ফেল করিয়ে দেওয়ার’ হুমকির পর অকৃতকার্য, উত্তরপত্র পাল্টানোর অভিযোগ

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

সারাদেশ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর উত্তরপত্র ও এমআর শিট নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এক শিক্ষার্থী। পরীক্ষার সময়

2026-08-27T16:39:46+00:00
2026-08-27T16:39:46+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬,
১২ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
ফেল করিয়ে দেওয়ার’ হুমকির পর অকৃতকার্য, উত্তরপত্র পাল্টানোর অভিযোগ
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৯ পিএম 
ফেল করিয়ে দেওয়ার’ হুমকির পর অকৃতকার্য, উত্তরপত্র পাল্টানোর অভিযোগ। ছবি : সমেয়র আলো
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর উত্তরপত্র ও এমআর শিট নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এক শিক্ষার্থী। পরীক্ষার সময় ‘ফেল করিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দেওয়ার পর কয়েকটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় উত্তরপত্রের সঙ্গে থাকা এমআর শিট পরিবর্তন করে ফলাফলে প্রভাব ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ধর্মপুর এসআইডি ভোকেশনাল অ্যান্ড কারিগরি কলেজের শিক্ষার্থী মো. আল-রিশাদ মুগ্ধ।

এ ঘটনায় বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তিনি। তার রোল নম্বর ১৬১৩১৭ এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২৭২৪১২১৬৬০।

লিখিত অভিযোগে আল-রিশাদ মুগ্ধ বলেন, পরীক্ষার শেষদিকে উত্তরপত্র জমা দেওয়ার সময় কয়েকজন শিক্ষক তাকে ‘ফেল করিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দেন। এমনকি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময়ও তাকে বাধা দেওয়া হয়েছিল।

শিক্ষার্থীর দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রধানসহ কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে তার বাবার পূর্ববিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জেরেই তাকে পরীক্ষায় অকৃতকার্য করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

আল-রিশাদের অভিযোগ, উত্তরপত্রের সঙ্গে থাকা এমআর শিট কৌশলে পরিবর্তন করা হয়ে থাকতে পারে। তার দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষকদের কয়েকজন পরীক্ষা কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বেও ছিলেন। ফলে উত্তরপত্র জমা দেওয়ার পর সংরক্ষণ, হস্তান্তর ও বোর্ডে পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়েও তার সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

তবে শিক্ষার্থীর প্রকাশিত মার্কশিট পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ে তিনি অকৃতকার্য হয়েছেন। বিপরীতে অন্যান্য কয়েকটি বিষয়ে তার ফলাফল বেশ ভালো। 

ফিজিক্সে ১৭৫ নম্বরের মধ্যে ১৪২ পেয়ে এ+, কেমিস্ট্রিতে ১৭৫-এর মধ্যে ১৪০ পেয়ে এ+ এবং কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনে ১০০-এর মধ্যে ৯০ পেয়ে এ+ পেয়েছেন তিনি। এছাড়া সেলফ অ্যামপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনারশিপে ৫০-এর মধ্যে ৩৬ পেয়ে এ, ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রয়িংয়ে ৫০-এর মধ্যে ৪৩ পেয়ে এ+, ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষায় ১৫০-এর মধ্যে ১০৬ পেয়ে এ পেয়েছেন। এ ছাড়া আইটি সাপোর্ট অ্যান্ড আইওটি বেসিকস-১ এ ৪০০-এর মধ্যে ৩৪৩ পেয়ে এ+, আইটি সাপোর্ট অ্যান্ড আইওটি বেসিকস-২ এ ৪০০-এর মধ্যে ৩৩৭ পেয়ে এ+, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট ট্রেনিংয়ে ১০০-এর মধ্যে ৯৭ পেয়ে এ+ এবং অ্যাকাউন্টিংয়ে ২০০-এর মধ্যে ১৩৬ পেয়ে এ- পেয়েছেন।

একাধিক বিষয়ে ভালো ফলাফলের বিপরীতে চারটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে শিক্ষার্থী ও তার পরিবার উত্তরপত্র এবং এমআর শিট যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে ভালো ফল করা বিষয়গুলোর তুলনায় অকৃতকার্য বিষয়গুলোর ফলাফলে কোনো অস্বাভাবিকতা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি তাদের।

আল-রিশাদ মুগ্ধ বলেন, আমি নিয়ম মেনে প্রতিটি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছি। কিন্তু পরীক্ষার সময় হুমকি দেওয়ার পর কয়েকটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় আমার সন্দেহ তৈরি হয়েছে। আমি চাই, আমার উত্তরপত্রসহ পুরো পরীক্ষাপ্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হোক।

শিক্ষার্থীর বাবা মুকুল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সেই বিরোধের প্রতিশোধ নিতে আমার ছেলেকে ফেল করিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার ছেলের উত্তরপত্র বোর্ডে না পাঠিয়ে সাদা খাতা জমা দেওয়া হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, আমি বোর্ডে গিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে ছেলের খাতা দেখেছি। সেখানে খাতাটি ফাঁকা ছিল। বিষয়টি নিয়ে আমি সুষ্ঠু সমাধান চাই।

এদিকে শিক্ষার্থীর ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক মো. রিয়াজুর ইসলাম বলেন, এই শিক্ষার্থী যথেষ্ট ভালো। ইংরেজি বিষয়ে তার ফেল করার কথা নয়। নিশ্চয়ই কোথাও কোনো সমস্যা হয়েছে।

গণিত বিষয়ের শিক্ষক দীপংকর চন্দ্র বলেন, আমি ওদের গণিত এবং বিজ্ঞান বিষয়ে পাঠদান দিয়েছি। আল-রিশাদ মুগ্ধ ফেল করার মতো স্টুডেন্ট না। হয়তোবা কোথাও কোনো ঝামেলা হয়েছে।

ধর্মপুর এসআইডি ভোকেশনাল অ্যান্ড কারিগরি কলেজের সুপারিনটেনডেন্ট (ভারপ্রাপ্ত) মোছা. মনজুয়ারা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বিষয়টি শুনে ব্যস্ততার কথা জানিয়ে পরে যোগাযোগ করতে বলেন। পরবর্তীতে তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার মো. বেলাল হোসেন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। তবে শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র বা এমআর শিটে কোনো ধরনের কারসাজি হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   ফেল  হুমকি  অকৃতকার্য  উত্তরপত্র  পাল্টানো  অভিযোগ  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: