আক্কেলপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের খাবারে অনিয়ম, ১ কেজির মাছ মিলছে ৫০০ গ্রাম

​ জয়পুরহাট প্রতিনিধি

সারাদেশ

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকা রোগীদের খাবার সরবরাহে মারাত্মক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রোগীদের মেনু অনুযায়ী নাড়িভুঁড়ি

2026-08-30T08:24:11+00:00
2026-08-30T08:24:11+00:00
 
  রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬,
১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
আক্কেলপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের খাবারে অনিয়ম, ১ কেজির মাছ মিলছে ৫০০ গ্রাম
​ জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২৪ এএম 
আক্কেলপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকা রোগীদের জন্য মাছ। ছবি : সময়ের আলো
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকা রোগীদের খাবার সরবরাহে মারাত্মক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রোগীদের মেনু অনুযায়ী নাড়িভুঁড়ি বাদে প্রতিটি মাছের ওজন সর্বনিম্ন ১ কেজি হওয়ার কথা থাকলেও সরবরাহ করা হচ্ছে আস্ত (মাথা, লেজ ও নাড়িভুঁড়িসহ) ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ছোট মাছ। এ নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​সরজমিনে হাসপাতালের রান্নাঘরে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের দুপুরের ও রাতের খাবারের জন্য বেশ কিছু ছোট আকারের মাছ রাখা আছে। ডিজিটাল ওজন পরিমাপক যন্ত্রে মেপে দেখা যায়, নাড়িভুঁড়ি ও আঁশ ছাড়ানোর আগেই একেকটি মাছের ওজন মাত্র ৪৯৫ গ্রাম থেকে ৫০০-৬০০ গ্রামের মধ্যে। রান্নাঘরের বালতিতে এভাবে রাখা ছিল প্রায় ১২ থেকে ১৪ কেজি নিম্নমানের মাছ।

​সরকারি নিয়ম ও হাসপাতালের নির্ধারিত মেনু অনুযায়ী, প্রতিটি মাছের সাইজ এমন হতে হবে যেন নাড়িভুঁড়ি ফেলার পর ড্রেসড অবস্থায় তার ওজন কমপক্ষে ১ কেজি থাকে। ফলে ঠিকাদারের সরবরাহ করা মাছের ওজন নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে প্রায় অর্ধেক কম।

​এ বিষয়ে খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলব না। আপনারা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন।

সরকারি বিধি অনুযায়ী, বাজারে নির্দিষ্ট ওজনের মাছ না পাওয়া গেলে মনগড়া বা কম ওজনের মাছ সরবরাহের কোনো সুযোগ নেই। এমন ক্ষেত্রে মেনু পরিবর্তন করে বিকল্প সমমানের খাবার দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।


​অনিয়মের বিষয়টি জানতে পেরে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. ফজলে রাব্বি রাকিব দ্রুত রান্নাঘরে উপস্থিত হন। তিনি নিজ উপস্থিতিতে মাছগুলো মেপে প্রদেয় ওজনের ব্যাপক তফাত দেখতে পান। 

তাৎক্ষণিকভাবে তিনি সরবরাহকৃত সব মাছ বাতিল ঘোষণা করেন এবং মেনু পরিবর্তন করে রোগীদের জন্য মুরগির মাংস দেওয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশনার পর ঠিকাদারকে বাতিলকৃত মাছগুলো প্যাকেট করে ফেরত নিয়ে যেতে দেখা যায়।

​হাসপাতালে ভর্তি থাকা এক রোগীর স্বজন সজল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার চাচা বেশ কয়েকদিন ধরে এই হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এখানে রোগীদের যে খাবার দেওয়া হয় তার মান অত্যন্ত নিম্নমানের। মাছের দিনে যে মাছ দেয় তা সাইজে খুব ছোট। মাথা ও লেজ বাদ দিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হয় না। রোগীদের খাবারে এই হরিলুট বন্ধে সরকারের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. ফজলে রাব্বি রাকিব বলেন, মেনু ও ওজন অনুযায়ী মাছ না থাকায় সরবরাহকৃত মাছগুলো ফেরত পাঠানো হয়েছে। রোগীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মেনু পরিবর্তন করে মুরগির মাংস দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদ মোবাইলফোনে জানান, আমি বর্তমানে ছুটিতে আছি, তবে বিষয়টি জেনেছি। খবর পাওয়ার পরপরই ঠিকাদার ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের ফোন দিয়ে মেনু পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছি। হাসপাতালের খাবারে অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না, এ বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   আক্কেলপুর  স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স  রোগী  খাবার  মাছ  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: