সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ বণ্টন নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বিতর্ক হলেও কোনো সমঝোতা বা সমাধান হয়নি। বিরোধী দলের দাবি, সংসদে প্রাপ্ত আসনের সংখ্যানুপাতে একাধিক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি পদ তাদের প্রাপ্য। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংশোধনের পরেই কেবল সনদ অনুযায়ী পদ বণ্টন করা সম্ভব। রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে সংসদে এই নিয়ে অনির্ধারিত আলোচনা হলেও কোনো সুরাহা মেলেনি।
জাতীয় সংসদে ১১টি বিষয়ভিত্তিক এবং ৩৯টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি রয়েছে, যার মধ্যে ত্রয়োদশ সংসদে এ পর্যন্ত গঠিত ১৫টি কমিটির কেবল সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি পদ বিরোধী দলকে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক সমঝোতার ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ সরকারি হিসাব, বিশেষ অধিকার, অনুমিত হিসাব ও সরকারি প্রতিষ্ঠান— এই ৪টি গুরুত্বপূর্ণ কমিটিসহ মোট ১৪টি স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ বিরোধী দলকে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত কার্যসূচি সত্ত্বেও কোনো নতুন কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি, কেবল চারটি কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।
কার্যসূচিতে যাওয়ার আগে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দল অংশ নেবে বলে তিনি বিরোধীদলীয় উপনেতার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে জানতে পেরেছেন। এ কারণে বিশেষ কমিটি পুনর্গঠন ও নতুন স্থায়ী কমিটি গঠনের প্রস্তাব তখন না আনার কথা বলেছেন তিনি।
তবে তাহের বলেছেন, বিশেষ কমিটিতে নাম দেওয়ার কোনো কথা তিনি বলেননি। সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ বণ্টনের সঙ্গে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশগ্রহণের বিষয়টি যুক্ত করা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জবাবে চিফ হুইপ বলেছেন, সরকারি হিসাব কমিটির বাইরে অন্য কমিটির সভাপতি পদ বিরোধী দলকে দেওয়ার রেওয়াজ নেই। তবে বিরোধী দল সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অংশ নিলে তাদের দাবি অনুযায়ী কমিটির সভাপতি পদ দিতে সরকার রাজি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংশোধনের পরই সনদ অনুযায়ী পদ বণ্টন করা হবে। বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বললেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে দাবি জানালে সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায়ও সহযোগিতা করতে হবে।
সরকারের বক্তব্য ও বিরোধী দলের আপত্তির মুখে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল দেশের স্বার্থে উভয় পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজন হলে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে সমাধান খোঁজার পরামর্শ দেন।
সময়ের আলো/জেডি