বিদেশি নেতাদের সঙ্গে আলিঙ্গনের প্রসঙ্গ তুলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কড়া সমােলোচনা করেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। রসিকতা করে মোদির এই অভ্যাসকে তিনি নাম দিয়েছেন ‘হাগ ডিপ্লোমেসি’। এ সময় আরেক কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিত ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির প্রসঙ্গও টানেন।
নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ‘কংগ্রেস অর্গানাইজিং ন্যাশনাল কনভেনশন’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় রাহুল গান্ধী বলেন, মোদির কাছে পররাষ্ট্রনীতি কী- তিনি তা দেখাবেন। এরপর তিনি দুই হাত বাড়িয়ে দীক্ষিতের দিকে এগিয়ে গিয়ে তাকে আলিঙ্গন করার ভঙ্গি করেন।
রাহুল বলেন, তিনি (মো) এই ধারণা কোথা থেকে পেলেন, আমি জানি না। মানুষের মাথায় অদ্ভুত অদ্ভুত ধারণা আসে। তিনি মনে করেন, এটিই পররাষ্ট্রনীতি।
এরপর দীক্ষিতও রসিকতায় যোগ দিয়ে বলেন, আপনি কি ভেবেছিলেন আমি মেলোনি?
তার এই মন্তব্যে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে হাসির সৃষ্টি হয়। জবাবে রাহুল বলেন, আমি এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাইনি।
মোদির সঙ্গে বিভিন্ন দেশের নেতাদের প্রকাশ্য সাক্ষাৎ ও আলিঙ্গনের ঘটনাকে ঘিরেই এই রসিকতা করা হয়। এর মধ্যে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে মোদির বিভিন্ন সাক্ষাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
বিজেপির তীব্র সমালোচনা
রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্যের সমালোচনা করেছে বিজেপি। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে কংগ্রেসের ওই অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও শেয়ার করে প্রশ্ন করেন, আপনার কি মনে হয় রাহুল গান্ধীর মানসিক অবস্থা ঠিক আছে?
ইতালির প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে করা মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে বিজেপি নেতা বান্দি সঞ্জয় কুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, প্রধানমন্ত্রীদের নিয়ে এ ধরনের নিম্নমানের ভাষা ব্যবহার রাজনীতি নয়। এটি এমন আচরণ, যা ভারতের রাজনৈতিক পরিসরকে লজ্জায় ফেলে।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ নিয়েও মোদির সমালোচনা
আলিঙ্গনের রসিকতার পর রাহুল গান্ধী সরকারের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আরও বিস্তৃত সমালোচনা করেন। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের মধ্যে ভারতের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেওয়ার সুযোগ ছিল নয়াদিল্লির।
রাহুলের দাবি, ইরান ভারতের পুরোনো বন্ধু এবং যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সঙ্গেও ভারতের সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এই তিন দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারত।
তিনি বলেন, ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ভারতের জন্য এটি ছিল বড় একটি সুযোগ। কিন্তু ভারত সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। বরং পাকিস্তান এগিয়ে এসে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়েছে এবং ভারত ও প্রধানমন্ত্রী মোদি শুধু পরিস্থিতি দেখেছেন।
চীন-ভারত সীমান্ত নিয়েও প্রশ্ন
এরপর রাহুল গান্ধী ভারত-চীন সীমান্ত পরিস্থিতির সমালোচনা করেন। বিশেষ করে অরুণাচল প্রদেশ এবং যেসব এলাকায় ভারতীয় ও চীনা সেনারা নিয়মিত সীমান্ত টহল দেয়, সেসব এলাকার প্রসঙ্গ তোলেন তিনি।
ভারতীয় সেনাদের টহল এলাকার প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিশেষ করে অরুণাচলে চীন ভারতকে টহল দিতে বাধা দিয়েছে।
রাহুল গান্ধী ভারত-চীন সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সরকারের পররাষ্ট্রনীতির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে তার এসব বক্তব্যের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
সময়ের আলো/আআ