জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আবাসন সংকট নিরসন ও গণরুম সংস্কৃতি বিলুপ্তির লক্ষ্যে নির্মিত নতুন ছয়টি আবাসিক হল চালুর পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখনও ভবনগুলোর সামনে স্থায়ী নামফলক স্থাপন করা হয়নি। ১০ তলাবিশিষ্ট এসব হলের কয়েকটিতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা বসবাস করলেও ভবনের পরিচয় জানানোর মতো দৃশ্যমান ও স্থায়ী কোনো নামফলক নেই।
এর ফলে নতুন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের পাশাপাশি বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী সংস্থার লোকজনকেও হলগুলো শনাক্ত করতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণের পরও নামফলক স্থাপনের মতো মৌলিক কাজ দীর্ঘদিন ঝুলে থাকায় প্রশাসনিক উদ্যোগের ধীরগতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
২০১৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় নির্মিত নতুন ছয়টি আবাসিক হলের নির্মাণকাজ ২০২৩ সালে শেষ হয়। একই বছর ১০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় হলগুলোর নাম চূড়ান্ত করা হয়।
নতুন ছয় হলের মধ্যে দুটি হলের নাম পরবর্তীতে পরিবর্তন করা হয়। ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় শেখ রাসেল হলের নাম পরিবর্তন করে নবাব সলিমুল্লাহ হল এবং ফজিলাতুন্নেসা হলের নাম পরিবর্তন করে শহীদ ফেলানী হল করা হয়। একই সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও দুটি পুরোনো হলের নাম পরিবর্তন করা হয়।
তবে নাম পরিবর্তনের পরও সংশ্লিষ্ট ভবনগুলোতে নতুন নামের স্থায়ী নামফলক স্থাপন করা হয়নি। ফলে নতুন নাম নির্ধারণের পরও ভবনগুলোর পরিচিতি দৃশ্যমানভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।
নতুন আবাসিক হলগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক নতুন অংশে অবস্থিত। এসব ভবনের সামনে স্থায়ী নামফলক না থাকায় প্রথমবার ক্যাম্পাসে আসা শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের অনেক সময় হল শনাক্ত করতে অন্যের সহায়তা নিতে হয়। একই সমস্যায় পড়েন বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রতিটি হলের সামনে স্থায়ী ও দৃষ্টিনন্দন নামফলক স্থাপন করা হলে ভবনগুলোর পরিচিতি যেমন স্পষ্ট হতো, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক সৌন্দর্যও বাড়ত। দীর্ঘদিনেও নামফলক স্থাপন না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
নামফলক স্থাপনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. লুৎফুল এলাহী বলেন, ‘আমি এর আগে আগের প্রভোস্ট কমিটির সভাপতির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। তখন আমি নামফলকের একটি আনুমানিক নকশা ও ব্যয়ের হিসাবও দিয়েছিলাম। এখন আমি নিজেই প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি। বিষয়টি নিয়ে ছয় হলের প্রভোস্টদের সঙ্গে কথা বলব। এরপর আমরা একটি সভা করে দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
সময়ের আলো/এসএকে