যুক্তরাষ্ট্রের আইভি লিগভুক্ত কর্নেল ইউনিভার্সিটির একটি ফ্র্যাটারনিটি হাউজে সাবেক এক নারী শিক্ষার্থীকে মাদক সেবনে বাধ্য করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের ওই ঘটনার বিষয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছেন প্রসিকিউটররা।
আইনি নথি অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চি ফাই ফ্র্যাটারনিটির সাত সদস্য—উইনস্টন লি, স্কট ক্র্যাটশমার, স্কট নরিস, ম্যাথিউ ইঙ্গলস, জোনাথন নিউয়েল, জিলিও লোপেস ও দিয়েগো সারাবিয়ার নাম উঠে এসেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই নারীকে জোর করে কেটামিনসহ মাদক গ্রহণে বাধ্য করার পর তার ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়।
ভুক্তভোগীর পরিচয় গোপন রাখতে মামলার নথিতে তাকে ‘জেন ডো’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি তিনি কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও অভিযুক্ত ফ্র্যাটারনিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তার অভিযোগ, তাকে নিরাপদ রাখতে এবং ঘটনাটি প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি।
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় ওই নারীর বয়স ছিল ২০ বছর। তিনি এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে চি ফাই ফ্র্যাটারনিটি হাউজে গিয়েছিলেন। সেখানে দুই সদস্য তাকে জোর করে কেটামিন সেবনে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর তিনি অচেতন হয়ে পড়লে একাধিক ব্যক্তি তার সম্মতি ছাড়া যৌন নির্যাতন চালান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার নথিতে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার সময় অভিযুক্তদের একজন ‘চি ফাই অ্যাক্টিভস’ নামে একটি স্ন্যাপচ্যাট গ্রুপে ওই নারীকে নিয়ে আপত্তিকর বার্তা পাঠান। ওই বার্তার পর আরও কয়েকজন সদস্য সেখানে উপস্থিত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর কয়েক ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালানোর অভিযোগ করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত একটি স্ন্যাপচ্যাট বার্তার স্ক্রিনশটও আদালতে প্রমাণ হিসেবে জমা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ পর ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানান। এরপর কর্নেল কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে।
ভুক্তভোগীর আইনজীবী থমাস গিউফরার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্তের পর সাত অভিযুক্তের মধ্যে মাত্র দুজনকে বহিষ্কার করা হয়। অন্যদের বিভিন্ন ধরনের অপেক্ষাকৃত কম কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়—যার মধ্যে সাময়িক বরখাস্ত, সচেতনতামূলক কর্মশালায় অংশ নেওয়া এবং প্রবন্ধ লেখার মতো ব্যবস্থা ছিল।
মামলায় কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার অভিযোগ যথাযথভাবে মোকাবিলা না করার এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। আইনজীবী গিউফরা সিবিএস নিউজকে বলেন, অভিযুক্তদের কাউকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং কর্তৃপক্ষ চাইলে পরিস্থিতি থামানোর সুযোগ ছিল।
ঘটনার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ওই নারী বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি কর্নেল প্রশাসন ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবহেলা এবং নিউইয়র্কের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হলেও এর নির্দিষ্ট পরিমাণ মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়নি।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ