মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে দীর্ঘ ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চা শিল্প। উপজেলার ২২টি বাগানে এখন চলছে চায়ের ভরা মৌসুম। কিন্তু বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিয়মিত থাকায় কারখানায় ব্যাহত হচ্ছে চা প্রক্রিয়াজাতকরণ। এতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় উৎপাদন কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ।
চা বাগান সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক কারখানায় নিয়মিত উৎপাদন কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। উৎপাদন বন্ধ ঠেকাতে কোথাও কোথাও জেনারেটর ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে ডিজেলসহ জ্বালানি খরচ বেড়ে গেছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে উৎপাদন প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা নষ্ট হওয়ায় চায়ের মান নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চা তৈরির ক্ষেত্রে কাঁচা পাতা সংগ্রহের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করা জরুরি। দীর্ঘ সময় পাতা পড়ে থাকলে এর স্বাভাবিক গুণাগুণ ও মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে, বিদ্যুৎ চলে গেলে কারখানার যন্ত্রপাতি বন্ধ রেখে অপেক্ষা করার সুযোগ থাকে না। বাধ্য হয়েই জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন সচল রাখতে হচ্ছে।
ন্যাশনাল টি কোম্পানির মাধবপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক দিপন কুমার সিংহ বলেন, ‘ভরা মৌসুমে চা উৎপাদনের ব্যস্ততম সময় চলছে। এ সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় কারখানা পরিচালনায় বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উৎপাদনের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে এবং গুণগত মান ঠিক রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কারখানা সচল রাখতে জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয়ের পাশাপাশি উৎপাদন খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে চলতি মৌসুমে চা বাগানগুলোকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’
চা বাগান কর্তৃপক্ষের মতে, বছরের যে সময়ে উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকার কথা, সেই সময় বিদ্যুৎ সংকট দেখা দেওয়ায় সম্ভাব্য উৎপাদনের একটি বড় অংশ হাতছাড়া হচ্ছে।
এদিকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস দিয়েছে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিস।
অফিসটির ডিজিএম রঞ্জন কুমার ঘোষ বলেন, ‘গত ২ দিনে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে আশা করছি।’
বাগানসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চা উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করা না গেলে উৎপাদন ঘাটতির পাশাপাশি বাড়তি ব্যয় ও চায়ের মানেও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
সময়ের আলো/মহু