ছাত্রত্ব শেষ, তবু হলে জাকসুর তিন নেতা

জাবি প্রতিনিধি

শিক্ষা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) প্রতিষ্ঠার পর শিক্ষার্থীদের অধিকার ও কল্যাণে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হলেও সংগঠনটির কয়েকজন নেতার

2026-08-19T14:49:45+00:00
2026-08-19T14:49:45+00:00
 
  বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬,
৪ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
শিক্ষা
ছাত্রত্ব শেষ, তবু হলে জাকসুর তিন নেতা
জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪৯ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) প্রতিষ্ঠার পর শিক্ষার্থীদের অধিকার ও কল্যাণে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হলেও সংগঠনটির কয়েকজন নেতার আবাসিক হল ছাড়ার বিষয়টি এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যাওয়ার পরও জাকসুর ভিপিসহ তিন নেতা আবাসিক হলে অবস্থান করছেন— এমন অভিযোগ ও তথ্য পাওয়া গেছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আবাসিক হল নিয়মিত ও বৈধ শিক্ষার্থীদের জন্যই নির্ধারিত।

জাকসুর বর্তমান কার্যকাল আগামী সেপ্টেম্বরেই শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্যেই ছাত্রত্ব শেষ হওয়া তিন নেতার হলে অবস্থানের বিষয়টি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—জাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার অপেক্ষাতেই কী প্রশাসনিক পদক্ষেপ আটকে আছে?

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছাত্রত্ব শেষ হওয়া তিন জাকসু নেতার মধ্যে রয়েছেন— আল- বেরুনী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও জাকসুর ভিপি আবদুর রশিদ জিতু, ফজিলাতুন্নেছা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও এজিএস (নারী) আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা এবং ফেলানী খাতুন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক ফারহানা আক্তার লুবনা।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও তাদের হলে অবস্থান অব্যাহত থাকা আবাসিক হলের নিয়ম ও ন্যায্যতার প্রশ্ন তুলছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে আবাসিক আসনের সংকট এবং শিক্ষার্থীদের আসন পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘ অপেক্ষার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তাদের দাবি, সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য যে নিয়ম প্রযোজ্য, জাকসুর নেতাদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর হওয়া উচিত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সিদ্ধান্ত না আসায় অছাত্রদের হলে থাকার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।


তবে একই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার আগেই মওলানা ভাসানী হলের আবাসিক আসন ছেড়ে দিয়ে ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ফলে একই জাকসুর নেতাদের মধ্যে কেউ নিয়ম মেনে হল ছাড়লেও অন্যদের ক্ষেত্রে কেন একই ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে না— এ প্রশ্নও সামনে এসেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জাকসুর ভিপি আবদুর রশিদ জিতুর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে জাকসুর এজিএস (নারী) আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা বলেন, তার ব্যক্তিগত কিছু জিনিসপত্র ইতোমধ্যে হল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাকি মালামালও শিগগিরই সরিয়ে নেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি হলে অবস্থান করছেন না।

সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক ফারহানা আক্তার লুবনা বলেন, মাস্টার্সের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর চাকরির প্রস্তুতির জন্য তিনি বাসায় চলে গেছেন। এ কারণে পুরোপুরি জিনিসপত্র গুছিয়ে হল থেকে শিফট করা সম্ভব হয়নি। খুব শিগগিরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে হল ছেড়ে দেবেন।

‘খুব শিগগিরই’ বলতে কতদিন— এমন প্রশ্নের জবাবে দুই নারী নেত্রী জানান, এক মাসের মধ্যেই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে হল ছেড়ে দেবেন।

বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তি, জাবির সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান অভিযোগ করেন, জাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার অপেক্ষায় থেকে প্রশাসন মূলত কালক্ষেপণ করছে। এর ফলে ছাত্রত্ব শেষ হওয়া ব্যক্তিরা নিয়ম ভেঙে হলে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন বলে দাবি তার।

অন্যদিকে ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও জাকসুর দুই নারী নেত্রীর হল না ছাড়ার বিষয়ে জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, সবার ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। তারা খুব শিগগিরই নিজ দায়িত্বে হল ত্যাগ করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অছাত্রদের হল ছাড়ার দাবিতে জাকসুর পক্ষ থেকে প্রশাসনকে দেওয়া আল্টিমেটামের সময়সীমা পার হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় ক্ষোভ রয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে। এ বিষয়ে জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, উপাচার্যের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। এক-দুই দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত না হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ে পরবর্তী কর্মসূচিতে যেতে তারা বাধ্য হবেন।

ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও হলে অবস্থানের বিষয়টি অছাত্র রাজনৈতিক ব্যক্তিদের হলে থাকার পথ সুগম করছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, অছাত্রদের হল ছাড়ার বিষয়ে জাকসুর দেওয়া আল্টিমেটামের পর প্রশাসনিকভাবে বৈঠক হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে উপাচার্যের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, অছাত্রদের হলে থাকার বিষয়ে জাকসুর আল্টিমেটামকে প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণে মাঝামাঝি একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি আমরা।

জাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ছাত্রত্ব শেষ হওয়া নেতাদের আবাসিক হল ছাড়ার বিষয়টি কীভাবে নিষ্পত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। কারণ একদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হলের আসন সংকট, অন্যদিকে ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও নির্বাচিত নেতাদের হলে অবস্থানের অভিযোগ— দুইয়ের মধ্যে সমতা নিশ্চিত করা প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে একই জাকসুর জিএস ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার আগেই হল ছেড়ে দেওয়ার পর ভিপিসহ অন্য নেতাদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। ফলে প্রশ্নটি এখন শুধু তিন নেতার হল ছাড়ার নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হবে কি না— সেটিও।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   ছাত্রত্ব  হল  জাকসু  নেতা  জাবি  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
শিক্ষা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: