গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের জন্য নতুন একটি অধিদফতর গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। ক্ষতিগ্রস্তদের কল্যাণ, চিকিৎসা, আইনি সুরক্ষা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করাই হবে এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
রোববার (২৩ আগস্ট) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় অধিদফতর গঠনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ও সচিব মো. আশরাফুল ইসলামসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের অধিকার এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে নতুন আইন প্রণয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬ সংশোধন করে এ-সংক্রান্ত দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় আনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদফতর’ গঠন করা হয়েছে। একইভাবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে যারা গুম, খুন, নির্যাতন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, তাদের ত্যাগেরও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল মানবাধিকার সুরক্ষা, রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগ বন্ধ এবং ভোটাধিকারের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। অথচ ২০০৯ সালের পর ভোটের অধিকার হরণ, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেই চেতনা পদদলিত করা হয়েছে।
সময়ের আলো/এমকে