পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা আপসের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে স্থানীয় জনতা। অভিযুক্ত বৃদ্ধ ও কথিত ‘আপস’ মীমাংসার নেপথ্যে থাকা সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেত্রী সুলতানা রাজিয়ার বিচারের দাবিতে ঝাড়ু ও জুতা হাতে নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন কয়েকশ মানুষ। এসময় তারা প্রায় দুই ঘণ্টা তেঁতুলিয়া-পঞ্চগড় জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের রবীন্দ্র সরণি বাইপাস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গত কয়েকদিন আগে উপজেলার টাইয়াগছ এলাকায় এক প্রতিবেশী বৃদ্ধ সানোয়ার হোসেন ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করেন। মুমূর্ষু অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও একটি প্রভাবশালী মহল আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধা দেয়। তাদের দাবি, সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেত্রী সুলতানা রাজিয়া অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা না করার জন্য চাপ দেন এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
বিক্ষোভকারীরা আরও অভিযোগ করেন, সুলতানা রাজিয়া ভুক্তভোগী শিশুর বাবাকে মিডিয়া ও পুলিশের কাছে মুখ না খুলতে নিষেধ করেছেন। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অসামাজিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবাদ সভায় স্থানীয়রা তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ভুক্তভোগী শিশুর দাদা জানান, সুলতানা রাজিয়া দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি আমাদের বলেছেন— আমি দূরে আছি, বাসায় এসে দেখব মামলা হবে নাকি আপস হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা মানিক তালুকদার বলেন, এত বড় একটি জঘন্য ঘটনা গোপনে আপস করার চেষ্টা করা হয়েছে, যেখানে সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সরাসরি জড়িত।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সুলতানা রাজিয়া মুঠোফোনে জানান, তিনি গত কয়েকদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং এই আপসের ঘটনার সাথে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এদিকে, মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসাইন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আকাশ এবং তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেওয়া হলে দুই ঘণ্টা পর স্থানীয়রা অবরোধ তুলে নেন।
ইউএনও আনোয়ার হোসাইন বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবার যাতে শতভাগ ন্যায়বিচার পায়, সে বিষয়ে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি লাইছুর রহমান জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
সময়ের আলো/আতা