ইসিতে জটিল কাজের জট

শাকিল আহমেদ

জাতীয়

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের সবচেয়ে জটিল হিসেবে বিবেচিত ‘ঘ’ ক্যাটাগরির আবেদনের সংখ্যা এক বছরে বেড়েছে প্রায় সাড়ে ছয় গুণ। ২০২৫

2026-08-19T01:40:31+00:00
2026-08-19T01:40:31+00:00
 
  বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬,
৪ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
এনআইডি সংশোধন
ইসিতে জটিল কাজের জট
শাকিল আহমেদ
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪০ এএম 
নির্বাচন ভবন। সংগৃহীত ছবি
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের সবচেয়ে জটিল হিসেবে বিবেচিত ‘ঘ’ ক্যাটাগরির আবেদনের সংখ্যা এক বছরে বেড়েছে প্রায় সাড়ে ছয় গুণ। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এ ক্যাটাগরিতে আবেদন ছিল ৬ হাজার ৮৭টি। চলতি বছরের জুনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ৭৩টিতে। সারা দেশের এসব আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষমতা এককভাবে এনআইডি মহাপরিচালকের (ডিজি) হাতে থাকায় আবেদন জমে যাচ্ছে এবং ভোগান্তি বাড়ছে ভোটারদের। 

ইসি সূত্রে জানা যায়, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের ছয় ক্যাটাগরিতে- ক-১, ক, খ-১, খ, গ ও ঘ, চলতি বছরের ১১ আগস্ট পর্যন্ত মোট আবেদন রয়েছে ৪৯ লাখ ৫৩ হাজার ৩২৮টি। এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ১ জুলাই এ সংখ্যা ছিল ৪২ লাখ ৯২ হাজার ২৬২টি। অর্থাৎ এক বছরে আবেদন বেড়েছে ৬ লাখ ৬১ হাজার ৬৬টি। 

জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের তুলনামূলক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ১ জুলাই ‘ক-১’ ক্যাটাগরিতে আবেদন ছিল ৮৫ হাজার ৬৮২টি, ‘ক’ ক্যাটাগরিতে ৩২ লাখ ৮৩ হাজার ৬৮টি, ‘খ-১’ ক্যাটাগরিতে ৪৬ হাজার ৩৬২টি, ‘খ’ ক্যাটাগরিতে ৬ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮০টি, ‘গ’ ক্যাটাগরিতে ১ লাখ ৮৭ হাজার ১৮৩টি এবং ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে ৬ হাজার ৮৭টি।

১৩ মাস পর এসব ক্যাটাগরিতে আবেদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৫১টি, ৩৬ লাখ ৮৬ হাজার ২৮৫টি, ৮১ হাজার ৯৯৯টি, ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৯১টি, ২ লাখ ২০ হাজার ১২৯টি এবং ৩৯ হাজার ৭৩টি। এ সময়ে ছয় ক্যাটাগরিতে মোট ৬ লাখ ৬১ হাজার ৬৬টি আবেদন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এনআইডি সংশোধনের কাজ সহজ করতে ২০১৬ সাল থেকে কর্মকর্তাদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দেয় নির্বাচন কমিশন। পরে ২০২০ সালের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘ক’, ‘খ’, ‘গ’ ও ‘ঘ’- এই চারটি মূল ক্যাটাগরি নির্ধারণ করে মাঠপর্যায় ও কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের ক্ষমতা স্পষ্ট করা হয়।

‘ক’ ক্যাটাগরির সাধারণ ভুলত্রুটি সংশোধনের ক্ষমতা উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তার হাতে দেওয়া হয়। ‘খ’ ক্যাটাগরির মধ্যম সারির ভুল ও আংশিক বয়স সংশোধনের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিনিয়র জেলা বা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে। ‘গ’ ক্যাটাগরির জটিল নাম ও বয়স সংশোধনের ক্ষমতা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার এবং ‘ঘ’ ক্যাটাগরির সবচেয়ে জটিল সংশোধনের ক্ষমতা এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালকের হাতে দেওয়া হয়।

‘ঘ’ ক্যাটাগরির বেশিরভাগ আবেদনই বয়স বাড়ানো বা কমানো সংক্রান্ত। এ কারণে এসব আবেদনকে অত্যন্ত জটিল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০২৩ সালে ‘ঘ’ ক্যাটাগরির আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষমতা এককভাবে এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালকের হাতে দেওয়া হয়। এতে ছোটখাটো বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রেও অনেক ভোটারকে উপজেলা বা জেলা শহর থেকে ঢাকার আগারগাঁওয়ে এনআইডির প্রধান কার্যালয়ে আসতে হচ্ছে এবং মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
ভোগান্তি কমাতে বয়স সংশোধনের কিছু ক্ষমতা শর্তসাপেক্ষে আবার মাঠপর্যায়ে দেওয়ার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে গত ১৩ আগস্ট একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

পরিপত্র অনুযায়ী, অনলাইনে যাচাইযোগ্য জেএসসি, মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষা সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন ‘ক’ ক্যাটাগরিভুক্ত হিসেবে উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা, সিনিয়র জেলা বা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং এনআইডি উইংয়ের সহকারী পরিচালক বা উপপরিচালক নিষ্পত্তি করতে পারবেন। শিক্ষা সনদের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রমাণাদি গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘এসওপি’ অনুসরণ করতে হবে। সংশোধনের আবেদন ইলেকট্রনিকভাবে অনুমোদন বা বাতিলের ক্ষেত্রে ‘সিএমএসে’ আবশ্যিকভাবে নোট দিতে হবে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা অধীনস্থ কর্মকর্তাদের কার্যক্রম মনিটরিং করবেন। দৈবচয়নের ভিত্তিতে প্রতি মাসে প্রত্যেক নিষ্পত্তিকারী কর্মকর্তার ন্যূনতম তিনটি আবেদন যথাযথভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে কি না, তা যাচাই করে নির্ধারিত ছকে প্রতিবেদন প্রস্তুত করে পরিচালকের (অপারেশন) ইন্টারনাল অ্যাকাউন্টে পাঠাতে হবে।

তবে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধন এবং জন্মতারিখসহ নিজের নাম ও পিতা-মাতার নাম সম্পূর্ণ পরিবর্তনের আবেদন মহাপরিচালক পর্যায়েই নিষ্পত্তিযোগ্য হবে। জন্মতারিখ, নিজের নাম এবং পিতা-মাতার নামের সম্পূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একই ফিল্ডে দ্বিতীয়বার সংশোধনের সুযোগ থাকবে না।


‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে জমে থাকা আবেদন কত দিনে নিষ্পত্তি হতে পারে জানতে চাইলে এনআইডি মহাপরিচালক আবুল হাসনাত মুহম্মদ আনোয়ার পাশা বলেন, তিনি প্রতিদিনই কাজ করছেন। তবে কত বছরে আবেদন শেষ হবে, তা বলতে পারেননি। 

এ বিষয়ে সচিবের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি পরিচালক (অপারেশন) মো. সাইফুল ইসলামের কাছে হিসাব রয়েছে বলে জানান। পরে পরিচালক (অপারেশন) মো. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এদিকে দেশে বর্তমানে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন।

এনআইডি এখন আয়কর শনাক্তকরণ নম্বর, শেয়ার আবেদন ও বিও হিসাব খোলা, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স, পাসপোর্ট, যানবাহন নিবন্ধন, চাকরির আবেদন, ব্যাংক হিসাব ও ঋণ, বিয়ে-তালাক নিবন্ধন, সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়, সরকারি ভাতা, মোবাইল সংযোগসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ সেবায় পরিচয় নিশ্চিত করার অপরিহার্য নথি। ফলে বিপুলসংখ্যক সংশোধনী আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে এনআইডিনির্ভর এসব সেবা গ্রহণেও ভোগান্তির আশঙ্কা থেকে যায়।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 


  বিষয়:   ইসি  জটিল কাজ  জট  এনআইডি সংশোধন 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: