ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নারী শিক্ষার্থীদের হলে আরোপিত ‘সান্ধ্য আইন’ ১ ঘণ্টা শিথিল করার প্রশাসনিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আইনটি সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানিয়েছে ‘অবরোধবাসিনী’ প্ল্যাটফর্মের শিক্ষার্থীরা।
তাদের মতে, নিরাপত্তার অজুহাতে চলাচল সীমিত করা কোনো সমাধান নয়; ক্যাম্পাসে সর্বাত্মক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে রোকেয়া হলের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অবস্থান ব্যক্ত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শামসুন্নাহার হলের শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান ইমু বলেন, গত ৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর ১ হাজার ২০০-এর বেশি নারী শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরসহ স্মারকলিপি দেওয়া হয় এবং ১০ আগস্ট সংহতি সমাবেশের মাধ্যমে প্রশাসনকে সন্ধ্যা আইন বাতিলের বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রশাসন সব দাবি উপেক্ষা করে কেবল এক ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিলের একটি প্রস্তাব দিয়েছে।
তাদের মতে, এ ধরনের প্রস্তাব নারী শিক্ষার্থীদের নাগরিক ও মৌলিক অধিকারকে খর্ব করে এবং প্রশাসনের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, হলে প্রবেশের বিধিনিষেধ ছাড়াও পুরো ক্যাম্পাসে বৈষম্যমূলক নীতি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাত ১০টার পর ক্যাম্পাসে অবস্থান, কার্জন হলে প্রবেশ এবং জিমনেশিয়ামের ইনডোর গেমসে সন্ধ্যা ৭টার পর খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
এ ছাড়া রাতে বিশেষ প্রয়োজনে বাইরে গেলে প্রশাসনের লিখিত মুচলেকায় নিতে হয়, যেখানে ‘নিরাপত্তার দায় বিশ্ববিদ্যালয় নেবে না’— এমন শর্ত যুক্ত থাকে, যা পুরুষ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, বৈষম্যমূলক সান্ধ্যকালীন কারফিউ বাতিল করে ২৪ ঘণ্টা অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করা, পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে যেকোনো হলে প্রবেশ ও রাতে অবস্থান এবং নারী স্বজনদের প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি, পথসভাসহ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সময়ের আলো/জেডি