ম্যানচেস্টার সিটির আর্থিক অনিয়মের মামলার রায়ের পর বিষয়টি এখন ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্কের আলোচনাতেও এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সিটির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি দেওয়া হলে যুক্তরাজ্যে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ কমিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে আবুধাবির পক্ষ।
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টি প্রমাণিত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে ক্লাবটি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। ফলে চূড়ান্ত শাস্তি এখনো নির্ধারিত হয়নি।
এর মধ্যেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের একটি মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি বলেছিলেন, সিটির আবুধাবি মালিকেরা ক্লাবটি বিক্রি করে দিলে তিনি উদ্বিগ্ন হবেন। ম্যানচেস্টারের উন্নয়ন এবং ক্লাবটির বৈশ্বিক উত্থানে মালিকদের বিনিয়োগের প্রশংসাও করেছিলেন তিনি। পরে ডাউনিং স্ট্রিটের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়, ম্যানচেস্টার সিটি কোনোভাবেই নিয়মের ঊর্ধ্বে নয় এবং দায় প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা হওয়া উচিত।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্নহ্যামের মন্তব্যের পর যুক্তরাজ্যের লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা তার সঙ্গে সিটি মালিক বা আবুধাবির প্রতিনিধিদের কোনো বৈঠক হয়েছে কি না, তা প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে দ্য টেলিগ্রাফের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজের মধ্যবর্তী এলাকায় সিলিকন ভ্যালির আদলে প্রযুক্তি ও বিনিয়োগকেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনায় আবুধাবির বিনিয়োগকারীদের বড় ভূমিকা থাকার কথা ছিল। সিটির বিরুদ্ধে রায়ের পর সেই বিনিয়োগ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
রায়ের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সিটির চেয়ারম্যান খালদুন আল মুবারকের সঙ্গে ব্রিটিশ ব্যবসাবিষয়ক মন্ত্রী জোনাথন রেনল্ডসের বৈঠকের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ব্রিটিশ সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হলেও ম্যানচেস্টার সিটির মামলার বিষয়টি আলোচিত হয়নি।
এদিকে ম্যানচেস্টার সিটি জানিয়েছে, কমিশনের সিদ্ধান্তে তারা একমত নয় এবং তাদের কাছে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে শক্ত প্রমাণ রয়েছে। আপিলের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সম্ভাব্য জরিমানা, পয়েন্ট কাটা, এমনকি আরও কঠোর শাস্তি নিয়ে আলোচনা চললেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সময়ের আলো/টিকে