নেপালে লাশের স্তূপ, সংরক্ষণ সংকটে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত শত শত মানুষের মরদেহ উদ্ধারের পর নতুন সংকটে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন। মরদেহ সংরক্ষণ, শনাক্ত ও স্বজনদের

2026-08-29T14:35:38+00:00
2026-08-29T14:36:34+00:00
 
  শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬,
১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
নেপালে লাশের স্তূপ, সংরক্ষণ সংকটে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩৫ পিএম  আপডেট: ২৯.০৮.২০২৬ ২:৩৬ পিএম
বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের জনপদ। ছবি : সংগৃহীত
নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত শত শত মানুষের মরদেহ উদ্ধারের পর নতুন সংকটে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন। মরদেহ সংরক্ষণ, শনাক্ত ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তরে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। হাসপাতালের মর্গ ধারণক্ষমতার বেশি পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় কমিউনিটি সেন্টার ও পুলিশ কম্পাউন্ডকে অস্থায়ী মর্গ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা।

হিমায়িত সংরক্ষণব্যবস্থার সংকটে অনেক মরদেহে পচন ধরেছে। সেখান থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ত্রাণকর্মীরা।

জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত শুধু চিতওয়ান জেলাতেই ২৩৩টি এবং পূর্ব নওয়ালপরাসীতে ১৫৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া গোর্খা, ধাদিং, নুওয়াকোট, তানাহুন, পশ্চিম নওয়ালপরাসী ও রাসুয়াসহ বিভিন্ন জেলায় আরও বহু মরদেহ ছড়িয়ে রয়েছে।

চিতওয়ানের ভরতপুরে বিদ্যুৎ অফিস রোডের একটি অস্থায়ী লাশকেন্দ্রের সামনে নিখোঁজ স্বজনদের ছবি ও মোবাইল ফোন হাতে ভিড় করছেন শতাধিক মানুষ। বন্যার পানির স্রোতে অনেক মরদেহ কয়েক কিলোমিটার দূরে ভেসে গেছে। কাদা ও পাথরের আঘাতে বহু মরদেহ এতটাই ক্ষতবিক্ষত হয়েছে যে মুখ দেখে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।


এ কারণে মরদেহ শনাক্তে ট্যাটু, গয়না, পোশাক, আঙুলের ছাপ ও ডিএনএ পরীক্ষার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

পূর্ব নওয়ালপরাসীর মধ্যবিন্দু পৌর হাসপাতালে সুমন গোলার মরদেহ বুকের ট্যাটু দেখে শনাক্ত করেন স্বজনেরা। তার মামা উমেশ স্যাংবো বলেন, ‘পানি ও পাথরের আঘাতে সুমনকে চেনার উপায় ছিল না। বুকে স্ত্রীর নাম লেখা ট্যাটু দেখেই তাকে শনাক্ত করা হয়েছে।’

ভরতপুরের অস্থায়ী লাশকেন্দ্রের স্বেচ্ছাসেবী সুবাস সুনার বলেন, ‘লাশঘরের বাইরের দুর্গন্ধ অসহনীয় হয়ে উঠেছে। পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীদের সেখানে অবস্থান করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চরম জনস্বাস্থ্য সংকট দেখা দিতে পারে।’

নওয়ালপরাসীতেও একই ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। সেখানে নির্দিষ্ট ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ না থাকায় সাধারণ চিকিৎসকদের দিয়ে প্রাথমিক ময়নাতদন্ত করানো হচ্ছে। জরুরি সহায়তার জন্য কাঠমান্ডুর কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

পোখরা একাডেমি অব হেলথ সায়েন্সেসের মর্গে ৭২টি মরদেহ রাখার সক্ষমতা থাকলেও সেখানে ইতোমধ্যে ১০২টি মরদেহ রাখা হয়েছে। কাস্কি জেলার প্রধান জেলা কর্মকর্তা কুমান সিং গুরুং বলেন, পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে আরও মরদেহ পোখরায় পাঠানোর অনুরোধ করা হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে থাকা মরদেহ হস্তান্তর বা দাফন না হওয়া পর্যন্ত নতুন মরদেহ গ্রহণের মতো সক্ষমতা নেই।

জায়গার সংকটে একটি ফ্রিজার চেম্বারে ২টি করে শিশুর মরদেহ কিংবা খণ্ডবিখণ্ড দেহাংশ একসঙ্গে রাখতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কাস্কি জেলা পুলিশ প্রধান সুপারিনটেনডেন্ট নবীন কার্কি।

ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পোখরার হিমাগারগুলোতে ২ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বজায় রাখা যায়। এতে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৪ দিন মরদেহ সংরক্ষণ করা সম্ভব। এর বেশি সময়ের জন্য প্রয়োজন সাব-জিরো ফ্রিজিং ব্যবস্থা, যা গণ্ডকী প্রদেশে নেই।

আদালত ও পুলিশি কাগজপত্রের জটিলতায় ময়নাতদন্তে বিলম্ব হলেও এখন তা দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। তবে মর্গের ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে গেলে নেপালের ২০২১ সালের ‘অশনাক্ত ও বেওয়ারিশ মরদেহ ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা’ অনুযায়ী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে মরদেহ দাফন করা হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, গণসমাধির আগে প্রতিটি মরদেহের ছবি, আঙুলের ছাপ ও ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতিটি মরদেহে স্থায়ী শনাক্তকরণ নম্বরও দেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পরিবার মরদেহ দাবি করলে সমাধিটি শনাক্ত করা যায়।

সংগৃহীত ডিএনএ নমুনা কাঠমান্ডুর গবেষণাগারে পাঠানো হচ্ছে। তবে শত শত মরদেহের ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি ও চূড়ান্ত মিল খুঁজে পেতে ৫ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। ফলে প্রিয়জনের সন্ধানে থাকা বহু পরিবারের অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা কবে শেষ হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সময়ের আলো/মহু


  বিষয়:   নেপাল  স্বাস্থ্যঝুঁকি  বন্যা  লাশ  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: