আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের একের পর এক কঠোর বিধিনিষেধের মুখে পড়ে নারীদের সামাজিক জীবন ও স্বাধীন চলাচল আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। বর্তমানে দেশটির প্রায় ৫০ শতাংশ নারী মাসে মাত্র এক থেকে দুইবার ঘরের বাইরে বের হওয়ার সুযোগ পান।
বুধবার (১২ আগস্ট) জাতিসংঘের নারীবিষয়ক সংস্থা ‘ইউএন উইমেন’-এর প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, চলতি মাসেই তালেবানের দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় ফেরার পাঁচ বছর পূর্ণ হতে চলেছে, এই উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে ইউএন উইমেন উল্লেখ করে, আফগানিস্তানই বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একমাত্র দেশ, যেখানে কিশোরী ও নারীদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার ওপর আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। তালেবান সরকার পরিকল্পিতভাবে অর্ধেক জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে, যা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম নজিরবিহীন ঘটনা।
ইউনেস্কোর হিসেব অনুযায়ী, ২০২১ সালের আগস্টে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রায় ২৪ লাখ আফগান মেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ ছাড়া কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য তৈরি হয়েছে। ৮৪ শতাংশ পুরুষ কাজের সুযোগ পেলেও নারীদের কর্মসংস্থানের হার মাত্র ৭ শতাংশে নেমে এসেছে।
ইউএন উইমেনের জরিপে অংশ নেওয়া সিংহভাগ নারী জানান, কোনো পুরুষ অভিভাবক বা ‘মাহরাম’ ছাড়া ঘরের বাইরে পা রাখতে তারা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বোধ করেন। সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, একাকিত্ব ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কারণে জরিপে অংশ নেওয়া ১০ জনের মধ্যে ৭ জন আফগান নারীই নিজেদের মানসিক অবস্থাকে অত্যন্ত করুণ বলে বর্ণনা করেছেন।
তবে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের এসব অভিযোগ ও দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছে তালেবান প্রশাসন। আফগানিস্তানের সদাচার প্রচার ও পাপ প্রতিরোধ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইফ-উল-ইসলাম খাইবার জানান, নারীরা অনিরাপদ বোধ করছেন এমন তথ্য সঠিক নয়। আফগান নারীরা তাদের শরীয়াহসম্মত ও প্রাপ্য অধিকার ভোগ করছেন এবং দেশটিতে গত ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শান্তিময় পরিবেশ বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে এবং ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে টেলিফোন সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে আফগানিস্তানের হাজার হাজার নারীর মতামত সংগ্রহ করে এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছে ইউএন উইমেন।
সময়ের আলো/জেডি