ভারতের আসাম ও অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত এলাকায় দু'পক্ষের বিক্ষোভকারীদের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অরুণাচল প্রদেশের পুলিশ শূন্যে গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত সোমবার থেকে সীমান্ত অঞ্চলে তৈরি হওয়া এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি আসামের ধেমাজি জেলা সীমান্তে তীব্র আকার ধারণ করে।
এদিকে ঘটনার জেরে অরুণাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে আসামে অনির্দিষ্টকালের অর্থনৈতিক অবরোধ দ্বিতীয় দিনের মতো বহাল রয়েছে।
আসামের মিসিং সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী ছাত্র সংগঠন ‘টাকাম মিসিং পোরিন কেবাং’ সহ স্থানীয় কয়েকটি গোষ্ঠী বুধবার থেকে এই অর্থনৈতিক অবরোধ কর্মসূচির ডাক দেয়। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা উভয় রাজ্যের বাসিন্দাদের কাছে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার বিশেষ বার্তা দেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা লেখেন, আসাম ও অরুণাচল প্রদেশের সম্পর্ক সীমানার ঊর্ধ্বে। যুগ যুগ ধরে এখানকার মানুষ ভালোবাসা, স্নেহ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ভাই-বোনের মতো বসবাস করে আসছে। আমি আসাম ও অরুণাচলের জনগণকে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য আবেদন জানাচ্ছি। সীমান্ত আমাদের রাজ্যগুলোকে সংজ্ঞায়িত করতে পারে, কিন্তু তা আমাদের হৃদয়কে কখনো আলাদা করতে পারবে না।
এর আগে বুধবার অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুর প্রতি ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। আসামের মুখ্যমন্ত্রীর এই অবস্থান ও শান্তিবার্তাকে স্বাগত জানিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু।
উল্লেখ্য, সীমানা নিয়ে এই দুই রাজ্যের মধ্যে বিরোধের ইতিহাস বহু পুরোনো। তবে সাম্প্রতিক এই হামলা ও পাল্টা অর্থনৈতিক অবরোধের জের ধরে সীমান্তবর্তী অঞ্চলজুড়ে নতুন করে বড় ধরণের উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সময়ের আলো/জেডি