জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলার ১০৯ দিন পেরিয়ে গেলেও এর অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত নন বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রক্টর অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন। দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় এক মাস পার হলেও মামলাটির তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা সংশ্লিষ্ট কারও সঙ্গে তার কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
মামলাটির বর্তমান অবস্থা এবং এ ঘটনায় আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত ছয় দফা দাবির অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রক্টর অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন না। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কেও তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
তিনি বলেন, আমি আসার পর এই ঘটনার কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে আমি জড়িত ছিলাম না। মামলাটির কোনো অগ্রগতি বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কারও সঙ্গে আমার আলোচনা হয়নি। আমি আসার পর এই ঘটনার কোনো অগ্রগতি নিয়ে আমার সঙ্গে আলোচনা হয়নি।
তবে আন্দোলনকারীদের ছয় দফা দাবির মধ্যে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতাররের দাবি ছাড়াও নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ এবং জরুরি সহায়তা নম্বর চালুর ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রক্টর।
নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন জানান, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সময়সীমা এক দফা বাড়ানো হয়েছিল। বর্ধিত সময়সীমাও ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে।
এখন রেজিস্ট্রার যেকোনো সময় নিয়োগের তারিখ ঘোষণা করতে পারেন বলে জানান তিনি। কাছাকাছি সময়ের মধ্যেই নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রক্টর।
জরুরি সহায়তা নম্বর চালুর দাবির বিষয়ে প্রক্টর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্রুত প্রতিক্রিয়া দলের একটি নম্বর ইতোমধ্যে চালু রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের কাছে নম্বরটি কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে প্রচার-প্রচারণা প্রয়োজন। তিনি বলেন, নম্বরটিকে জরুরি সহায়তা নম্বর হিসেবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে, যাতে প্রয়োজনের সময় তারা দ্রুত সহায়তা নিতে পারেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগের পর শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন। ঘটনার ১১০ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রক্টরের কোনো তথ্য না থাকা প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত প্রক্টর কার্যালয়ের সঙ্গে মামলার তদন্তকারী সংস্থা কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে কি না— এ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
অন্যদিকে, নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ ও জরুরি সহায়তা নম্বরের মতো দাবিগুলোতে কিছু অগ্রগতির কথা জানালেও মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রক্টরের অজ্ঞতা আন্দোলনকারীদের দাবিগুলোর বাস্তবায়ন ও প্রশাসনের কার্যকর সমন্বয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
সময়ের আলো/জোই