ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামের সবুজাভ উইকেটের সুবিধা শুরু থেকেই কাজে লাগিয়েছে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ। হাসান মাহমুদ, ইবাদত হোসেন ও তাসকিন আহমেদের দারুণ বোলিংয়ে লাঞ্চের আগেই ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া।
শুরুতে ট্রাভিস হেড ও জ্যাক ওয়েদারাল্ড বাংলাদেশের পেসারদের সামলানোর চেষ্টা করলেও ঘাসযুক্ত উইকেটে বাড়তি বাউন্স ও সুইং কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে একাধিকবার পরাস্ত হন দুই ওপেনার।
দ্বাদশ ওভারের চতুর্থ বলে প্রথম সাফল্য এনে দেন হাসান। অফ স্টাম্পের বাইরে করা বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটকিপার লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত হন ওয়েদারাল্ড। ২৩ রানে থামেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার।
এরপর ১৪তম ওভারে আঘাত হানেন ইবাদত হোসেন। রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে করা তার ভালো লেংথের বল ভেতরে ঢুকে ট্রাভিস হেডের ব্যাটের কানায় লেগে স্টাম্পের বেলস উড়িয়ে দেয়। ২২ রানে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ার আগ্রাসী ওপেনার।
হেডের বিদায়ের পর স্টিভেন স্মিথ ও মারনাস লাবুশেন মিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ১৭তম ওভারে স্মিথের একটি ক্যাচ ফেলে দেয় বাংলাদেশ। ইবাদতের বলে তৃতীয় স্লিপে উঠেছিল ক্যাচটি, সেটি নিতে পারেননি তানজিদ তামিম। তখন স্মিথের রান ছিল মাত্র ২।
তবে এক ওভার পরই লাবুশেনকে ফিরিয়ে দেন ইবাদত। অফ স্টাম্পের বাইরের বল ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ থাকলেও ব্যাট চালিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দেন তিনি। মাত্র ১ রান করেন লাবুশেন।
লাবুশেনের পর ব্যাটিংয়ে নামেন ক্যামেরন গ্রিন। অন্য প্রান্তে স্মিথকে নিয়ে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। তবে লাঞ্চের ঠিক আগে তাসকিন আহমেদও তুলে নেন নিজের প্রথম উইকেট। ২২তম ওভারের শেষ বলে অন সাইডে তুলে খেলতে গিয়ে শর্ট মিড উইকেটে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দেন গ্রিন। তার ব্যাট থেকে আসে ১৩ রান।
গ্রিনের বিদায়ের সঙ্গে লাঞ্চের আগে অস্ট্রেলিয়ার ৪ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। স্মিথ তখন ৭ রানে অপরাজিত।
অস্ট্রেলিয়ার ৪ উইকেটের তিনটিই এসেছে মাত্র ৪০ বলের ব্যবধানে। এই সময়ে স্বাগতিকদের স্কোরে যোগ হয়েছে মাত্র ১৬ রান। অফ স্টাম্পের আশপাশে ধারাবাহিকভাবে বোলিং করে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের চাপে রেখেছেন বাংলাদেশের পেসাররা।
ধারাভাষ্যকার মার্ক ওয়াহ লাবুশেনের আউটের শটকে ‘নাথিং শট’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, বাংলাদেশ তখন ‘অন টপ’।
তবে স্মিথের ক্যাচ হাতছাড়া করায় কিছুটা আফসোস থাকছেই বাংলাদেশের। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ব্যাটার কতটা এগিয়ে যেতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। নাহিদ রানার অনুপস্থিতি সত্ত্বেও হাসান, ইবাদত ও তাসকিনের পেস আক্রমণ আপাতত অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রেখেছে।
সময়ের আলো/কেএইচও