চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল-সংলগ্ন পুকুরে ১৫ দিনের ব্যবধানে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর সেটি সেচে পানিশূন্য করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তার স্বার্থে পুকুরটির গভীরতা কমিয়ে সুইমিংপুলের আদলে পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
গত রোববার (১৬ আগস্ট) পুকুরটির পানি পুরোপুরি সেচে ফেলা হয়। এর আগে ধারাবাহিক দুর্ঘটনার পর ক্যাম্পাসের সব পুকুরকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সেখানে নামা ও সাঁতার কাটার ওপর অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদ পারভেজ বলেন, শিক্ষার্থীদের জোরালো দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই পুকুরটি পানিশূন্য করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিরাপদ করার লক্ষ্যে এর গভীরতা কমিয়ে সুইমিংপুলের আদলে পুনর্নির্মাণের কাজ করা হবে।
প্রশাসন জানিয়েছে, অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো পুকুরে নামা, সাঁতার কাটা বা যেকোনোভাবে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত ২৮ জুলাই কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল-সংলগ্ন পুকুরে গোসল করতে নেমে তলিয়ে যান যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অর্ণব সাহা। এর ১৫ দিন না পেরোতেই গত বুধবার একই পুকুরে সাঁতার কাটতে গিয়ে প্রাণ হারান কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের অর্ণব দত্ত এবং তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শান্ত দেব। তাঁরা দুজনই ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরপর দুই ঘটনায় ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা পুকুর পুনর্নির্মাণ ও প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সময়ের আলো/এসএকে