বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি সময়ের আলোর সঙ্গে দেশের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। আলাপচারিতায় পরিবহন খাতের দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি, বাসস্ট্যান্ড স্থানান্তর, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলের ব্যয়, যানজট রেল খাতের উন্নয়ন এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে এআই ব্যবহারের মতো নানা বিষয় উঠে এসেছে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিশেষ প্রতিনিধি রফিক রাফি।
সময়ের আলো : দেশের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে আপনার মন্ত্রণালয় কোন ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিচ্ছে?
শেখ রবিউল আলম : তিনটি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় করে যোগাযোগব্যবস্থার প্রয়োজন অনুপাতে প্রকল্প গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে আমরা প্রাধান্য দিচ্ছি জনস্বার্থ এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্টে, যাতে অর্থনৈতিকভাবে ডেভেলপমেন্ট করার ক্ষেত্রে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। জনবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে সরকার অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। জাতীয় মহাসড়ককে আমরা টু সার্ভিসসহ সিক্স লেন করার উদ্যোগ নিয়েছি। আবার কিছু আঞ্চলিক মহাসড়ক ফোর লেনের করছি। জেলা মহাসড়কগুলো প্রশস্ত করা হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় আন্ডার পাস-ওভার পাস করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক থেকে দেড় বছরে ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।
যানজট কমে না কেন? এ সমস্যা সমাধানে কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
ঢাকার যানজটের অন্যতম কারণ অপরিকল্পিত নগরায়ণ। পৃথিবীর অনেক শহরে আগে যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি করে এরপর আবাসিক, বাণিজ্যিক ও অন্যান্য স্থাপনা গড়ে তোলা হয়। কিন্তু ঢাকায় পরিকল্পিত যোগাযোগব্যবস্থা ছাড়াই বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। ফলে জনসংখ্যা ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে।
এ ছাড়া রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, লেগুনা, টেম্পো ও বিভিন্ন ধরনের যান একই সড়কে চলাচল করায় যানজট আরও বাড়ছে। আমরা গণপরিবহনকে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনার উদ্যোগ নিয়েছি। সুনির্দিষ্ট রুটে মানসম্পন্ন বাস চালানোর পাশাপাশি মেট্রোরেলকে গণপরিবহনের মেরুদণ্ড হিসেবে গড়ে তোলা হবে। মেট্রোরেলের সঙ্গে ফিডার বাস সার্ভিস চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রধান সড়কগুলো থেকে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশাসহ ধীরগতির যানবাহন সরিয়ে নির্দিষ্ট এলাকায় চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। তবে এসব যানবাহনের সঙ্গে অনেক মানুষের জীবিকা জড়িত। তাই হঠাৎ করে বন্ধ না করে পর্যায়ক্রমে তাদের একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মধ্যে আনা হবে। পাশাপাশি গণপরিবহন ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় করে যানজট কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী ঢাকার চারপাশের নৌপথ বেসরকারি মালিকানায় দেওয়ার বিষয়ে বলেছেন। এ বিষয়ে আপনার অভিমত...
ঢাকার চারপাশের নৌপথ চালুর সম্ভাবনা অনেক। আগে চক্রাকার নৌপথে ওয়াটার বাস চালু হলেও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কারণে তা কার্যকর হয়নি। এবার এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বেসরকারি উদ্যোক্তারা এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। নৌপথের টার্মিনাল ও স্টেশনগুলো যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি যেসব সেতু ও রেলপথ নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে, সেগুলোও প্রয়োজন অনুযায়ী উঁচু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নৌপথকে দূষণমুক্ত রাখতেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ওয়াসা, সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট শিল্প-কারখানাগুলোকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ইটিপি চালুর বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সদরঘাটের তেলজাতীয় বর্জ্য অপসারণের দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আমরা নৌপথকে জনবান্ধব ও আকর্ষণীয় করতে চাই। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনার কাজ চলছে। মানুষ যাতে এই চক্রাকার নৌপথে ভ্রমণে আকৃষ্ট হয় সে জন্য পরিবেশটাকে উপযোগী করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, বেসরকারি উদ্যোক্তারা এ কাজে এগিয়ে আসবেন এবং ঢাকার চক্রাকার নৌপথ কার্যকরভাবে চালু করা সম্ভব হবে।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ব্যক্তিগত গাড়ির চেয়ে গণপরিবহন বেশি। আমাদের দেশ এর উল্টো। ব্যক্তিগত গাড়ি কমাতে উদ্যোগ নেবেন কি?
ব্যক্তিগত গাড়ি কমানোর ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্যোগ দরকার। দিল্লির মতো এক দিন জোড় ও অন্য দিন বেজোড় নম্বরের গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার আগে জনগণকে সচেতন করা জরুরি। আমাদের মধ্যে অনেক সময় নিজের সুবিধাকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। তাই ব্যক্তিগত স্বার্থের পাশাপাশি সামগ্রিক নগরব্যবস্থার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। আমরা সব পক্ষের মতামতকে সমন্বয় ও সম্মান করে এগোতে চাই।
সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে বাস সার্ভিস, মেট্রোরেলসহ গণপরিবহন ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ও কার্যকর করা গেলে ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমবে। এসব উদ্যোগ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করে একটি সুশৃঙ্খল পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
ইলেকট্রিক গাড়িও পরিবেশবান্ধব- এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা কী?
ইলেকট্রিক গাড়িকে আমরা উৎসাহিত করছি এবং এ ক্ষেত্রে কর ছাড়ও দেওয়া হয়েছে। আগে যেখানে করের হার অনেক বেশি ছিল, সেটি কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। বেসরকারি খাতের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রিক গাড়ি ও গণপরিবহন চালুর বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। তাদের জন্য ব্যাংকিং সুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ চলছে।
আমার মনে হয়, আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে ঢাকার বাস সার্ভিসে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। সরকারিভাবে ইলেকট্রিক বাসও আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গুলিস্তান, গাবতলী, মহাখালী ও যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনাল সরানো নিয়ে পরিকল্পনা কী?
বাস টার্মিনালগুলো সরাতে প্রায় আড়াই বছর সময় লাগতে পারে। বর্তমানে অল্প জায়গায় অনেক বাস থাকায় যানজট তৈরি হচ্ছে। তাই আন্তঃজেলা বাসের জন্য শহরের বাইরে বা প্রান্তে বড় টার্মিনাল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
উত্তরা-আব্দুল্লাহপুর এলাকায় প্রায় ৫০ বিঘা জায়গায় মহাখালী টার্মিনাল স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ করে সেখানে টার্মিনাল করা গেলে উত্তরবঙ্গসহ বিভিন্ন জেলার বাস ঢাকা শহরের ভেতরে না ঢুকেই যাত্রী পরিবহন করতে পারবে।
যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ টার্মিনালও পর্যায়ক্রমে সরানোর কাজ চলছে। গাবতলী টার্মিনাল হেমায়েতপুরের দিকে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখন না সরিয়ে সেখানে থাকা সরকারের বিভিন্ন জায়গা ব্যবহার করে টার্মিনালটি আরও বড় করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ঝিলমিল প্রকল্পের কাছে বসুন্ধরা এলাকায় আরেকটি জায়গা নিয়ে টার্মিনাল করার জন্য বাস মালিক সমিতি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সব মিলিয়ে টার্মিনালগুলো পর্যায়ক্রমে শহরের বাইরে বা প্রান্তে সরিয়ে এনে ঢাকার ভেতরের যানজট কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এআই ক্যামেরা বসানোয় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে অনেকটা শৃঙ্খলা এসেছে। এটি সারা দেশে করা হবে কি?
এআই ক্যামেরা কার্যকর ভূমিকা রাখছে এবং ঢাকায় এর মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আসছে। পর্যায়ক্রমে এর ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকায় অটোরিকশার প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস এবং ২৫ বছরের বেশি পুরোনো ট্রাককে আর ফিটনেস দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যে এসব পুরোনো যানবাহন ডাম্পিং স্টেশনে নেওয়া শুরু হয়েছে। এগুলো রিসাইক্লিংয়ের জন্য নীতিমালা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
গণপরিবহন ব্যবস্থায়ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের ভালো মানের বাস পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে। কোনো রুটে বাস নেই, আবার কোনো রুটে অনুমোদন ছাড়াই বাস চলছে- এসব সমস্যা সমাধানে রুট ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া বাসে জিপিএস বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। জিপিএস না থাকলে ভবিষ্যতে গাড়ির ফিটনেস দেওয়া হবে না। এর মাধ্যমে গাড়ির অবস্থান ও চলাচল পর্যবেক্ষণ করা যাবে এবং সড়কে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হলে দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক টোল কালেকশনসহ (ইটিসি) প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর কাজও চলছে।
পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি বন্ধ করা সম্ভব কি?
অবৈধ চাঁদাবাজি অবশ্যই বন্ধ করা সম্ভব। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সংগঠন নিয়ম অনুযায়ী যে অর্থ সংগ্রহ করে, সেটি আলাদা বিষয়। জনগণ যেটিকে চাঁদাবাজি মনে করে সেটি আগে কিছুটা ছিল। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর অনেকাংশে নিবৃত্ত করেছি। পথে গাড়ি থামিয়ে জোর করে টাকা নেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এটি চলতে দেওয়া হবে না।
সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা বাসস্ট্যান্ড ইজারা দেওয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে, পথে গাড়ি থামিয়ে কোনো টাকা নেওয়া যাবে না। কেউ করলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভবিষ্যতে বাসস্ট্যান্ডের সেবাবাবদ কোনো অর্থ প্রয়োজন হলে তা কেন্দ্রীয়ভাবে বা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ এ বিষয়ে একমত হয়েছে এবং এটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রয়োজনের তুলনায় আমাদের রাস্তা কম, কিন্তু রেল যোগাযোগ উন্নত করতে পারি। রেল খাত লাভজনক করা সম্ভব কি না?
রেলকে শুধু লাভ-লোকসানের দৃষ্টিতে দেখলে হবে না। এটি জনগণের অধিকার এবং গণপরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে বর্তমানে রেলের যে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার লোকসান রয়েছে, তা কমিয়ে শূন্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ জন্য রেলের ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও পুরোনো অবকাঠামোর উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুরোনো মিটারগেজ লাইন ও রোলিং স্টকের কারণে ব্যয় বেশি। নতুন লোকোমোটিভ ও ক্যারেজ আনা, রেললাইন সংস্কার এবং গতি বাড়ানোর বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা-চট্টগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ রুটে রেল যোগাযোগ দ্রুত ও কার্যকর করতে মিসিং লিংকগুলো সম্পন্ন করার উদ্যোগ রয়েছে। বগুড়া-সিরাজগঞ্জ ও আখাউড়া-সিলেটসহ বিভিন্ন প্রকল্পও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ঢাকা-পাবনা, ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-ভাঙ্গা রুটে কমিউটার ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
মূল লক্ষ্য হলো ঢাকার ওপর আশপাশের জেলার অতিরিক্ত চাপ কমানো এবং দ্রুত ও সহজে মানুষকে ঢাকার সঙ্গে যুক্ত করা। দেশের বর্তমান অবকাঠামো ও ঢাকাকেন্দ্রিক যোগাযোগব্যবস্থার বাস্তবতায় রেল যোগাযোগ উন্নত করার কোনো বিকল্প নেই।
পরিবহন খাতে দুর্নীতি এবং কাজ ঠিকমতো না করার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে কী বলবেন?
প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে রাস্তা ও কংক্রিটের কাজে উপকরণের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকে। শুধু ভালো উপকরণ ব্যবহার করলেই হবে না, কাজের মানও নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য প্রকল্পের তদারকি ও সুপারভিশন আরও জোরদার করা হচ্ছে। যারা প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত, তাদের আরও বেশি দায়িত্বশীল ও সতর্ক করা হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করাই এখন মূল লক্ষ্য।
বিগত সরকারের সময়ে হওয়া দুর্নীতিগুলো নিয়ে আপনাদের চিন্তাভাবনা কী?
বিগত সময়ে বেশ কিছু বড় ধরনের দুর্নীতি হয়েছে। তবে ঢালাওভাবে অভিযোগ না করে কোথায়, কীভাবে এবং কতটুকু দুর্নীতি হয়েছে- তা তদন্তের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে বের করা হচ্ছে। পেপারওয়ার্ক ও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। তদন্ত শেষে যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান।
সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আপনাকে ও সময়ের আলোকেও ধন্যবাদ।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি