রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অনির্দিষ্টকাল বিনাবিচারে আটকে না রাখার আহ্বান

জাতীয়

বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনীতিবিদ ও অন্যদের অনির্দিষ্টকাল ধরে বিনাবিচারে আটকে রাখা বন্ধের জন্য হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

2026-08-24T17:25:09+00:00
2026-08-24T18:02:41+00:00
 
  সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬,
৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অনির্দিষ্টকাল বিনাবিচারে আটকে না রাখার আহ্বান
প্রকাশ: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২৫ পিএম  আপডেট: ২৪.০৮.২০২৬ ৬:০২ পিএম
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অনির্দিষ্টকাল বিনাবিচারে আটকে না রাখার আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনীতিবিদ ও অন্যদের অনির্দিষ্টকাল ধরে বিনাবিচারে আটকে রাখা বন্ধের জন্য হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।  

সোমবার (২৩ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃতিতে এইচআরডব্লিউ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত, অভিযুক্তদের নির্দোষ হিসেবে বিবেচনার নীতি অনুসরণ এবং আটক ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার আরও সুরক্ষিত করার আহ্বান জানায়।

এইচআরডব্লিউ বলেছে, ২০২৪ সালের আগস্টে কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভের পর শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা, কর্মী ও সমর্থককে আটক করে পুলিশ।

সংস্থাটির ভাষ্যমতে, হাসিনার সরকারের আমলে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে কিছু কর্মকর্তা জড়িত থাকতে পারেন। তবে অনেককে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ ছাড়াই আন্দোলনকারীদের হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়াবিষয়ক পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেন, এক সরকারের পর আরেক সরকার প্রমাণ বা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই শত শত বিরোধী দলের সদস্যকে কারাগারে রেখেছে। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাই প্রথমেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দীর্ঘদিন বিচারবহির্ভূতভাবে আটক রাখা বন্ধ করা উচিত। 

এইচআরডব্লিউর তথ্যমতে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অন্তত ১০ জন আওয়ামী লীগ নেতা কারাগারে মারা গেছেন। তাদের বেশির ভাগের বিরুদ্ধেই কোনো অপরাধে জড়িত থাকার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি।

আটক ব্যক্তিদের পরিবার ও আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের অনেকেই বয়স্ক বা নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। কিন্তু তারা জামিন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাননি।

এইচআরডব্লিউ বলেছে, যেসব মামলায় কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি, সেসব ক্ষেত্রেও প্রসিকিউশন বারবার জামিনের বিরোধিতা করেছে। নিম্ন আদালতগুলোও নিয়মিত জামিন আবেদন নাকচ করেছে বলে অভিযোগ সংস্থাটির। 

এ ছাড়া উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও কর্তৃপক্ষ নতুন মামলা করে মুক্তি ঠেকিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে এইচআরডব্লিউ। সংস্থাটি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের মামলার উদাহরণ দিয়েছে। ৮২ বছর বয়সী খায়রুল হককে ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই একজন আন্দোলনকারীকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। পরে দুর্নীতির অভিযোগসহ আরও চারটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।  

উচ্চ আদালত এসব মামলায় জামিন দিলেও মুক্তির আগেই পুলিশ তার বিরুদ্ধে নতুন মামলা করে বলে এইচআরডব্লিউর অভিযোগ। এক ঘটনায় পুলিশ দাবি করে, ১০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে অবস্থিত দুটি পৃথক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলে একই সময়ে তিনি উপস্থিত ছিলেন।

শেষ পর্যন্ত আপিল বিভাগের হস্তক্ষেপে ১৯ আগস্ট খায়রুল হক মুক্তি পান। এইচআরডব্লিউ বলেছে, কারাগারে থাকার পুরো সময়ে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি। 

অন্য কয়েকজন আটক ব্যক্তির আইনজীবীরা সংস্থাটিকে জানিয়েছেন, এখন তারা তাদের মক্কেলদের জামিনের আবেদন না করার পরামর্শ দিচ্ছেন। কারণ, মুক্তি নিশ্চিত হলে পুলিশ নতুন মামলা দিতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও অভিযোগ গঠন ছাড়াই মানুষকে আটকে রাখার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটির মতে, ট্রাইব্যুনাল ১৬০ জনের বেশি মানুষকে আটক রেখেছে এবং তাদের কাউকেই জামিন দেয়নি।  


শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী ৮১ বছর বয়সে অভিযোগ গঠন ছাড়াই ২২ মাস ধরে আটক রয়েছেন বলে জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ।

সংস্থাটির দাবি, তাকে জামিন দেওয়া হয়নি। আবার এক বছরের বেশি সময় ধরে আটক রাখার জন্য প্রয়োজনীয় 'ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি'ও ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেনি।

সাবেক সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদারও ৭৫ বছর বয়সে ২২ মাস ধরে আটক রয়েছেন বলে জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ।

তার পরিবার সংস্থাটিকে জানিয়েছে, কারাগারে তার গ্যাংগ্রিন হওয়ায় পায়ের তিনটি আঙুল কেটে ফেলতে হয়েছে। পরে কারাগারে পড়ে গিয়ে তার নিতম্বের হাড়ও ভেঙে যায়। গত জুলাইয়ে ট্রাইব্যুনাল তার জামিন আবেদন নাকচ করে। 

এদিকে, বেশ কয়েকজন আটক ব্যক্তিকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া হয়নি বলেও তাদের পরিবারের অভিযোগের কথা জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি হেফাজতে মারা যান। ২০২৪ সালের আগস্টে তাকে তিনটি হত্যা ও একটি বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার বয়স ছিল ৮৫ বছর। পরিবারের অভিযোগ, তাকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জামিন দেওয়া হয়নি। 

একইভাবে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এস এম জিয়াউল হক জিয়া ১৪ এপ্রিল মারা যান। ৬৫ বছর বয়সী জিয়াকে ৬ জানুয়ারি আটক করা হয়েছিল। পরিবারের দাবি, তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং তাকেও জামিন দেওয়া হয়নি।

এলেইন পিয়ারসন বলেন, যে বিচারব্যবস্থায় বয়স্ক মানুষদের অভিযোগ গঠনের আগেই হেফাজতে মৃত্যু হয়, সেখানে বিচারহীন আটককে ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।

তিনি সব কারাগারে মৃত্যুর ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দেওয়া এবং কোনো অভিযোগ ছাড়াই মানুষকে দীর্ঘদিন বিচারবহির্ভূতভাবে আটক রাখা বন্ধ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।


সময়ের আলো/ইউএমএইচ


  বিষয়:   হিউম্যান রাইটস ওয়াচ  রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ  অনির্দিষ্টকাল  বিনাবিচারে 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: