ভারতের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টস (ডিআইএস) অ্যাওয়ার্ডে সেরা তিনজনের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে প্রথম
পুরষ্কার হাতে নাঈম রাজ ও কপোতাক্ষী নূপুরমা সিঞ্চি। ছবি : সংগৃহীত
ভারতের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টস (ডিআইএস) অ্যাওয়ার্ডে সেরা তিনজনের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী নাঈম রাজ। তৃতীয় হয়েছেন একই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী কপোতাক্ষী নূপুরমা সিঞ্চি।
সম্প্রতি পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ডিআইএস অ্যাওয়ার্ড অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট মিট অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মিয়ানমার, মিশর, থাইল্যান্ডসহ ২৫টি দেশের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
নাঈম ও সিঞ্চি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য ভারত সরকারের ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (আইসিসিআর) স্কলারশিপ পান তারা। এই বৃত্তির মাধ্যমে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ইন্ডিয়ান থিয়েটারে মাস্টার্স ইন ইন্ডিয়ান থিয়েটার প্রোগ্রামে ভর্তি হন।
কপোতাক্ষী নূপুরমা সিঞ্চি। ছবি : সংগৃহীত
সর্বোচ্চ ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ নাঈম রাজকে ডিন ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টস অ্যাওয়ার্ডে প্রথম স্থান ও সিঞ্চিকে তৃতীয় স্থান দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে তাদের হাতে সনদপত্র, ক্রেস্ট ও চেক তুলে দেওয়া হয়।
ডিন স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ারের পরিচালক অধ্যাপক নমিতা গুপ্তা বলেন, ‘নাঈম রাজ শুধু বাংলাদেশের নন, আমাদেরও সম্পদ। তার এই অর্জনের মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উজ্জ্বল হয়েছে।’
অন্যদিকে, একই বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী কপোতাক্ষী নূপুরমা সিঞ্চি।
পুরস্কার পাওয়ার পর সিঞ্চি বলেন, ‘এই স্বীকৃতি শুধুমাত্র একটি গর্বিত মুহূর্ত নয়, বরং আমার একাডেমিক যাত্রায় অর্থপূর্ণ একটি মাইলফলকও।’
নিজের এই অর্জনের পেছনে যারা তাকে সহযোগিতা, অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সিঞ্চি।
তিনি বলেন, ইন্ডিয়ান থিয়েটার, পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় তার কাছে মূল ঠিকানার মতো। নিজের বিভাগের কাছ থেকে পাওয়া এই সম্মাননা স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
একাডেমিক কাজের পাশাপাশি সিঞ্চি ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহায়তায় পরিচালিত ডিজঅ্যাবিলিটি আর্টস রিডিফাইনিং এমপাওয়ারমেন্টের উদ্যোগে ৪ বছর কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করেছেন। এ সময়ে তিনি ঢাকা থিয়েটারসহ বিভিন্ন শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। ডেয়ার-এ তার কাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল অন্তর্ভুক্তিমূলক শিল্পচর্চা এবং বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে শিল্প কীভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়ে কাজ করা।
থিয়েটারের পাশাপাশি সিঞ্চি লেখালেখি ও স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত। তার লেখায় উঠে আসে সাংস্কৃতিক পর্যবেক্ষণ, ব্যক্তিগত অনুভব ও সামাজিক সচেতনতার নানা দিক। চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে তিনি ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংকে সমকালীন বাস্তবতাকে প্রশ্ন, নথিবদ্ধ ও নতুনভাবে ব্যাখ্যা করার একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন।
সিঞ্চি বিশ্বাস করেন, শিল্প মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা ও সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতে পারে। থিয়েটার, সাহিত্য ও চলচ্চিত্র—এই ৩ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে অর্থবহ শিল্প-সংলাপ তৈরির লক্ষ্যে তিনি তার সৃজনশীল যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন।
পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মীনাক্ষী গোয়াল বলেন, ‘ডিপার্টমেন্ট অব ইন্ডিয়ান থিয়েটারের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর এ অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।’
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ইন্ডিয়ান থিয়েটারের মাস্টার্স ইন ইন্ডিয়ান থিয়েটার কোর্সের সেরা শিক্ষার্থীদের এই সম্মাননা দেওয়া হয়।