সাংবিধানিক নিয়ম রক্ষায় ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ আজ। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে এই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ভোটের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।
এর আগে ১৯৯১ সালে সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে ভোটাভুটি হয়। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ, বীর বিক্রম।
এই নির্বাচন সামনে রেখে সংসদ সদস্যদের ভোট প্রদানের জন্য ৯ দফা নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ২০২৬’ শীর্ষক নির্দেশনায় এসব নির্দেশনার কথা বলা হয়েছে।
যেসব নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে সংসদ সদস্যদের
১. সংসদ কক্ষে প্রবেশ
২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে সংসদ কক্ষে প্রবেশ করে ব্যালট সংগ্রহের পর ভোট দিতে হবে। এ সময় টানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
২. আইডি কার্ড সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক
সংসদ কক্ষে প্রবেশের সময় সংসদ সচিবালয় থেকে দেওয়া আইডি কার্ড সঙ্গে রাখতে হবে।
৩. ব্যালট সংগ্রহের নিয়ম
নিজ আসনে বসার পর সহায়তাকারী কর্মকর্তার কাছ থেকে নিজের নাম ও বিভক্তি নম্বর সংবলিত ব্যালট পেপার সংগ্রহ করতে হবে। ব্যালটের কাউন্টার ফয়েল বা চেকমুড়িতে নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম লিখে সেটি সহায়তাকারী কর্মকর্তার কাছে ফেরত দিতে হবে।
৪. পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়া
ব্যালট পেপারের নির্ধারিত অংশে পছন্দের প্রার্থীর নামের বিপরীতে থাকা নির্দিষ্ট ফাঁকা স্থানে নিজের পূর্ণ নাম লিখে ভোট দিতে হবে।
৫. ব্যালট বাক্সে ব্যালট জমা
ভোট দেওয়া শেষ হলে ব্যালট পেপারটি সংসদ কক্ষে রাখা নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে জমা দিতে হবে।
৬. ব্যালট পেপার নষ্ট হলে করণীয়
কোনো কারণে ব্যালট পেপার নষ্ট হয়ে গেলে সেটি ব্যালট বাক্সে দেওয়ার আগে নির্বাচনকর্তার কাছে দেখাতে হবে। এরপর নির্বাচনকর্তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
৭. নির্বাচনী প্রচার নিষিদ্ধ
ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে সংসদ সদস্যদের বৈঠকে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচার, বক্তব্য কিংবা ভাষণ দেওয়া যাবে না।
৮. সমস্যা হলে চিফ হুইপের সঙ্গে যোগাযোগ
ভোট দেওয়ার সময় কোনো তাৎক্ষণিক সমস্যা দেখা দিলে চিফ হুইপ এবং বিরোধীদলের চিফ হুইপের সহায়তা নিতে হবে।
৯. ব্যালটে পূর্ণ নাম লিখতে হবে
ব্যালট পেপারে ভোটারের পূর্ণ স্বাক্ষরের কথা উল্লেখ থাকা স্থানে স্বাক্ষরের পরিবর্তে পূর্ণ নাম লিখতে হবে।
বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভোট গণনার কাজ শুরু হবে। প্রথমে কতজন ভোট দিয়েছেন, কতটি ব্যালট বৈধ ও বাতিল হয়েছে এবং কতটি ব্যালট অব্যবহৃত রয়েছে, এসব হিসাব করা হবে। এরপর প্রার্থীরা যে বৈধ ভোট পেয়েছেন, তা গণনা করা হবে। সর্বাধিক বৈধ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে নির্বাচনকর্তা বিজয়ী ঘোষণা করবেন। পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কমিশন ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করবে।
এর আগে গত ২৪ জুলাই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ২২তম রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর ৬ আগস্ট শূন্য পদে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ১৩ আগস্ট বিএনপি মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় ঐক্য মনোনীত অলি আহমদ মনোনয়নপত্র জমা দেন। ১৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত যাচাই-বাছাইয়ে দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ