একনেকে ৯,৩৩৩ কোটির ১০ প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের

2026-08-20T01:15:29+00:00
2026-08-20T01:15:29+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬,
৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
একনেকে ৯,৩৩৩ কোটির ১০ প্রকল্প অনুমোদন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১:১৫ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন রয়েছে ৮ হাজার ৪৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা ও প্রকল্প ঋণ ৯৩৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে ছয়টি নতুন ও চারটি সংশোধিত।

বুধবার প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এই প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় উন্নয়ন ও সংস্কারের পাঁচ বছরের কৌশলপত্রের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জন্য দুটি প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাঙ্কার জাহাজ কেনার প্রকল্প অনুমোদন পায়নি। প্রায় ১ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি আরও পর্যালোচনার জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই কারণ দেখিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও নদী সুরক্ষায় প্রায় ৫৬৭ কোটি টাকার তুরাগ নদ সুরক্ষা ও সংরক্ষণ প্রকল্প (প্রথম পর্যায়)।

প্রকল্প দুটি অনুমোদন না দেওয়ার বিষয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকী সভা শেষে সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সময় চারটি অয়েল ট্যাঙ্কার কেনার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। তাই এই প্রকল্পের সঙ্গে কোনো দ্বৈততা রয়েছে কি না, সেটা দেখে এই প্রকল্পের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, একইভাবে তুরাগ নদ রক্ষার বদলে তুরাগ থেকে বুড়িগঙ্গা পর্যন্ত একটি সমন্বিত প্রকল্পের চিন্তা করা হচ্ছে। আরো বিস্তৃত পরিসরে প্রকল্পটি আনা হতে পারে।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলো কী : একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে আছে- ঢাকা মেডিকেল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনাগুলো প্রতিস্থাপন ও পুননির্মাণ, ১০টি মেডিকেল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জন্য আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ১৯টি হোস্টেল ভবন নির্মাণ, বাংলাদেশে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের অধীন সেতুর স্মার্ট রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তির সক্ষমতা উন্নয়ন, ধরলা নদীর ডান তীরের ভাঙ্গন থেকে লালমনিরহাট সদর উপজেলা রক্ষা, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালী করা, গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালী করা, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সক্ষমতা জোরদার করা, জামালপুরের মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধন), ডেসকোর এলাকায় বৈদ্যুতিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ (প্রথম সংশোধন) ও রামু সেনানিবাসের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন।

সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


ঢামেক হাসপাতাল আধুনিকায়নে ১১৫৪ কোটি টাকার প্রকল্প : একনেকে অনুমোদিত ১০ প্রকল্পের মধে অন্যতম একটি হচ্ছে চিকিৎসায় দেশের মানুষের নির্ভরতার নাম ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের প্রকল্প। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সুনামের সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এখানে চিকিৎসা নেন। পাশাপাশি দক্ষ চিকিৎসক তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ঢামেক।

তবে দেশের মানুষের চিকিৎসার আস্থার এই প্রতিষ্ঠানটি নিজেই এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত। পুরোনো ও জীর্ণ ভবন, আবাসন সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যায় ঢামেকের অবকাঠামোগত পরিস্থিতি অনেকটা ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ঢামেককে নতুন রূপে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনাগুলো প্রতিস্থাপন ও পুনর্র্নিমাণ’ প্রকল্পটি এক হাজার ১৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সভা শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকী প্রকল্পের সার্বিক বিষয়ে ব্রিফ করেন।
 
তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ডিএমসি) সম্প্রসারণ, উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। বর্তমান একাডেমিক ভবন ও হোস্টেলগুলো মেরামতের অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, গবেষণা ও সৃজনশীলতার সুযোগ বাড়াতে একাডেমিক ভবন, হোস্টেল, লেকচার থিয়েটার, এক্সাম হল, প্রার্থনা কক্ষ ও অডিটোরিয়ামসহ আধুনিক সব সুবিধা রাখা হবে। এসব সুবিধা নিশ্চিত করে একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে স্থাপত্য অধিদফতরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ী প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাবিত অবকাঠামো : ঢাকা মেডিকেল কলেজকে আধুনিকায়নে নেওয়া প্রকল্পের আওতায় দুটি বেজমেন্টসহ ১৫ তলা আবাসিক কোয়ার্টার ভবন, একটি বেজমেন্টসহ ১৫ তলা ৮০০ আসনের শিক্ষার্থী হোস্টেল, বেজমেন্টসহ ১৫ তলা একাডেমিক ভবন, ৩০০ আসনের চারটি লেকচার থিয়েটার, ৩০০ আসনের দুটি পরীক্ষা কক্ষসহ চার তলা সার্ভিস ভবন, ৮০০ মুসল্লির ধারণক্ষমতার চারতলা মসজিদ, অন্যান্য অনাবাসিক ভবন ও আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি বাউন্ডারি ওয়াল, অভ্যন্তরীণ সড়ক ও কালভার্ট, সেন্ট্রি পোস্ট, ওয়াকওয়ে, ফুটপাথ ও কম্পাউন্ড ড্রেন নির্মাণ করা হবে।

এ ছাড়া ‘ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট ফর স্মার্ট মেইনটেন্যান্স টেকনোলজি ফর ব্রিজেস আন্ডার রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে ডিপার্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’, ‘ধরলা নদীর ডান তীরের ভাঙন হতে লালমনিরহাট জেলার সদর উপজেলা রক্ষা’, ‘চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট এবং বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট থেকে কুমিরা ঘাট পর্যন্ত উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালীকরণ’, ‘গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ’, ‘প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সক্ষমতা জোরদারকরণ (তৃতীয সংশোধিত)’, ‘জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ এবং ‘ঢাকাস্থ ডেসকো এলাকায় বৈদ্যুতিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ (প্রথম সংশোধন)’ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘রামু সেনানিবাসের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।

অন্যদিকে বর্তমানে দেশে দেড় মাসের জ্বালানি তেলের মজুদ রয়েছে উল্লেখ করে সরকার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এটিকে ছয় মাসে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকী। 

তিনি বলেন, বর্তমানে দেড় মাসের তেলের মজুদ আছে। এটি দ্রতই তিন মাস করা হবে। আমরা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা হিসেবে এটিকে ছয় মাস করার পরিকল্পনা করছি। মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে বয়লার বা কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। এটি সমাধান হয়েছে। গ্যাস-বিদ্যুৎ চাহিদা অনুযায়ী আমাদের নেই। এর সমাধানে সরকার গ্যাস উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুতে যাচ্ছে। সরকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করবে।

জোনায়েদ সাকী বলেন, বিদ্যুৎ সংকট দূর করতে আমরা কাজ করছি। সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে, এটা দূর করা হচ্ছে। প্রয়োজন মেটাতে আমরা গ্যাস আমদানি করছি। তবে গ্যাস আমদানি করলেই হবে না, এলএনজি স্টেশনও লাগবে। এটি বসাতেও সময় লাগবে।


সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে


  বিষয়:   একনেক  প্রকল্প  অনুমোদন  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: