মোগল আমলে নগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাজার তদারকি এবং কিছু বিচারিক ও পৌর প্রশাসনিক কাজের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান কর্মকর্তাকে বলা হতো ‘কোতোয়াল’। নগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ দমন, বাজারে ন্যায্যমূল্য বজায় রাখা, ওজন ও পরিমাপের সঠিকতা তদারকি এবং জনশৃঙ্খলা রক্ষা ছিল কোতোয়ালের প্রধান দায়িত্ব। তার অধীনে দারোগা, জমাদার, হাবিলদার, নায়েক ও প্রহরীরা বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতেন।
ব্রিটিশ শাসনামলে কোতোয়াল পদ বিলুপ্ত হলেও ইতিহাসের সেই স্মৃতি মুছে যায়নি। বরং ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ঢাকার সদর থানার নাম রাখা হয় ‘কোতোয়ালি থানা’। সেই নামের উত্তরাধিকার বহন করে থানা ও এলাকাটি আজও ঢাকার ইতিহাস, প্রশাসন ও নগরজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত বুড়িগঙ্গা নদীতীরবর্তী পাটুয়াটুলী এলাকায় কোতোয়ালি থানার অবস্থান। তবে কোতোয়ালি শুধু একটি থানার নাম নয়; এর বিস্তৃত পরিসরজুড়ে ছড়িয়ে আছে পুরান ঢাকার বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, বিচার, নৌযোগাযোগ ও স্থাপত্য-ঐতিহ্যের বহু গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
সকাল হতেই ইসলামপুরের সরু সড়কজুড়ে শুরু হয় ব্যস্ততা। কাপড়বোঝাই ভ্যান ও ট্রাকের আনাগোনা, দোকান খোলা এবং ক্রেতাদের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। দেশের অন্যতম বড় পাইকারি কাপড়ের বাজার ইসলামপুরকে ঘিরে প্রতি দিন বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। কয়েকশ গজ দূরের বাদামতলীতে ফলের আড়তে চলে পণ্য ওঠা-নামানোর ব্যস্ততা। বাবুবাজারে নামে চালের বস্তা। পাটুয়াটুলী দেশের ঘড়ি ও চশমার অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার হিসেবে পরিচিত।
এই বাণিজ্যিক ব্যস্ততার পাশেই রয়েছে পুরান ঢাকার আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও ঐতিহাসিক স্থাপনা। বুড়িগঙ্গার তীরঘেঁষা ইসলামপুরে দাঁড়িয়ে আছে নবাব পরিবারের স্মৃতিবিজড়িত দেড় শতাধিক বছরের পুরোনো আহসান মঞ্জিল। এর পরেই সদরঘাট- দেশের অন্যতম বৃহৎ নৌ-যাত্রী টার্মিনাল এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের রাজধানীতে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌ-দ্বার।
পাটুয়াটুলীর প্রবেশপথের কাছেই রয়েছে দেশের ইতিহাস, শিক্ষা ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। এর পাশেই ঢাকা জজ কোর্ট। জেলা ও দায়রা জজ আদালত, মহানগর দায়রা জজ আদালত, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসহ গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলোও এই বৃহত্তর এলাকার সঙ্গে যুক্ত। ফলে কোতোয়ালি থানা অঞ্চল একই সঙ্গে বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, বিচার ও নৌ-যোগাযোগের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
এই এলাকার আরেকটি ঐতিহাসিক পরিচয় বুড়িগঙ্গাকে ঘিরে। নদীটি একসময় ঢাকার বাণিজ্য ও যোগাযোগব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র ছিল। সদরঘাটকে কেন্দ্র করে নৌ-পথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ গড়ে ওঠে। আজও সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বহন করছে সদরঘাট। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী এই টার্মিনাল ব্যবহার করেন।
ইতিহাসের সঙ্গে বর্তমানের এই সহাবস্থানই কোতোয়ালি থানা এলাকার বিশেষ বৈশিষ্ট্য। একদিকে আহসান মঞ্জিল, পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ও শত বছরের পুরোনো বাজার; অন্যদিকে আধুনিক নগরজীবনের ব্যস্ততা, বিপুল বাণিজ্যিক লেনদেন এবং প্রতি দিনের মানুষের ভিড়Ñ সব মিলিয়ে কোতোয়ালি যেন ঢাকার অতীত ও বর্তমানের একটি সেতু।
তবে এত বিপুল অর্থনৈতিক ও জনজীবনের কর্মকাণ্ডের আড়ালে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। ব্যবসায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, পকেটমার, জাল নোট, আর্থিক প্রতারণা, মাদক ও দালালচক্রের তৎপরতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত কয়েক সপ্তাহে কোতোয়ালি এলাকার ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে।
ইসলামপুর, বাদামতলী ও বাবুবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ীর অভিযোগ, মালামাল ওঠা-নামানো, পরিবহন কিংবা বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। এসব অনানুষ্ঠানিক ব্যয় শেষ পর্যন্ত ব্যবসার খরচ বাড়িয়ে দেয়। কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে এমন কিছু অর্থ ব্যয় করতে হয়, যার কোনো সরকারি রসিদ থাকে না। তবে প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি অধিকাংশ ব্যবসায়ী।
এলাকার পাইকারি কাপড়ের বাজারকে ঘিরে নিম্নমানের বা নকল পণ্য বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ জানান, বিদেশ থেকে আসা পণ্য খালাস ও পরিবহনের সময়ও অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা কর্মসূচির নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।
অভিযোগ রয়েছে, চায়না এবং ইন্ডিয়া থেকে যে কাপড়গুলো আসে সেই গাড়িপ্রতি মাল খালাস করতে ৩ থেকে ৫ হাজার করে টাকার চাঁদা দিতে হয়। গুলশানআরা সিটির সামনে গাড়ি থেকে মাল খালাস করতেও ছোট গাড়ি ১ হাজার আর বড় গাড়ি ৩ হাজার করে টাকা দিতে হয়। জিন্দাবাহার ও নয়াবাজার এলাকায় প্রেসের কাগজ নামাতে গেলেও ১৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা অবশ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মিটফোর্ড হাসপাতালসংলগ্ন ওষুধের বাজার নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। বিভিন্ন সময়ে নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ করার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আশপাশের কিছু ভবনে নকল ও ভেজাল ওষুধ তৈরির কাজ চলে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। শাঁখারীবাজার ও আশপাশের এলাকায় মাদক কারবার নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।
নয়াবাজারের কিছু স্বর্ণের দোকান নিয়েও অবৈধ মজুদের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো কোনো দোকানে অবৈধভাবে ৩০০ থেকে ৫০০ কেজি স্বর্ণ আছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির একটি চিত্র পাওয়া যায় কোতোয়ালি থানার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানেও। থানা সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই মাসে থানায় ৪৮৫টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। অভিযোগ দেওয়া হয়েছে ৫০টি এবং মামলা হয়েছে ১৬টি। মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে ২৪ জন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ২৩ জন এবং ডিএমপির অন্য অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে ১৫৬ জন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করা হয়েছে একজনসহ মোট ২৩১ জনকে।
ওই মাসে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ২০৮টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করে দুটি মাদক মামলা করেছে; এসব মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া ৯৭ পুরিয়া গাঁজা ও আট পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। থানার কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক মামলাতেই গ্রেফতারের সংখ্যা বেশি। বিভিন্ন ছিনতাইয়ের চেষ্টার ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঢাকা জজ কোর্টের ভেতরে আওয়ামী লীগের মিছিলকে কেন্দ্র করে একটি রাজনৈতিক মামলা হয়েছে বলেও জানা গেছে। বিভিন্ন বিষয়ে জুলাই মাসে থানায় ৭৫টি অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে।
তবে থানায় সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। ইসলামপুরের এক ব্যবসায়ী জানান, তার দোকানে চুরির পর জিডি করতে গিয়ে তাকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। তার অভিযোগ, দালালদের সহযোগিতা ছাড়া কাজ এগোচ্ছিল না। আরেক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাধারণ মানুষের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন।
পুলিশ অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, থানায় দালালের কোনো স্থান নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোতোয়ালি এলাকার ব্যস্ততার আরেক কেন্দ্র সদরঘাট। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াতের জন্য এই টার্মিনাল ব্যবহার করেন। কিন্তু যাত্রীদের অভিযোগেরও শেষ নেই। বিশ্রামাগার, পন্টুন ও গ্যাংওয়েতে ভবঘুরেদের অবস্থান, মালামাল বহনে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, অপর্যাপ্ত ও অপরিচ্ছন্ন শৌচাগার এবং ভিড়ের মধ্যে পকেটমার ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি সদরঘাট টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীদের বিশ্রামের নির্দিষ্ট স্থানেও ভবঘুরেদের অবস্থান। আমিনা খাতুন নামে এক যাত্রী চারটি ব্যাগ নিয়ে মেঝেতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। একজন ভবঘুরের মাথার কাছে জায়গা থাকলেও সেখানে বসেননি। তার ভাষায়, আগেও তার ব্যাগ হারিয়েছিল। তাই অপরিচিত মানুষের কাছে বসতে ভয় হয়।
পন্টুনে যাওয়ার গ্যাংওয়েতেও কয়েকজন ভবঘুরেকে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। কয়েকজন যাত্রীর অভিযোগ, ভিড়ের সময় বা সন্ধ্যার পর ব্যাগ ধরে টান দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। টার্মিনালে কাজ করা এক নারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সন্ধ্যার পর মাদকের আড্ডা বেড়ে যায় এবং আশপাশে গাঁজার গন্ধ পাওয়া যায়।
মালামাল পরিবহনের জন্য কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট ফির তালিকা টানিয়ে রাখলেও অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ রয়েছে। এক যাত্রীর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হলে তিনি কুলিদের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ দিয়েই মালামাল ছাড়ান। যাত্রীদের অভিযোগ, কুলিদের সঙ্গে তর্ক করে অনেক সময় কোনো লাভ হয় না; তারা যে অর্থ দাবি করেন, সেটিই দিতে হয়। অতিরিক্ত ভিড়ের সুযোগ নিয়ে পকেটমার ও ছিনতাইকারী চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগও রয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর বাহাদুর শাহ পার্কসংলগ্ন কিছু সড়ক ও গলিতে চলাচলের সময় তারা নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেন। কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম রবিউল ইসলাম বলেন, মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। থানায় সেবা নিতে গিয়ে কেউ হয়রানির শিকার হলে কিংবা কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের মতে, শুধু অভিযান চালিয়ে কোতোয়ালি এলাকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বাজার, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সদরঘাটকেন্দ্রিক এলাকায় স্থায়ী নজরদারি, কার্যকর সিসিটিভি, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং চাঁদাবাজি ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা প্রয়োজন।
সময় বদলেছে, বদলেছে নগরের চেহারা ও প্রশাসনিক কাঠামো। কিন্তু এর চারপাশে টিকে আছে পুরান ঢাকার শত বছরের বাণিজ্য, নদীকেন্দ্রিক যোগাযোগ, ঐতিহাসিক স্থাপনা, শিক্ষা ও বিচারব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।
সেই অর্থে কোতোয়ালি থানা শুধু একটি পুলিশি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি ঢাকার দীর্ঘ নগর-ইতিহাসের একটি জীবন্ত সাক্ষী। আর সেই ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ন রেখে বর্তমানের নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব নগরজীবন নিশ্চিত করাই এখন এই ঐতিহাসিক এলাকার অন্যতম বড় প্রত্যাশা।