যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো আগ্রাসন চালালে তা রুখে দিতে ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত। এমনকি এই সংঘাত ‘সর্বগ্রাসী যুদ্ধের’ দিকে গড়ালেও তেহরান লড়ে যাবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, কূটনৈতিক আলোচনার দরজা তেহরান এখনও খোলা রেখেছে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ৭ দিনের একটি প্রস্তাবও তুলে ধরেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, আগের আলোচনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে তেহরানের তীব্র সংশয় থাকলেও কূটনৈতিক সমাধানে ইরান এখনও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি জানান, ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার প্রস্তাবে তেহরান সাড়া দিয়েছিল। কিন্তু দুবারই আলোচনার মধ্যেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তিন মাসের মাথায় একটি সমঝোতা চুক্তিও লঙ্ঘন করা হয়। এত কিছুর পরও কূটনীতির পথ খোলা রাখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শান্তির যেকোনো সুযোগ আমাদের হাতছাড়া করা উচিত নয়।’
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে ইরান ভাবছে না জানিয়ে আরাঘচি বলেন, তেহরানের মূল দৃষ্টি কেবল নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার দিকে।
হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মার্কিন সরকার যুদ্ধ বন্ধ করা এবং অবৈধভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়াসহ সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নিলে এই নৌপথটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। তার দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক পদক্ষেপের পর ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং সপ্তম দিনে উভয়পক্ষের মধ্যে মূল আলোচনা পুনরায় শুরু হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলা প্রসঙ্গে আরাঘচি স্পষ্ট জানান, যেকোনো পরিস্থিতিতে দেশ রক্ষায় তারা শক্ত অবস্থানে থাকবেন। তিনি বলেন, ‘যেকোনো আগ্রাসনের মুখে আমরা শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকব, এমনকি তা যদি সর্বগ্রাসী যুদ্ধের দিকেও নিয়ে যায়।’
৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রসঙ্গে আরাঘচি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটির অধীনে এই মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ মোটেও বেআইনি নয় এবং এটি ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচিরই অংশ।
তিনি জানান, ওয়াশিংটন সদিচ্ছা দেখালে এবং অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করা ও অবরোধ তোলার মতো আস্থা বৃদ্ধিমূলক পদক্ষেপ নিলে ৬০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করা যেতে পারে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান ও নিরাপত্তা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে আরাঘচি ‘কৌশলগত নিরাপত্তার’ কথা উল্লেখ করেন। তবে তিনি নিশ্চিত করেন, শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে নিয়মিত নির্দেশনা পাচ্ছে তেহরান এবং সরকার, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি), সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ ও পার্লামেন্টের সমন্বয়ে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ