সচিবালয়ে বিএনপির বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন জামায়াতের

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনীতি

সচিবালয়ের মতো নির্বাহী জায়গায় বিএনপির রাজনৈতিক বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক

2026-08-13T15:14:38+00:00
2026-08-13T15:14:38+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬,
২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
রাজনীতি
সচিবালয়ে বিএনপির বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন জামায়াতের
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১৪ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
সচিবালয়ের মতো নির্বাহী জায়গায় বিএনপির রাজনৈতিক বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেছেন, সচিবালয়ে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ ফোরামের বৈঠকের কোনো নজির তাঁর জানা নেই।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন আযাদ।

সচিবালয়ে বিএনপির বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সচিবালয় হলো একটা নির্বাহী জায়গা। এখানে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ বৈঠক হবে—এমন কোনো নজির অতীতের রেকর্ডে আমাদের জানা নেই। এই কাজটি তাঁরা করছেন। তাহলে তাঁরা গণতন্ত্রকে কীভাবে দেখেন? আমার দলের মতো হলে গণতন্ত্র, না হলে স্বৈরতন্ত্র।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে আযাদ বলেন, ‘ওনাদের মহাসচিব বলেছেন, সরকারের গত পাঁচ-ছয় মাসের কার্যক্রমে অতীত থেকে কোনো পরিবর্তন নেই।’

১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমেদের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং সমর্থক ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আব্দুল্লাহ আল আমিন। অলি আহমেদের মনোনয়ন বৈধ হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন আযাদ।

সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকার পরও গণতন্ত্রের সৌন্দর্য রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার স্বার্থে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বলে জানান তিনি।


আযাদ বলেন, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র চর্চার নতুন ধারা সৃষ্টি করতে চাই। ১৯৯১ সালে একটা সম্ভাবনা ছিল, বিএনপির আসন কম থাকায়। এখানে তো সেই সম্ভাবনাও নেই। বিএনপি আগেই নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার কৌশল করে নিয়েছে। সে কারণে তাদের সেফ সাইড আছে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে জিতব কি হারব—এটা বিষয় নয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন হোক, এটা আমরা চাই না। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্যই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী অলি আহমেদের বিষয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, তিনি একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং জাতীয়ভাবে বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে দেশের জন্য অবদান রেখেছেন। একসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। পরে আলাদা দল গঠন করেন এবং এখন ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে রাজনীতি করছেন।

আযাদের ভাষ্য, ‘জাতি এটাকে অবশ্যই ইতিবাচকভাবে দেখছে এবং আমাদের ১১ দলের সিদ্ধান্তকে প্রশংসা করছে।’

তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বাধা তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই।

বিএনপি চাইলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গোপন ব্যালটে ভোটের বিধান চালু করতে পারত বলেও মন্তব্য করেন আযাদ। তিনি বলেন, ‘সবাই মিলে যখন একমত (জুলাই সনদ) হয়েছি, তখন একটি অধ্যাদেশ জারি করে বাংলাদেশে উচ্চ পর্যায় থেকে গণতন্ত্র চর্চা শুরু করার সুযোগ ছিল। কিন্তু তাঁরা সেটা করেননি।’

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা সম্ভব হতো এবং সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট দিতে পারতেন বলে দাবি করেন তিনি।

আযাদ বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছিল। গণভোটে বিষয়টি পাস হওয়ার পরও ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ‘একগুঁয়েমি’ ও ‘দলীয় সংকীর্ণতার’ কারণে সংস্কার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হলে আমরা আশা করতাম কর্নেল অলি সাহেব বিপুল ভোটে বিজয়ী হতেন। কারণ সংসদ সদস্যদের কাছে উনি একজন গ্রহণযোগ্য ও যোগ্য প্রার্থী।’

সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আযাদ বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অবিকল বহাল থাকবে, ততক্ষণ সেই অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোট দিতে হবে।

এদিকে নির্বাচন কমিশনে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সামসুল আলমকে নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। তাঁর দাবি, সামসুল আলম আগে বিএনপির সঙ্গে ছিলেন এবং পরে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব পদে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি এখনো নির্বাচন কমিশন ভবনে কর্মরত।

নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকে বিএনপি তাদের দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করার চেষ্টা করছে।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   সচিবালয়  বিএনপি  জামায়াত  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: