নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে (১৭) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় প্রভাবশালী মাতব্বররা সালিশ-বিচারের চেষ্টা চালালেও পুলিশের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে তা ব্যর্থ হয়েছে।
পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসার পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) ভুক্তভোগী কিশোরীর ভাবি বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত তফাজ্জল হোসেন (১৯) নামের এক যুবক পলাতক রয়েছে। তফাজ্জল ওই এলাকারই বাসিন্দা।
শনিবার সকালে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে ভুক্তভোগী বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী নিজ বাড়ির গোসলখানায় গোসল করছিল। এ সময় পরিবারের সদস্যদের অগোচরে তফাজ্জল গোসলখানায় ঢুকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। কিশোরীর গোঙানি ও আর্তচিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন এবং প্রতিবেশীরা ছুটে এলে অভিযুক্ত তফাজ্জল ঘটনাস্থল থেকে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী মাতব্বর ও আত্মীয়স্বজন থানা-পুলিশ কিংবা আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংসা ও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালান। খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানা-পুলিশ দ্রুত ওই গ্রামে অভিযান চালায় এবং ভুক্তভোগী কিশোরীকে উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে পুলিশের সহায়তায় ভুক্তভোগীর পরিবার আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ তৎপর হয়ে ভুক্তভোগীকে থানায় নিয়ে আসে এবং মামলা রুজু করা হয়। প্রতিবন্ধী কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত যুবক পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।
সময়ের আলো/জোই