মাত্র ২৫ বছর বয়স। যে বয়সে স্বপ্নগুলো আরও বড় হওয়ার কথা, ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে পথচলার কথা— সেই বয়সেই জীবন-মৃত্যুর কঠিন লড়াইয়ে নেমেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ফাহিমা খানম হ্যাপি।
ইতিহাস বিভাগের ৫০তম ব্যাচের এই শিক্ষার্থী আক্রান্ত হয়েছেন Invasive Carcinoma of No Special Type (NST) নামের এক আক্রমণাত্মক স্তন ক্যানসারে। চিকিৎসকদের পরীক্ষায় ধরা পড়েছে Triple Negative Breast Cancer (TNBC)। রোগটি দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় চিকিৎসা শুরু করতে আর দেরি করতে চাইছেন না চিকিৎসকেরা।
কিন্তু চিকিৎসার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থ।
বায়োপসি, সিটি স্ক্যান, এফএনএসি এবং ইমিউনোহিস্টোকেমিস্ট্রি— ER, PR, HER2, Ki-67—সহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষার পর ফাহিমার অসুস্থতা নিশ্চিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী খুব শিগগিরই তার কেমোথেরাপি শুরু করতে হবে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, পুরো চিকিৎসায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা কিংবা তারও বেশি খরচ হতে পারে।
এই বিপুল অর্থের জোগান দেওয়ার সামর্থ্য নেই ফাহিমা ও তার পরিবারের।
ফাহিমার স্বামী মো. শান্ত একই বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও এখনো নিয়োগ পাননি তিনি। ফলে স্ত্রীকে বাঁচানোর এই কঠিন সময়ে কার্যত বেকার অবস্থায় আছেন। অন্যদিকে ফাহিমার পরিবারের আর্থিক অবস্থাও স্বচ্ছল নয়।
শান্তর কণ্ঠে তাই এখন অসহায়ত্বের পাশাপাশি প্রিয় মানুষটিকে ফিরে পাওয়ার আকুতি।
তিনি বলেন, আমি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও এখনো নিয়োগ পাইনি, তাই কার্যত বেকার। অন্যদিকে হ্যাপির পরিবারের আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়।
এরপর কিছুটা থেমে তিনি জানান, এই পরিবার ইতোমধ্যেই হারিয়েছে ক্যানসারে আক্রান্ত একজন প্রিয় মানুষকে।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, মাত্র দেড় বছর আগে আমরা ক্যানসারে হ্যাপির বাবাকে হারিয়েছি। আজ সেই পরিবারকেই আবার একই কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে, বলেন তিনি।
একদিকে সদ্য হারানো বাবার শোক, অন্যদিকে নিজের জীবনের অনিশ্চয়তা— সবকিছুর মাঝেও ফাহিমাকে বাঁচানোর লড়াই চালিয়ে যেতে চান তার স্বামী ও স্বজনেরা। কিন্তু সেই লড়াইয়ে এখন প্রয়োজন মানুষের সহযোগিতা।
শান্ত বলেন, এত বড়ো চিকিৎসার ব্যয় বহন করা আমাদের দুই পরিবারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। তাই আপনাদের সবার কাছে বিনীত অনুরোধ— আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী আমাদের পাশে দাঁড়ান। আপনার সামান্য সহযোগিতাও হ্যাপির চিকিৎসায় অনেক বড় আশার আলো হতে পারে।
ফাহিমার চিকিৎসায় সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলও। জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, ফাহিমার চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা চেয়ে কেন্দ্রকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো এবং স্থানীয় পর্যায়েও সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ করা হচ্ছে। আমরা চাই আমাদের বোন সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুক।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও ফাহিমার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সহযোগিতা করার চেষ্টা করছে। আমরা ইতোমধ্যে সরকারের তিনটি মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। আশা করছি, আমরা সরকারের পক্ষ থেকে ভালো সাড়া পাব।
ফাহিমার সামনে এখন দীর্ঘ চিকিৎসার পথ। কেমোথেরাপি থেকে শুরু করে পরবর্তী চিকিৎসা প্রতিটি ধাপেই প্রয়োজন হবে বিপুল অর্থের। তবে চিকিৎসার অর্থের অভাবে যেন ২৫ বছরের এই তরুণীর জীবন থেমে না যায় এটাই এখন স্বজন, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আকাঙ্ক্ষা।
হয়তো কারও কাছে ৫০০ টাকা, কারও কাছে ১ হাজার, আবার কারও কাছে ১০ হাজার টাকা খুব বড় কিছু নয়। কিন্তু অসুস্থ ফাহিমার জন্য সেই সামান্য অর্থই হয়ে উঠতে পারে বেঁচে থাকার আরেকটি সুযোগ।
একজন তরুণী আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে ফিরবেন সহপাঠীদের সঙ্গে হাসবেন, অসমাপ্ত পড়াশোনা শেষ করবেন, স্বপ্ন দেখবেন ভবিষ্যৎ নিয়ে এই আশাতেই এখন মানুষের সহযোগিতার অপেক্ষায় ফাহিমা ও তার পরিবার।
ফাহিমাকে বাঁচাতে আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। আপনার ছোট্ট সহায়তাই হতে পারে তার বেঁচে থাকার বড় আশ্রয়।
সহায়তা পাঠানোর মাধ্যম
Agrani Bank PLC, Branch : Jahangirnagar University Branch
Account Name : MST SHAHIDA AKTER
A/C No : 0200023010000
Routing number : 010262267
Dutch-Bangla Bank
Branch : Savar Bazar Branch
Account Name : FAHIMA KHANAM HAPPY
A/C No : 1371050613457
Routing number : 090264122
বিকাশ : 01812-684100
নগদ/ রকেট : 01770-399328
যোগাযোগ, মো. শান্ত : 1812-684100
সময়ের আলো/জোই