মির্জা ফখরুলের অভিনয়জীবনের অজানা গল্প

আনন্দ সময় ডেস্ক

আনন্দ সময়

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এরই মধ্যে তার রাজনৈতিক

2026-08-23T00:54:34+00:00
2026-08-23T00:54:34+00:00
 
  রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬,
৮ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
আনন্দ সময়
মির্জা ফখরুলের অভিনয়জীবনের অজানা গল্প
আনন্দ সময় ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৪ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এরই মধ্যে তার রাজনৈতিক জীবনের বাইরের এক অজানা অধ্যায়ের কথা তুলে ধরেছেন জনপ্রিয় নির্মাতা, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার ছটকু আহমেদ।

ছটকু আহমেদের স্মৃতিচারণা থেকে জানা যায়, রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠার অনেক আগে নাটকের মঞ্চে নায়ক হিসেবে অভিনয় করতেন মির্জা ফখরুল। পাশাপাশি আবৃত্তিতেও তার ছিল বেশ দক্ষতা।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর মির্জা ফখরুলের সঙ্গে অতীতের কয়েকটি ছবি নিজের ফেসবুকে প্রকাশ করেন ছটকু আহমেদ। দীর্ঘ এক স্মৃতিচারণায় তিনি ফিরে যান প্রায় পাঁচ দশক আগের সময়ে। সেখানে উঠে আসে রাজনীতির বাইরের মির্জা ফখরুলের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের নানা গল্প।

ছটকু আহমেদ লেখেন, ১৯৭২-৭৩ সালে তিনি ঠাকুরগাঁও ইরিগেশন বিভাগে সেকশন অফিসার হিসেবে সরকারি চাকরি করতেন। তখনই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে তার পরিচয়। তিনি থাকতেন ওয়াপদা সরকারি কলোনিতে। বিকেলে যেতেন পাবলিক লাইব্রেরিতে। সেখানে মির্জা ফখরুল, ফনি পালিত ও অধ্যাপক মনতোষ বাবুর সঙ্গে আড্ডা-আলাপ এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ছিল নিয়মিত ঘটনা।

সেই সময়ের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তিনি জানান, ঢাকা থেকে প্রখ্যাত অভিনেত্রী আনোয়ারার ছোট বোন নার্গিসকে নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের বলাকা সিনেমা হলে নাটকও করেছিলেন তারা। নার্গিস তখন নাটকের নায়িকা ছিলেন, পরে সিনেমায়ও অভিনয় করেন। পাশাপাশি মোড়ে পল্টুদার চায়ের দোকানে আড্ডায়ও কেটে যেত তাদের সময়।

মির্জা ফখরুলের অভিনয় প্রতিভার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন ছটকু আহমেদ। তিনি লিখেছেন, সুঠাম-সুন্দর এবং ভরাট কণ্ঠের অধিকারী মির্জা ফখরুল তখন নায়কের চরিত্রে অভিনয় করতেন, পাশাপাশি আবৃত্তিও করতেন। তার অভিনয়ে দর্শকদের হাততালিতে হল মুখর হয়ে উঠত।


পরে চাকরির কারণে ঠাকুরগাঁও ছেড়ে ঢাকায় চলে আসেন ছটকু আহমেদ। দীর্ঘ সময় পর গুলশানের সমরখন্দ লেমনগ্রাস রেস্তোরাঁয় মির্জা ফখরুলের সঙ্গে আবার দেখা হয় তার। সেখানেই জানতে পারেন, একসময়ের পরিচিত ‘আলমগীর সাহেব’ তখন মন্ত্রী হয়েছেন।

এরপর জিয়া শিশু একাডেমির একটি অনুষ্ঠানে তাদের আবার দেখা হয়। তত দিনে মির্জা ফখরুল বিএনপির মহাসচিব। সেই সাক্ষাতের কথা স্মরণ করে ছটকু আহমেদ জানান, তাঁকে দর্শকসারিতে বসে থাকতে দেখে মির্জা ফখরুল ডেকে মঞ্চে তুলে নেন এবং বিশেষ সম্মাননা হিসেবে ‘কমল পদক’ তুলে দেন।

সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও নাট্যসমিতি আয়োজিত ‘এই লভিনূ সঙ্গ তব’ অনুষ্ঠানে নিজের নাট্যজীবনের স্মৃতিচারণা করতে গিয়েও মির্জা ফখরুল তার নাম উল্লেখ করেছেন বলে জানান ছটকু আহমেদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক শ্রোতা পরে বিষয়টি তাঁকে মেসেজ করে জানান।

দীর্ঘদিনের পরিচিত সেই মানুষটি দেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ায় আবেগঘন অভিনন্দনও জানিয়েছেন ছটকু আহমেদ। তিনি লিখেছেন, অসাধারণ মানবিক ও সংস্কৃতিবান সেই ‘আলমগীর সাহেব’ এখন দেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার ভাষায়, রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি এখন কোনো দলের নন, পুরো রাষ্ট্রের।

মির্জা ফখরুলের সুস্থতা, প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা ও শক্তি কামনা করে ছটকু আহমেদ আশা প্রকাশ করেন, তিনি দল-মতনির্বিশেষে দেশের মানুষের কল্যাণ, গণতন্ত্রের মর্যাদা এবং জাতীয় ঐক্যের জন্য নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করবেন।

ছটকু আহমেদের এই স্মৃতিচারণায় মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরের একটি ভিন্ন অধ্যায় সামনে এসেছে। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে নাটকের মঞ্চে অভিনয় ও আবৃত্তিতে যুক্ত থাকা সেই সময়ের মির্জা ফখরুলকে ঘিরে দীর্ঘদিনের পরিচয়ের নানা স্মৃতিই তুলে ধরেছেন এই বরেণ্য নির্মাতা।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   মির্জা ফখরুল  অভিনয়জীবন  অজানা গল্প  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
আনন্দ সময়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: