হিমালয়ে দুর্যোগ যেন থামছেই না। নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ধাক্কা কাটতে না কাটতেই ভূমিধসে তৈরি হওয়া হ্রদ থেকে পানি উপচে পড়ায় দেখা দিয়েছে নতুন ঝুঁকি। এতে ক্রমেই বাঁচার আশা ফুরিয়ে যাচ্ছে নিখোঁজদের।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হ্রদ থেকে পানি উপচে পড়ায় সাময়িক বন্ধ করা হয় ত্রিশূলী উপত্যকায় উদ্ধার অভিযান। কয়েক ঘণ্টা পর আবারও উদ্ধারকাজ চালু হলেও নতুন বিপদের শঙ্কা এখনো কাটেনি।
স্থানীয় এক তরুণ বলেন, ‘এই বন্যা আমাদের জন্য অনেক বড় সমস্যা তৈরি করেছে। আমরা তরুণ হলেও হাঁটাচলা করা ও নিরাপদ স্থানে সরে যেতে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি। তাহলে ভাবুন, এই পরিস্থিতিতে বয়স্ক মানুষদের জন্য কতটা কঠিন হয়ে পড়েছে!’
স্থানীয় আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি শুধু আমার কর্মীদের খোঁজ করছি। তারা বেঁচে আছে কি না, তাদের কী হয়েছে, সেটা জানতে চাই। তাদের পরিবারের কথাও ভাবতে হচ্ছে। কারণ, তারাই পরিবারের মূল ভরসা। তাই তাদের জন্যও আমাকে খোঁজ নিতে হচ্ছে।’
এই আকস্মিক বন্যায় দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২৬ জন। এখনো নিখোঁজ প্রায় ২ হাজার মানুষ। নেপালের নুয়াকোট জেলায় স্বজনের অপেক্ষা রয়েছেন নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা। উদ্ধারকারীদের তালিকায় নাম খুঁজছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপর্যয় হিমালয়ের বাড়তে থাকা ঝুঁকির আরেকটি সতর্কবার্তা। জলবায়ু পরিবর্তন ও পাহাড়ি পরিবেশের অস্থিতিশীলতা ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট তৈরি করতে পারে।
সময়ের আলো/মহু