প্রবেশ করলে তাঁর দায়িত্বও বদলে যায়। ক্যারিয়ারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, চুক্তি ও প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।


তবে সন্তানের পাশে থাকা মানেই তার হয়ে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়। ভালো অভিভাবকের দায়িত্ব হলো প্রয়োজনের সময় পথ দেখানো, ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পাশে থাকা। একই সঙ্গে সন্তানের নিজের পছন্দ ও সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়া।

অভিভাবকের ত্যাগও সন্তানের ওপর চাপ হয়ে ওঠা উচিত নয়। সন্তানের জন্য করা ত্যাগ বারবার মনে করিয়ে দিলে ভালোবাসার জায়গায় তৈরি হতে পারে চাপ। হোর্হের গল্প তাই শেখায়, সন্তানের পাশে থাকতে হবে নিঃশর্তভাবে।

একইভাবে সন্তানের সাফল্যকে নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের মাধ্যম হিসেবেও দেখা উচিত নয়। সে কী হতে চায়, তার আগ্রহ কোথায় এবং কোন কাজে সে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে— এসব বোঝার চেষ্টা করাই গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পরও মেসির জীবনে পরিবারের গুরুত্ব কমেনি। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বাবার উপস্থিতি, সাফল্য ভাগ করে নেওয়া কিংবা পারিবারিক সময় কাটানো—সবকিছুই দেখিয়েছে, খ্যাতির চেয়েও পরিবারের সম্পর্ক তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

সন্তানের সঙ্গে সময় কাটাতে খেলাধুলা ও সাধারণ বিনোদনের মাধ্যমেও যোগাযোগ ধরে রাখতেন হোর্হে। বড় কোনো উপদেশের চেয়ে অনেক সময় এই ছোট ছোট উপস্থিতিই সন্তানের কাছে বেশি মূল্যবান হয়ে ওঠে।

অবশ্য প্রতিটি সন্তান মেসির মতো বিশ্বখ্যাত হবে না। আর সন্তান কত বড় সাফল্য পেল, সেটিও অভিভাবকের সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে না। বরং সন্তান নিজের আগ্রহ ও সামর্থ্য অনুযায়ী এগোতে পারছে কি না, ব্যর্থতার সময় পাশে কেউ আছে কি না এবং নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে কি না— সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


সন্তানের স্বপ্নকে সম্মান করা, প্রয়োজনের সময় সহযোগিতা করা এবং ভুল থেকে শেখার সুযোগ দেওয়া অভিভাবকের অন্যতম বড় দায়িত্ব। অতিরিক্ত প্রত্যাশা ও চাপের বদলে বিশ্বাস অনেক সময় একজন শিশুকে অনেক দূর এগিয়ে দিতে পারে।

মেসির অসংখ্য ট্রফি, রেকর্ড ও ঐতিহাসিক অর্জনের আলোয় হোর্হে মেসির ভূমিকা সবসময় সামনে আসে না। কিন্তু একজন বাবার নীরব উপস্থিতি, বিশ্বাস ও সমর্থন যে সন্তানের কঠিন পথচলায় কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, মেসির জীবন তারই উদাহরণ।

সন্তানকে নিজের হাতে সাফল্যের শিখরে তুলে দেওয়া নয়; বরং পথ যত কঠিনই হোক, সে যেন নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখতে পারে— সেই সাহস জোগানোই হয়তো একজন অভিভাবকের সবচেয়ে বড় অবদান।

 সূত্র : টাইম, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, পিপল, ইন্ডিয়া টুডে

সময়ের আলো/কেএইচও


  বিষয়:   মেসি  কঠিন পথ  বাবা 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: