রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় সংসদ সদস্যের সংখ্যার হিসাবে জয়-পরাজয়ের বিষয়টি একেবারেই স্পষ্ট। ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে রয়েছেন দলীয় ২৪৭ সংসদ সদস্য এবং জোট মিলিয়ে ২৫০ জন।
বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষে রয়েছেন জামায়াতের ৭৭ জনসহ জোটের ৯০ জন। ৩৪৯ সদস্যের বর্তমান ভোটার তালিকায় দুই শিবিরের বাইরে রয়েছেন মাত্র ৯ জন সংসদ সদস্যের ভোটার।
ফলে ২০ আগস্টের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের জয় নিশ্চিত হলেও ভোটের ফল ঘিরে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ থেমে নেই। বরং দুই প্রার্থীর নিজেদের জোটের সব ভোট অটুট থাকে কি না এবং বাকি ৯ ভোট কোন দিকে যায় এসবই এখন হয়ে উঠেছে মূল আলোচনার বিষয়।
দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ায় দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী গোপনে নয়, প্রকাশ্যে ব্যালটে নিজের স্বাক্ষর ও আসন লিখে ভোট দেবেন তারা। ভোটের দিন সংসদের অধিবেশন না থাকায় ভোটগ্রহণের জন্য ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে সংসদ সদস্যদের বৈঠক ডেকেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনি কর্মকর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন। সিইসির সভাপতিত্বে ওই বৈঠকেই সংসদ সদস্যরা দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন।
এর আগে ১৯৯১ সালে সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল। পরবর্তীতে একক প্রার্থী থাকায় নির্বাচনের আর প্রয়োজন হয়নি। তবে এবার দুজন প্রার্থী থাকায় ভোটগ্রহণ হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন ১৯৯১-এর বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটে। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ব্যালট পেপারে ভোটদাতার ক্রমিক নম্বর, নাম, বিভক্তি নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থাকবে। ব্যালটের নির্ধারিত অংশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম থাকবে। সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য যাকে ভোট দিতে চান, তার নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন। ভোট দেওয়ার পর সংসদ সদস্যরা তিনটি ব্যালট বাক্সের যেকোনো একটিতে ব্যালট পেপার জমা দিতে পারবেন। ভোট শেষে একই কক্ষে ব্যালট গণনা করে প্রাথমিক ফল ঘোষণা করবেন সিইসি। পরে নির্বাচন কমিশন ফল গেজেট আকারে প্রকাশ করবে।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বর্তমানে ভোটার হিসেবে রয়েছেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। তাদের মধ্যে ৫০ জন সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য। চট্টগ্রাম-৪ আসনের সদস্যপদ সংক্রান্ত আদালতের সিদ্ধান্তের কারণে মোট সদস্যসংখ্যা ৩৫০-এর পরিবর্তে ৩৪৯ হয়েছে। ভোটের দিন সংসদ সদস্যরা তাদের নির্ধারিত আসনে বসবেন। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা তাদের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেবেন। নির্বাচন পরিচালনায় ইসির ২০ সদস্যের একটি দল কাজ করবে। সংসদ সচিবালয় প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও প্রশাসনিক সহায়তা দেবে।
এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষের সংসদ সদস্য বা ভোটার ২৪৭ জন। এর মধ্যে ঢাকা-৮ আসনের মির্জা আব্বাস বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকায় তিনি ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন বলে জানা গেছে। সে ক্ষেত্রে বিএনপির ২৪৬ জন ভোটার ভোট দিতে পারেন। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বিএনপি জোটের মিত্র তিন দল গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) তিনটি ভোট।
অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ভোটার ৯০ জন। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর ৭৭ জন, এনসিপির আট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তিন, খেলাফত মজলিসের এক ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) একটি ভোট রয়েছে।
এই দুই জোটের বাইরে বরগুনা-১ আসন থেকে নির্বাচিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য মো. ওলিউল্লাহ রয়েছেন। এ ছাড়া সংসদে একজন সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যসহ মোট আটজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রয়েছেন যাদের সবাই একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের রুমিন ফারহানা, দিনাজপুর-৫ আসনের এ জেড এম রেজওয়ানুল ইসলাম, টাঙ্গাইল-৩ আসনের মো. লুৎফর রহমান খান আজাদ, ময়মনসিংহ-১ আসনের মোহাম্মদ সালমান ওমর, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, কুমিল্লা-৭ আসনের আতিকুল আলম, চাঁদপুর-৪ আসনের মো. আব্দুল হান্নান ও ৪৯ নম্বর সংরক্ষিত নারী আসনের সুলতানা জেসমিন। আদালতের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম-৪ আসনে নির্বাচিত প্রার্থী অযোগ্য হওয়ায় ওই আসনে কোনো সংসদ সদস্য নেই।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা স্বাধীনভাবে যাকে পছন্দ তাকেই ভোট দিতে পারবেন। এ কারণে এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়-পরাজয় নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা না থাকলেও আটজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন সংসদ সদস্য কাকে ভোট দিচ্ছেন তা জানতে আগ্রহী অনেকেই। অনেকে মনে করেন নিজ দল ও জোটের বাইরে ভোট পাওয়াটা সংশ্লিষ্ট দল ও জোটের জন্য কিছুটা সুখবর হতে পারে।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বলা হয়েছে, ‘কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি- (ক) ওই দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।’
ভোট প্রদানে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ দিলে সেটি ৭০ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন হবে। অর্থাৎ দলের বিপক্ষে অন্য প্রার্থীকে ভোট দিলে অবশ্যই সদস্যপদ চলে যাবে। আবার কেউ উপস্থিত থেকে ভোট না দিলে সেটিও দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার শামিল। সে কারণে কেউ সুস্থ অবস্থায় থেকে ভোট না দিলে তার সদস্যপদও বাতিল হতে পারে। কেউ ভোট দিতে না পারলে, দেশের বাইরে থাকলে বা অসুস্থ থাকলে দলকে বিষয়টি জানাতে হবে।
চিফ হুইপ জানান, সংসদ সদস্যরা তাদের আসন নম্বর অনুযায়ী ভোট দেবেন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের ভোট দেওয়ার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের সুযোগ থাকবে। ভোট গণনা, ফল প্রস্তুতের কার্যক্রম ও ফল ঘোষণা পর্যন্ত সম্প্রচারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করে নির্বাচনি কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ১৯৯১ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে আর এমন নির্বাচন হয়নি। দীর্ঘদিন পর এমন নির্বাচন হওয়ায় ইসির প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতার কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। বুধবার এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, আমাদের লোকজন তো রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে অভ্যস্ত না। পুরো প্রক্রিয়াটার মধ্যে যাতে কোনো গ্যাপ না হয়, সেই ব্যবস্থাটা আমরা করেছি।
ভোটগ্রহণের প্রস্তুতিতে সংসদ সচিবালয়ের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে সিইসি বলেন, ভোটগ্রহণ শেষে তাৎক্ষণিকভাবে ভোট গণনা শুরু হবে এবং সেখানেই নির্বাচনি কর্তা হিসেবে তিনি ফল ঘোষণা করবেন। তিনি বলেন, কতটি ব্যালট ছাপানো হয়েছে, কতটি ব্যবহার হয়েছে, কতটি অব্যবহৃত রয়েছে, কতটি বাতিল হয়েছে এবং প্রার্থীরা কে কত ভোট পেয়েছেন সব বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘ বিরতির পর এবার রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হওয়ায় এই ভোট নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক গুরুত্বও বেড়েছে। সবশেষ ১৯৯১ সালে সংসদীয় ব্যবস্থায় ফেরার পর রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভোট হয়েছিল। এরপর ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরা পরপর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
সংসদীয় সভায় মির্জা ফখরুলের কান্না : বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিদায়ি বক্তব্য দিতে গিয়ে বারবার কাঁদলেন দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নেতাকর্মীদের কাছে দোয়া চেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। সভায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সবশেষ মোনাজাতে দোয়া করা হয় ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপতির মঙ্গল কামনা করে।
বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। তার সভাপতিত্বে দুপুর ২টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা এ বৈঠক চলে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সভায় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের বিস্তারিত ধারণা দেন এবং মির্জা ফখরুল ইসলামের পক্ষে ভোট চান। তিনি সংসদ সদস্যদের জানান, বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম নিজেও ভোট দেবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলে তার ঠাকুরগাঁও-৩ আসনটি শূন্য হবে।
সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানান, চিফ হুইপের পর বক্তব্য দিতে দাঁড়ান বিএনপির সদ্য বিদায়ি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তব্যের শুরুতেই আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। স্মরণ করেন প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। কৃতজ্ঞতা জানান দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও।
বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তার কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। তিনি বলেন, দল তাকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, জীবন দিয়ে হলেও তিনি সেই সম্মান রক্ষা করবেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না।
বঙ্গভবনে যাওয়ার পর সহকর্মীদের মিস করবেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল সবার কাছে দোয়া চান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। পরে দলে মির্জা ফখরুলের অবদান স্বীকার করে তার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সভায় অংশ নেওয়া একাধিক সংসদ সদস্য জানান, কয়েক মিনিটের বক্তব্যে অন্তত চার-পাঁচবার কেঁদেছিলেন মির্জা ফখরুল। এতে সভায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রীও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় শপথ নেবেন নতুন রাষ্ট্রপতি : নতুন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ২১ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শপথ নেবেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, বঙ্গভবনের দরবার হলে এ শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, ঊর্ধ্বতন বেসামরিক, সামরিক কর্মকর্তা, কূটনীতিক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত থাকবেন।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই ‘শারীরিক ও মানসিক’ গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়েন মো. সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রচারের সুযোগ নেই বললেন সিইসি : রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রচারের সুযোগ নেই, এমনকি নির্বাচনি স্থানে উপস্থিত থেকেও কোনো ধরনের প্রচার চালানো যাবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। বুধবার নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন। সারা বিশ্ব এ নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে। নির্বাচনের সময় কোনো ধরনের প্রচার করা যাবে না।
একটি সুন্দর নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে সিইসি বলেন, ঐতিহাসিক এ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। আমাদের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই। সব স্টেকহোল্ডারের সহযোগিতাও পাওয়া যাচ্ছে। আশা করি একটি সুন্দর নির্বাচন হবে। বিশ্ববাসী এ নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে। ১৯৯১ সালের পর প্রথমবারের মতো এ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এটা আমার জন্য ভাগ্যের বিষয়।
তিনি আরও বলেন, ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গণনা শেষে তিনি যে ফল ঘোষণা করবেন, সেটিই চূড়ান্ত। এরপর ওইদিনই গেজেট প্রকাশ করা হবে।
সিইসি জানান, আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী সংসদের অধিবেশন থাকলে একভাবে এবং অধিবেশন না থাকলে অন্যভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অধিবেশন না থাকলে সিইসি বৈঠক আহ্বান করতে পারেন এবং সেই বৈঠকে সংসদ সদস্যরা ভোট দেন। এবারও এ ধরনের বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।
ভোটের ফলাফল সম্পর্কে সিইসি বলেন, যাচাই-বাছাই ও ভোটের ফলাফলে সিইসি বা নির্বাচনি কর্তা হিসেবে আমি যে ফল ঘোষণা করব, সেটিই চূড়ান্ত। ভোটের দিনই ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে। ভোটগ্রহণের সময় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের ভোট দেওয়ার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। বিটিভি এ সম্প্রচারে থাকতে পারে। এরপর সম্প্রচার বন্ধ থাকবে এবং ভোট গণনার সময় আবার সম্প্রচার করা হবে।
ভোটাররা ভোট দেওয়ার পর সংসদে অবস্থান করতে পারবেন এবং গণনার সময়ও উপস্থিত থাকতে পারবেন। গণনা শেষে সবার সামনে বিস্তারিত ফলাফল ঘোষণা করা হবে। কতটি ব্যালট বাতিল হয়েছে, কতটি নষ্ট হয়েছে, কত ভোট পড়েছে এবং প্রত্যেক প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন- সব তথ্য প্রকাশ করা হবে। এরপর বিজয়ী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।
প্রসঙ্গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি অসুস্থতা দেখিয়ে পদত্যাগ করলে ৬ আগস্ট শূন্যপদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। বিএনপি ও সমমনাদের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট অলি আহমদ ভোটে রয়েছেন।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে